অলঙ্করণ: মাহমুদা নাসরিন চায়না

অলঙ্করণ: মাহমুদা নাসরিন চায়না

পর্ব ১

বাংলাদেশে চিত্রকলাচর্চা

ফারুক ইমন

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৫, ২০১৭

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় ১৯৭৫ এর এপ্রিলে। এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজন করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের চিত্রকলা চর্চায় ভুমিকা রেখেছেন অনেকেই। এদের মধ্যে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের মাধ্যমেই এদেশে চিত্রকলা চর্চা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। এস এম সুলতানের চিত্রকলা দেশীয় চিত্রকলার অন্যতম উদাহরণ। মানুষের প্রাণশক্তি ও সমাজের এক নির্মোহ ছবি ফুটে ওঠে তার চিত্রে। সুলতানের চিত্রের মানুষেরা ধনশালী-দৈন্যতাহীন। বাংলার চিরায়ত এক সাহসী সমৃদ্ধ রূপের বর্ণনা তার চিত্রে দেখা যায়। যা সত্য কিন্তু বাস্তব নয়। সুলতানের চিত্রের সমৃদ্ধ চিত্রায়নগুলোতে এদেশের মানুষের চিরায়ত আকাঙ্ক্ষারই প্রকাশ ঘটেছে। আরেক শিল্পী কামরুল হাসানের চিত্রকলা যেন আমাদের সন্ধান দেয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা উত্তর নাগরিক সমাজের এক বিশ্লেষণী রূপের। চিত্রের আঙ্গিকে ও শৈলীতে সমাজমুখি একটা ধারা বাংলাদেশে দেখা যায়। বিমূর্ত চিত্রায়নের ধাঁচও অনেক শিল্পীর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বিদ্যমান।
ষাটের দশকের মেধাবী শিল্পীরা হচ্ছেন, মনিরুল ইসলাম, হাশেম খান, রফিকুন নবী, মাহমুদুল হক, অলক রায়, শহীদ কবীর, বীরেন সোম, আবুল বারক আলভী, হামিদুজ্জামান খান, আবদুস সাত্তার, কালিদাস কর্মকার প্রমুখ। শিল্পী কাজী গিয়াসউদ্দিন, শাহাবুদ্দিন, স্বপন চৌধুরী, চন্দ্র শেখর দে, ফরিদা জামান, নাঈমা হক, তরুণ ঘোষ, নাসিম আহমেদ নাদভী প্রমুখ সত্তরের দশক ও পরবর্তী সময়ে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।
এদের অধিকাংশই বিমূর্ত ও সমবিমূর্ত শৈলীর ধারায় অরাজনৈতিক চিত্রকর্ম সৃজনে নিজেদের ব্যাস্ত রেখেছেন। ব্যতিক্রমও ছিলেন, চন্দ্র শেখর দে, শাহাবুদ্দিন ও হামিদুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় তাদের শীল্পচর্চা করেন।
সত্তর ও আশির দশকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিলাভে সমর্থ হন আরেক শিল্পী কালিদাস কর্মকার। প্রতীকনির্ভর পরাবাস্তব সৃজন কালিদাসের। উত্তর-আধুনিক শিল্পশৈলী স্থাপনা দৃষ্টান্তের অন্যতম সূচনাকারী এই কালিদাস কর্মকার। হামিদুজ্জামান খান স্থাপনাশিল্পের অপর এক দিশারী। মৃৎশিল্পকে সৃজনশীল ভাস্কর্য স্থাপনায় উন্নত করেছেন আরেক শিল্পী আলোক রায়। ছাপচিত্রে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন রফিকুন নবী এবং আবদুস সাত্তার।
বাংলাদেশে আশির দশকে আবির্ভূত প্রতিভাবান শিল্পীদের সংখ্যা রীতিমতো বিস্ময়কর। দশকের শুরুতে কিছু শিল্পীর বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাভাবনা শিল্পচর্চায় নতুন ধারার সূচনা করতে থাকে। মূলত কার্টুনধর্মী ড্রইং ও পরাবাস্তব আঙ্গিকে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন এ ধারার শিল্পীরা। শিশির ভট্টাচার্য, নেসার হোসেন, ঢালী আল মামুন, সাইদুল হক জুইস, দিলারা বেগম জলী, নীলুফার চমন প্রমুখ শিল্পীদের যথার্থ উত্তর-আধুনিক চিন্তা-চেতনার শিল্পী হিসেবে পাওয়া যায়।
আশি ও নব্বইয়ের দশকে একই সঙ্গে বিমূর্ত ও প্রতীকধর্মী শিল্পশৈলীর চর্চাও দেখা গেছে। জি এস কবির, শাহাদত হোসেন, তরুণ ঘোষ, মোমিনুল রেজা, রোকেয়া সুলতানা, মোহাম্মদ ইউনুস, নাজমা আখতার, খালিদ মাহমুদ, মোখলেসুর রহমান প্রমুখ এ ধারার প্রতিভাবান শিল্পী। বক্তব্যপ্রধান অবয়বী আঙ্গিকের শিল্পী রণজিৎ দাস, নাজলী লায়লা মনসুর, আতিয়া ইসলাম এ্যানী, দীপা হক, মোহাম্মদ ইকবাল প্রমুখ। সমাজের সমস্যা জর্জরিত মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশু নিয়ে তারা কাজ করেছেন।
নব্য-বাস্তববাদী অনন্য কৃতী শিল্পী শেখ আফজাল, আহমদ শামসুদ্দোহা, শাহজাহান বিকাশ প্রমুখ। শেখ আফজাল নগর ব্রাত্যজনের জীবনযাপন অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে উপস্থাপন করেন। শামসুদ্দোহা পরাবাস্তব আঙ্গিকে নিসর্গ ও জনপদ পুন:নির্মাণ করেন। নাসরিন বেগম জলরঙে অনবদ্য পরাবাস্তব নিসর্গ ও নগরদৃশ্য কিংবা নারীচরিত্র অঙ্কন করেন। উপস্থাপনার ভঙ্গি নতুন, শিশুর বিস্ফারিত চোখ, অথবা মুখের বহুমাত্রিক অতিবাস্তবতা মোহাম্মদ ইকবালের বক্তব্যে রহস্যময়তা আরোপ করে। তরুণ শিল্পী কামালউদ্দিন, বিশ্বজিৎ গোস্বামী ও শারদ দাস মানুষের অসহায়ত্বে পরাবাস্তব প্রকাশ রাখেন ক্যানভাস পেইন্টিং মাধ্যমে। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক শিল্পাঙ্গনের সঙ্গে আরও বেশি ঘনিষ্ঠ হন বাংলাদেশের শিল্পীরা। সমকালীন শিল্পকলার প্রিয় মাধ্যমসমূহ যেমন ভাস্কর্য, স্থাপনা, ডিজিটাল প্রিন্ট, ভিডিওচিত্র, আলোকচিত্র, কোলাজ ও মিশ্র মাধ্যম ইত্যাদির অনুশীলনে এদেশের শিল্পীদের আগ্রহ বেড়েছে। এক্ষেত্রে মাহবুবুর রহমান, তৈয়বা বেগম লিপি, ইমরান হোসেন পিপলু, ওয়াহিদুজ্জামান প্রমুখের কাজ উল্লেখযোগ্য।
অংশগ্রহণমূলক শিল্পকর্ম অর্থাৎ শিল্পীর সঙ্গে দর্শকও শিল্পকর্ম সৃজনে অংশ নিতে পারেন, এমন ধারণাও উত্তর-আধুনিক শিল্পকলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বস্তুত শিল্পের কোনও ধরাবাঁধা সংজ্ঞা আজ আর মানা হচ্ছে না। একথা এখন বিশেষ জোর দিয়েই বলা যায়, বাংলাদেশের সমকালীন শিল্পকলার বেলাতেও কথাটি প্রাসঙ্গিক।

