অরিজিৎ সিং

অরিজিৎ সিং

গায়কদের জন্য

আশিকুজ্জামান টুলু

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭

খেয়াল করে দেখেছেন কি, আরজিত সিং যখন গান গায়, কোন জিনিসটা বেশি টানে? অবশ্যই ওর স্কিল। এই স্কিল অনেকেরই আছে, কিন্তু ওর একটা কেয়ারলেস, বেখেয়ালিপনা, একটু অসাবধানতা, একটু গলা ফেটে যাওয়া, একটু ঘুম ঘুম, একটু ঠাণ্ডা লাগা, একটু অলসতা গায়কিতে। ওর হাসি হাসি মুখ, ক্যাজুয়াল ড্রেসাপ– সবকিছু যেন কীরকম একটা আবহ সৃষ্টি করে। মনটা কেমন যেন হয়, কেমন যেন একটা ভালোলাগার সূক্ষ্ম আবেশ সৃষ্টি হয়, মনটা কোথায় যেন হারায়– তাই না?
এই পুরো জিনিসটা কিন্তু একটা বিরাট সাধনার ফল। ধীরে ধীরে বিষয়টা নিয়ে ও অনেক অনেক সাধনা করে এই প্যাকেজটাকে তৈরি করেছে। ও অনেক প্রফেশনাল, অনেক স্মার্ট, অনেক সিরিয়াস। যার জন্য ওর প্রত্যেকটা নিঃশ্বাস ফেলা (গাওয়ার সময়), প্রত্যেকটা ওয়ার্ড কিভাবে উচ্চারণ করা, কতটুকু কাজ কোন জায়গায় করা, কতটুকু করলে সহনীয় এবং এনজয়েবল হবে, কতটুকু মেজাজ গানের মধ্যে বা প্রতিটা লাইনের মধ্যে দিতে হবে, কোন শব্দটা কতটুকু প্রকট অথবা কতটুকু কেয়ারলেসলি উচ্চারণ করলে আবেশ সৃষ্টি করবে, সব নিয়ে ও অসম্ভব ভাবে চর্চা করে এবং পরবর্তীতে অ্যাপ্লাই করে। ইভেন কিভাবে হাসবে, কিভাবে বসবে, কিভাবে তাকাবে, কি ড্রেস পরবে, নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানের দর্শকদের সাইকোলজি, ক্লাস, ইনকাম লেভেল প্রতিটা জিনিসকেই বিবেচনা করে এবং সেই অনুযায়ী লিস্ট করে গানের। আমরা দেখি, ওর একটা টোটাল প্যাকেজ কিন্তু এর পিছনে যে কী পরিমান এফোরট, যা এখানে লিখে বোঝানো সম্ভব নয়।
নতুন গায়ক ভাইরা আমার, আমার কথা বিশ্বাস করেন, এর সব কিছুই সম্ভব এবং আরেকটা আরজিত সিং হওয়াও সম্ভব, শুধু দরকার কঠিন সাধনা। চলে যান দরকার হলে যেখানে যেতে হয় শেখার জন্য। এইসব ভিউজ এর পিছনে না ছুটে সত্যিকারের গাওয়াটা শিখে আসেন। সারা পৃথিবী আপনাকে নিয়ে পাগল হয়ে যাবে, আপনার গায়ক জীবনের সফলতা আসবে। কী আছে জীবনে, বিয়ে না হয় দেরিতেই করলেন, ৪৫ বছর বয়সে। আমি খেয়াল করে দেখেছি যে, আমাদের সময়ের গায়কদের চাইতে এখনকার কিছু কিছু গায়ক এক্সট্রিমলি ভালো ক্লাসিকাল গায়কিতে এবং সেটাই আমাকে অসম্ভব আশাবাদী করে ফেলেছে যে, আমাদের পক্ষেও সম্ভব ওরকম গায়ক তৈরি করা। শুধু একটু সাধনা আর প্যাশন দরকার। ফেলে রাখেন অন্য সবকিছু, আসল শিল্পী হইতে চেষ্টা করেন। আপনি যদি সত্যি চেষ্টা করেন তাহলে আপনিও পারবেন, শুধু দরকার সাধনা।
মনে রাইখেন, যদি আপনে ভালো গান তাইলে আপনি কি বম্বে থেইকা আইসেন না ফকিরাপুল থাকেন, সেইটা কোনো হালায় জিগাইবো না। শুধু কইবো, আমাগো ফকিরাপুলের বাবুইল্লা এখন ওয়ার্ল্ডক্লাস সিঙ্গার। আমার পাড়ার পোলা, আগে আমার কাছে কত সিগারেট চায়া খাইছে, এহন কই গেছে দেখসোস?

লেখক: সঙ্গীত শিল্পী

জাতীয় জাদুঘরে চলছে চলচ্চিত্রের মহাযজ্ঞ!

জাতীয় জাদুঘরে চলছে চলচ্চিত্রের মহাযজ্ঞ!

জানুয়ারি ১৮, ২০১৮

বাংলাদেশে তিনটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব হয়। এর একটি দ্বিবার্ষিক এবং দুইটি প্রতিবছর হয়। তিনটি উৎসবই হয় স্বেচ্চাসেবীদের আয়োজনে। এর মাঝে দুইটি উৎসবের আয়োজক দুইটি ফিল্ম সোসাইটি বা চলচ্চিত্র সংসদ। এই উৎসবগুলো আয়োজনের পেছনে অনেক কষ্টের গল্প থাকে।

মূর্তিকারিগরে প্রতিমূর্ত এক শহর

মূর্তিকারিগরে প্রতিমূর্ত এক শহর

ডিসেম্বর ১১, ২০১৭

প্রতিটা ইটই প্রাণ পেতে চায়। কিছু একটা হতে চায়। প্রতিটি ভবনের আত্মা আছে, আছে মন। যে ভবনের আত্মা নেই সেটির প্রেতাত্মাও আছে হয়তো। ওই রকম ভবনে থাকলে গা ছমছম করতেই পারে।