অলঙ্করণ: পাপিয়া জেরিন

অলঙ্করণ: পাপিয়া জেরিন

দ্বিতয়

পাপিয়া জেরিন

প্রকাশিত : জানুয়ারি ১০, ২০১৮

রাত সাড়ে এগারোটা, ঝুম বৃষ্টি। মওলানা বাতেন দেড়মাইল হাইটা রুস্তমদের বাড়িতে উপস্থিত। তার পাঞ্জাবির কোণ চুইয়া পানি পড়তেছে। রুস্তমের ভাইবউ হাঁ কইরা মওলানার কাজকাম দেখতেছে। বাড়ির একটা কাকপক্ষীও জানে না রুস্তমের শরীর এতখানি খারাপ। এমনকি রুস্তমের মা রহিমাও শরমিন্দা। সারাটা দিন নাকি পোলাটা না খাইয়া জ্বর নিয়া শুইয়া আছে। পরের পোলা আইসা কী সুন্দর জলপট্টি দিতেছে। রহিমা দুইবার ডাকে, বাবা রুস্তম... দ্যাখো বাবা... চোখ মেইলা চাও।
রুস্তম চোখ টাইনা মেলার চেষ্টা করে। একবার তাকায়া দেখে উঠানে, কি আবোলতাবোল দেখে কিছুই বুঝে না। মনে হয় বৃষ্টি থামছে। জ্বরের ঘোরে কিনা কে জানে, সে পারুলরে দেখতে পায়। হাতে একটা বটি নিয়া কলাগাছের ডাউগ্যায় কোপ দেয়। জইমা থাকা বৃষ্টির পানি গিয়া পড়ে তার দুধের ওপর। হালকা হলুদ ব্লাউজে কালা বোটা ভাইসা উঠতে থাকে। এমন জায়গায় গিয়া কেমনে পানি পড়ে!
রুস্তম আর চাইয়া থাকতে পারে না। এইসব কী দেখতেছে রুস্তম! পারুল এত রাইতে তার উঠানে কেমনে আসবো? অবশ্য দুয়েক মাস আগে বাতেন গেছিলো চর মুশুইরা। তখন পারুলরে রাইখা গেছিলো এই বাড়িতে। এমনিতে পারুল হাতমুজা-পাওমুজা পইরা ঘরে ঢুকছিল, পরে বাতেন চইলা যাওনের পর সে উঠানে নামে। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে সে রুস্তমের ভাই-বৌ চায়নারে টাইনা নেয়। তারপর শুরু হয় প্যাঁক মাখামাখি। রুস্তম ডরে আর বাইর হয় নাই সেই দুপুরে। জানলার চিপায় দাঁড়ায়ে সব দেখছে। রুস্তম জানে, পারুলের চোখ সেইদিন কারে খুঁজতেছিল। সব বুঝে রুস্তম, এও বুঝেকক, তার বেশি বুইঝা কাম নাই।
রুস্তম জানে, পারুল যা চায় তা সম্ভব না। কিন্তু পারুলরে এড়াইয়া যাওয়া কঠিন। এই মাইয়া সেয়ান পাগল, তক্কে তক্কে থাকে। প্রথম থিকা যদি রুস্তম বুঝতে পারতো তাইলে এমন দিন দেখতে হইতো না। বাতেনের বিয়ার পরপর ওর বাড়িতে দাওয়াত আছিলো একবার। সেইদিনই আবার সকাল সকাল অচিনা নম্বর থিকা কল...
এই যে শুনেন। বেগুন বেশি মোটা আইনেন না। দাওয়াত যারে করছেন হ্যার সাইজ মতো আইনেন।
কেডা গো আপনে? আল্লাগো! আপনে কেডা? মওলানায় না?
জ্বীনা, আমি আপনার মওলানার দোস্ত। আপনে আমার নম্বর পাইলেন কই?
রুস্তম ভাই? ভাই মনে কিছু নিয়েন না। শরম! আমি ভুলে উনারে কল দিতে গিয়া...
রুস্তম ভালো কইরাই জানে, ওইদিন পারুল ইচ্ছা কইরাই কল দিয়া ফাইজলামি করছিল। এরপরেও সে বহুদিন কল দিয়া উল্টাপাল্টা বলছে। প্রথম প্রথম মজাই লাগতো রুস্তমের। বউ-জামাই খেলার মতো। পারুল বলতো, পিঁয়াইজ বাইছা আনবা, জিরা ফাকি ছাড়া রান্তে পারি না, এইটা আনবা, সেইটা আনবা...।  পরে শুরু করলো ভয়াবহ খেইল।