চলবে...

জাতীয় জাদুঘরে চলছে চলচ্চিত্রের মহাযজ্ঞ!

জাতীয় জাদুঘরে চলছে চলচ্চিত্রের মহাযজ্ঞ!

জানুয়ারি ১৮, ২০১৮

বাংলাদেশে তিনটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব হয়। এর একটি দ্বিবার্ষিক এবং দুইটি প্রতিবছর হয়। তিনটি উৎসবই হয় স্বেচ্চাসেবীদের আয়োজনে। এর মাঝে দুইটি উৎসবের আয়োজক দুইটি ফিল্ম সোসাইটি বা চলচ্চিত্র সংসদ। এই উৎসবগুলো আয়োজনের পেছনে অনেক কষ্টের গল্প থাকে।

মূর্তিকারিগরে প্রতিমূর্ত এক শহর

মূর্তিকারিগরে প্রতিমূর্ত এক শহর

ডিসেম্বর ১১, ২০১৭

প্রতিটা ইটই প্রাণ পেতে চায়। কিছু একটা হতে চায়। প্রতিটি ভবনের আত্মা আছে, আছে মন। যে ভবনের আত্মা নেই সেটির প্রেতাত্মাও আছে হয়তো। ওই রকম ভবনে থাকলে গা ছমছম করতেই পারে।