রুস্তমের জ্বর কমতেছে না অর ঠোঁট সমানে কাঁপতেছে। কলেজ হোস্টেলে একবার রুস্তমের এমনই জ্বর আসছিলল, ওষুধ-পানিতে কমে না। শেষরাইতে বাতেন দেখে, রুস্তমের শরীর আগুন! কী করবে কিছু বুঝতে না পাইরা বাতেন ওরে জড়ায়া ধরে। রুস্তম সেইদিন জ্বরের ঘোরে বাতেনের ঠোঁটে কামড় দিয়া বসে। এরপর কাঁপতে কাঁপতে জ্ঞানহারা।
বাতেনের মন চাইতেছে আজকেও রুস্তমরে জড়ায় ধরতে, সেইদিনের মতো যদি আজকেও....। ধুর! এইসব কী ভাবতেছে বাতেন। রুস্তম আর বাতেন লেংটাকালের দোস্ত, স্কুল-কলেজে সহপাঠী। বন্ধুবান্ধবেরা তাগো মইধ্যে মিল দেইখা কত অন্দমন্দ বলছে। সবথেকা ঝামেলা হইছে তখন, যখন রুস্তমের ছোট ভাই বিয়া কইরা ফেলে। এরপর দুইদোস্তের বাড়িতেই শুরু হয় ক্যাচাল। বাতেনের বাপ ফকরুল ব্যাপারী হজ্ব কইরা ফিরনের পর একমাত্র পোলার বিয়ার লিগা ব্যস্ত হইয়া পড়ে। শুরু হইয়া যায় জুলুম, বাড়ির সবাইরে নাকি পর্দা করতে হইবো। তখন থেকা বাতেনের এই হুজুরালি পোশাক। ধর্মকর্ম ঠিকঠাক না করলেও তার নাম হয়া গেল মৌলানা বাতেন। সবের কাছে মৌলানা বাতেন একখান তামশা।
আজকে গেটের চাবি দেওনের সময় রুস্তমের ভাইয়ের বউ চায়না ইচ্ছা কইরা বাতেনের হাতে আঙুল ছোঁয়াইয়া কয়, আহ্! মৌলানা সাবের ওযু ছুইটা গেল।
ছোট ভাইয়ের বউরাও মশকরা করতে ছাড়তাছে না, নিজের বউয়ের কথা তো বাদই।
ভোর হয়া আসতেছে। বৃষ্টিও একটু কম। রুস্তম জ্বরের ঘোরে হাসতেছে। বাতেনের খুব মায়া লাগতেছে, সে আস্তে কইরা রুস্তমের কাছে গিয়া শোয়। রুস্তমের নিশ্বাসে তখন আগুন।

আজকা দশদিন হয় পারুল আবদুল্লাহপুর, তার বাপের বাড়িতে। বাতেন সকাল বিকাল মোবাইল কইরাই যাইতেছে। পারুল ঠিক করছে ফোন ধরবে না। তার বড়বইন সুলতানা আসছে বুঝাইতে, কিন্তু বড় বইনরে তো আর সব কওন যায়না। বইন খালি কয়, কত বড় ঘরে বিয়া, আরামে পাও তুইলা বইসা থাকন যায়, দাসিবান্দি, নূরানি সুরতের জামাই। কিন্তু পারুল তো এইসব চায় নাই জীবনে। পারুল চাইছিল মাটির ভিটা, গোয়ালঘর ভরা গরু, খোঁয়াড়ে রাজহাঁস। চাইছিল উঠানে বইসা হাতে ছাই মাখায়া লাল কই মাছ কাটতে, মণকে মণ ধান সিদ্ধ বসাইতে।
সে কল্পনা করে, গরুরে বিচালি দেওনের সময় একটা কালা মতো মানুষ তারে পিছন থিকা জাইত্যা ধরবো। লোকটার হাতে পাওয়ে মাটি... শরীর থেকা বিড়ি আর ঘামের গন্ধে পারুল মাতলা হইয়া যাইবো।
এই আরাম আয়েশ, দাসিবান্দি তো চায় নাই সে! নূরানি সুরত, আতর মাখা ননীর পুতুল স্বামী দিয়া পারুলের কী কাম!
বাসর রাইতের কথা এখনও মনে আছে পারুলের। সারটা রাইত বাতেন তারে দোস্ত রুস্তমের গল্প শুনাইছে। শুনতে শুনতে পারুল বইলাই ফেললো, রুস্তম কেডা চিনি না। তয় মনে হইতেছে, সে আপনের দোস্ত না... আমরই সতীন।
এই কথা শুইনা বাতেন কইছিল, জানো বউ, ছোটোকালে আমরা ঠিক করছিলাম, যদি বিয়া করি তইলে একজন মাইয়ারেই বিয়া করুম।
এই কথা শুইনা পারুলের ঘুম হারাম হয়া গেছিলো। মনে হইতেছিলো কোন জানোয়ারের ম্যালে আইসা পড়লো সে।

রুস্তম আর বাতেন পাটির ওপর বসা। রহিমা বিবি বাতেনের পাতে তরকারি তুইলা দিতেছে। কিন্তু বাতেনের চোখ ইলিশের ডিমভুনার বাটিতে। রুস্তম ভালো কইরাই জানে, এই জিনিসের জন্যে বাতেন কী করতে পারে। রুস্তম মনে মনে হাসে, কিন্তু তার মাথায় অন্য একটা চিন্তাও ঘুরপাক খাইতেছে। আজকা বাতেনের আবদুল্লাহপুর যাওনের কথা, কিন্তু গিয়া পারুলরে ফিরায়া আনা বাতেনের ক্ষেমের বাইরে... এইটা রুস্তমের জানা আছে।
মেয়েছেলেরে বুঝানি বা পটানি বাতেনের কম্ম না। এই জীবনে রুস্তম বহুতবার দৌলতদিয়ায় মাগীবাড়ি গেছে। বাতেনও গেছে লগে... কিন্তু সে ভিতরে ঢুকে নাই। রুস্তম তার মোবাইল, গলার চেইন, ঘড়ি আর মানিব্যাগ বাতেনের কাছে রাইখা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটায়া আসছে ওইখানে। ফিরার পথে বাতেন এ নিয়া কোনো কিছু জানতেও চায় নাই। ওর হাবভাব দেইখা মনে হইতো
দৌলতদিয়া আইছে খালি ইলিশের ডিমভুনা খাইতে।
মেয়েছেলের বিষয়ে বাতেনের ইন্টারেস্ট যে এক্কেবারেই নাই, সেইটা বন্ধুবান্ধব সকলেই জানে। বাড়ির লোকজনেরও জাননের কথা। এরপরও যে ক্যান অরে জোর কইরা বিয়া দিলো!
রুস্তম প্রথমে ভাবছিলো এইটা বাতেনের ভয়, কিন্তু তা না। অনেক চেষ্টা নিয়াও মেয়েছেলে নিয়া তার সমস্যা কাটে নাই। রুস্তমের সন্ধ্যায় সন্ধ্যায় নৌকা নিয়া ঘুরনের অভ্যাস, মাঝেমইধ্যে সে মেয়েছেলে নিয়াও নৌকায় উঠে। সেইসময় বাতেনও সাথে আসে, এইসবে সাথে যাইতে তার আপত্তি নাই... কিন্তু সে নৌকার ছৈ এর ভিতর ঢুকবে না। এক রাইতে ঝুম বৃষ্টি, বাতেন নৌকার আগায় বইসা ভিজতেছে, কিছুতেই ভিতরে আসবো না। রুস্তম ডাকে, মাঝি কয়... তারপরও ভিজতেছেই। লগের মাইয়া গিয়া শেষে বাতেনের হাত ধইরা টানতে শুরু করলো। বাতেন এক ঝটকায় সেই মাইয়ারে ফালায়া দিল নদীতে। কত কষ্টে শ্যাষে সেই মাইয়ারে উঠানি গেছে... সেই রাইতের কাহিনির পর আর জীবনেও নৌকায় যায় নাই রুস্তম। কিন্তু বিয়ার রাইতে বাতেন যেইটা করছে, সেইটার তুলনা নাই। বাসর রাইত, একটার মতো বাজে, কিন্তু সে ঘরে ঢুকে না। রুস্তমে নানান কিছু বুঝায়, লাভ হয় না। একটা সময় বাতেন ফিসফিসায়া বলে, দোস্ত আমার লগে তুমিও আসো।
রুস্তম সেই রাইতে মশকরা কইরা বলছিল, চল যাই, আর তাছাড়া আমরা তো ঠিকই করছিলাম... দুইজনে মিল্যা একটা মাইয়ারে বিয়া করুম। চল্ চল্!
বাতেন খুব কষ্ট পাইছিল মনে হয় সেইদিন, চোখে পানি নিয়া হনহনায়া চইলা গেছিলো।
রুস্তম ভালো কাইরাই জানে, যত বড় দোস্তই হোউক, নিজের বউরে কি কেউ ভাগ দেয়? কিন্তু পারুলরে সেই কথা কে বুঝাইবো! কোন বিপদ যে ঘটতে যাইতেছে, আল্লায় জানে।

আবদুল্লাহপুরের বাড়িগুলি খুব সুন্দর। গাছগাছালি ঘিরা বাড়িগুলির ভিতর বাড়িতে পুকুর থাকবোই। এই এলাকার মাইয়াগুলিও ক্যান জানি খুব সুন্দর হয়। কিন্তু আচার আচরণ সাপের মতো। সারাদিনই খালি ফোঁশ ফোঁশ। বাতেনে খুব খেয়াল কইরা দেখছে বিষয়টা।
পারুল আর বাতেনের বিয়া হইছে প্রায় সাত মাস। এর মইধ্যে সে এই বাড়িতে আইছে পাঁচ বার। এইবারই প্রথম সে রুস্তমরে ছাড়া এইখানে আসলো। উঠানে পাও রাখতেই শাশুড়ি মা রুস্তমের কথা জিগায়। রুস্তম আসলে তো এই বাড়ি মাতায়া রাখে। গতমাসে চাইর কেজি এক বোয়াল নিজে রাইন্দা তাক্ লাগায়া দিছে সবাইরে। বাতেনের শ্বশুর তো বইলাই ফেললো, বাবা রুস্তম! তুমি কী চাও? একবার আমারে কও.... এমন রান্দা আগে খাইনাই বাপ। কিছু চাও।
শাশুড়ি মাও রুস্তমের লিগা পাগলপ্রায়, তার আপসোস, কেন যে তার একটা আবিহাইত্যা মাইয়া নাই। থাকলে রুস্তমরে জামাই করতে পারতো।
আহ্! রুস্তম একটা জিনিস খুব ভালো পারে, সেইটা হইলো মাইনষেরে পাগল বানানি। পারুলও রুস্তমের লিগা দেওয়ানি, এইসব বাতেন বুঝে। বেশি বুঝা ভাল না। কে জানি কইছিল... বেশি বুঝা বোঝা বাড়ায়। ঠিকই কইছিল।
পারুল সাপের মতো শরীর দুলায়া আসতেছে... হাতে গামছা আর সাবান। কাচারি ঘরের পিলারের লগে আইসা ঠেস্ দিয়া কোমর বাঁকায়া দাঁড়ায়। বাতেন খেয়াল করে, সরিষাফুল রঙা কাপড়ে সবুজ জরি পাইড়। আলতা, কাজল, কাচের চুড়ি... সাজনের আর বাকি রাখে নাই কিছু। অথচ, সকালেই মোবাইলে কইতেছিল, নিতে আইলে লাভ হইবো না, মরলে মরবো তবু তার লগে ঘর করবো না।
কি বিষয় মওলানা, আমার সতীন কই? আসে নাই?
রুস্তমের জ্বর।
ও তাই নাকি? তইলে আপ্নে তারে সেবা না কইরা এইখানে আইয়া কী করেন।
পারুল! চলো। দুপুরে রান্দাবাড়ি করতে না কর। আজকা স্কুলে মিলাদ। পরীক্ষার খাতাও আনতে যাইতে হইবো।
এত কাজ নিয়া আইছেন ক্যান। কাইল আইলেই পারতেন। বাদ দেন, চলেন পুকুরঘাটে যাই। দুইজনে মিল্লা গোছল করি। আপনেরে তো আর জীবনেও এমন একলা পামু না।
আমি গোসল করছি একবার। ঠাণ্ডা লাগবো শ্যাষে।
মওলানা কি আইবো? নাকি দাড়ি ধইরা টাইনা নিয়া যামু!
বাতেন ভয় পায়। পারুলের ঠিক নাই, সে দাড়ি ধইরা টাইনা নিয়া যাইতেও পারে। সে পারুলের পিছু নেয়। পারুল ঘাড় ঘুরায়া একবার দেখে, তারপর হিহিহি কইরা হাসতে থাকে।
এক শর্তে গোসল করুম, তুমি এখনই রওনা দিবা আমার লগে। কাচারিতে নাইমা যামু আমি। স্কুলে যাওয়াটা জরুরি। তুমি একলা রিকশা দিয়া বাড়িতে চইলা যাবা, পারবা না?
আমি একলা যামু মানে? অসম্ভব! আমারে ইস্কুলে নিয়া চলেন।
না, সেইটা কেমনে সম্ভব!
তাইলে রুস্তম ভাইয়ের থুক্কু আমার সতীনের বাড়িতে রাইখা যান। ফিরতি পথে নিয়া যাইবেন। চায়নার লগে গল্প কইরা কাটায় দিমু।
ওহ্, ডরায়েন না, আপনার গোসল করতে হইবো না। আপনে ভিতর বাড়িতে গিয়া বসেন। আর চাইলে ঘাটলায় বইসা গোসল দেখতে পারেন।
না থাক। ভিতর বাড়িতেই যাই।
ওহ! আমার তো মনেই আছিলো না। আপ্নে যে মৌলানা, সেইটা ভুইলা যাই বারবার। হিহিহি।

আব্দুল্লাহপুর থিকা বাতেনগো বাড়ির গেইট, রিকশায় পাক্কা আধাঘণ্টা, এই পুরাটা রাস্তায় বাতেন পারুলের লগে একবারও কথা কয় নাই। উঠানের তারে রুস্তমের ভাইবউ কাপড় ম্যালতেছে। রিকশা থামতেই সে পারুলরে দেইখা গেটের বাইরে ছুইটা আসছে। তার কান্ধে রাখা ভিজা কাপড়ের পানিতে শরীরের অর্ধেকটা চুপচুপা।এই শরীরেই সে বাতেনরে বাড়ির ভিতরে ঢুকানের জন্য টানতেছে। বাতেনের শরীর কাঁপতেছে, রাগে। পারুল হাত দিয়া চায়নার হাত ছুটায়া দেয়। মনে হইলো বাতেন জীবন ফিরা পাইছে, অতি দ্রুত সে রিকশা কইরা আগায়া যায়। চায়নার গলায় জড়ায়া ধইরা পারুল হাসতে হাসতে মইরা যায়।
অই! বাড়ি খালি খালি লাগে ক্যা! সবতে কই?
কেওয়ার গেছে।মুসলমানির দাওয়াতে। কিন্তু তোমার নাগর আছে। জ্বরের তাপে উহ্ আহ্...
ধুর্ ছেড়ি! মানইজ্জত তো কিছুই রাখবি না আমার।
এহ্! পিরীত করবো, আবার মান! যাও যাও। তিনার জ্বর কমাও।
আসলেই জ্বর... নারে!
হ, তোমার মৌলানা এক রাইত পানি ঢাইলাও কিছু করতে পারে নাই। এইবার তুমি ট্রাই মারো।
পারুল দুয়ার ঠেইলা রুস্তমের ঘরে ঢুকে। রুস্তম দেওয়ালে ঠেস্ দিয়া খাটে পাও মেইলা বইসা আছে। চোখ বন্ধ, হাতে সিগারেট । পারুলের শব্দ পাইয়া নড়াচড়া দিয়া ওঠে। পারুল দরজায় খিল দিতে দিতে শাড়ি টান দিয়া খুলতে থাকে। শায়ার গিটের জায়গায় একটু খানি ফাড়া... জানালার ফাঁক দিয়া রইদের আলো আইসা সেই জায়গায় নকশা কাটতেছে।
রুস্তম চিৎকার কইরা কয়, সারাজীবন রেণ্ডি ভাইজা খাইছি, তর মতো একটাও পাই নাই।
পারুল কাছে গিয়া রুস্তমরে জড়ায়া ধরে। রুস্তম আরো কিছু আবোল তাবোল কইতে থাকে, জ্বরের ঘোরে মনে হয়। পারুল ওর মুখ চাইপা ধরে। রুস্তম ঝটকা মাইরা ওরে ফালায়া সিনায় চাপ দিয়া ধরে। গলা নামায়া কইতে থাকে, তরে আজকা মাইরাই ফালামু, তর লিগা লেংটাকালের দোস্তের লগে বেঈমানি করতে পারুম না। তরে মাইরা ফালামু।

জাতীয় জাদুঘরে চলছে চলচ্চিত্রের মহাযজ্ঞ!

জাতীয় জাদুঘরে চলছে চলচ্চিত্রের মহাযজ্ঞ!

জানুয়ারি ১৮, ২০১৮

বাংলাদেশে তিনটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব হয়। এর একটি দ্বিবার্ষিক এবং দুইটি প্রতিবছর হয়। তিনটি উৎসবই হয় স্বেচ্চাসেবীদের আয়োজনে। এর মাঝে দুইটি উৎসবের আয়োজক দুইটি ফিল্ম সোসাইটি বা চলচ্চিত্র সংসদ। এই উৎসবগুলো আয়োজনের পেছনে অনেক কষ্টের গল্প থাকে।

মূর্তিকারিগরে প্রতিমূর্ত এক শহর

মূর্তিকারিগরে প্রতিমূর্ত এক শহর

ডিসেম্বর ১১, ২০১৭

প্রতিটা ইটই প্রাণ পেতে চায়। কিছু একটা হতে চায়। প্রতিটি ভবনের আত্মা আছে, আছে মন। যে ভবনের আত্মা নেই সেটির প্রেতাত্মাও আছে হয়তো। ওই রকম ভবনে থাকলে গা ছমছম করতেই পারে।