বুদ্ধিজীবীর আত্মপাঠ ও আমাদের সমাজ

সাজ্জাদ কবীর

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৮

বুদ্ধিজীবী কথাটা এসেছে ইংরেজি ইন্টেলেকচুয়াল (Intellectual) শব্দটার প্রতিশব্দ হিসেবে। যদিও ইন্টেলেকচুয়ালের প্রকৃত অর্থ বুদ্ধিজীবী দিয়ে প্রকাশ হয় না। অনেকে বলেন, বুদ্ধিজীবীর প্রথম শর্ত শিক্ষা হলেও শিক্ষিত মানেই বুদ্ধিজীবী না। এসব নানা মতের মাধ্যমে বুদ্ধিজীবীর সংজ্ঞায়ন এবং তাদের করণীয় অনুসন্ধান করা হয়েছে। লেখা হয়েছে এসব বিষয় নিয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ। কয়েক বছর ধরে ‘বুদ্ধিজীবী’ শব্দটা আমাদের কাছে খুব একটা অপরিচিত না। তবে এ কথাটাও সঙ্গে সঙ্গে বলা যায় যে, আমাদের অনেকের কাছেই এই শ্রেণিভুক্ত মানুষের পরিচয় পরিষ্কার নয়। অর্থাৎ বলতে হয় যে, কী কী গুণাবলি থাকলে এই শ্রেণিতে প্রবেশ করা যায়, তা নিয়ে আমাদের এখানে খুব বেশি আলোচনা হয়নি। একটা গোষ্ঠীর আবির্ভাব, তার প্রয়োজনীয়তা, তার অবস্থানের সুদৃঢ়তা বা স্খলন সবকিছুই এই আলোচনায় চলে আসে।

একটা বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার, শ’খানেক বছর আগে বুদ্ধিজীবী ছিল না, তা কিন্তু না। বরং বলা যায়, মানব সভ্যতার সঙ্গে সঙ্গেই এই শ্রেণির জন্ম। তবে এর আধুনিক রূপ বা এদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে অনেক পরে। সেই সময়টা আজ থেকে প্রায় শত বছর আগে। এই অঞ্চলে বুদ্ধিজীবী কারা বা কাদেরকে এর আওতায় ধরা যায়? আমাদের দেশে আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত জনদের অবস্থান বা তাদের কার্যক্রম নিয়ে বিচ্ছিন্ন আলোচনা হয়েছে। তবে ঠিক গ্রন্থিত পদচারণা এর আগে হয়েছে বলে আমার জানা নেই। সৈকত হাবিব তার সম্পাদিত ‘বুদ্ধিজীবী, ইতিহাস অনুসন্ধান ও আত্মপাঠ’ গ্রন্থটি সেই উদ্দেশেই পাঠকের সামনে এনেছেন।

আন্তোনিও গ্রামশির মতে, সমাজে দুই শ্রেণির বুদ্ধিজীবী দেখা যায়। এক দল ‘জৈবিক’ বুদ্ধিজীবী। তারা পুঁজিবাদী উদ্যোক্তা, শিল্প প্রযুক্তিবিদ, রাজনৈতিক অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ, নতুন সংস্কৃতি ও নতুন বৈধ ব্যবস্থা ইত্যাদির সংগঠক তৈরি করেন। আর অন্য দল হচ্ছে. ‘প্রথাগত’ বা ‘ঐতিহ্যগত’ বুদ্ধিজীবী। শিক্ষক, ধর্মপ্রচারক, প্রশাসকরা এই গোত্রের। এডওয়ার্ড সাঈদ তার লেখায় বুদ্ধিজীবীদের সমন্ধে বলতে গিয়ে বলেছেন, এদের নানা চাপ সহ্য করতে হয়। এটা বুদ্ধিজীবীদের জন্য খুবই ভয়ের। তিনি উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দুই রাজনৈতিক দলের কথা। এই দল দুটো সব বুদ্ধিজীবীকে ভাগ করে নিয়েছে। এছাড়া সে দেশের রকফেলার, ফোর্ডস ও মেলনরা গবেষণার জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করছেন। তার একটা প্রজেক্ট পেলেই একজন বুদ্ধিজীবী লাখ ডলারের মালিক বনে যান। তাই পেশাদারিত্ব বলতে যা বোঝায়, তাকেই সাঈদ একজন বুদ্ধিজীবীর জন্য সবচেয়ে মারাত্মক ভয়ের কারণ বলে শনাক্ত করেন। বইটির সম্পাদক সংকলিত লেখাগুলোকে নির্বাচন করেছেন বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে। তার জবানিতেই শুনি, ‘বর্তমান বইটিতে আমি চেষ্টা করেছি বুদ্ধিজীবী বিষয়টি সম্পর্কে একটি প্রাথমিক অথচ সামগ্রিক ধারণা পেতে। পাঠকের কাছেও তাই উপস্থাপন করতে চেষ্টা করেছি।

সৈকত হাবিব তা-ই করেছেন। সামগ্রিক ধারণা দেয়ার পর তিনি একে একে উপস্থাপন করেছেন আরো কিছু প্রবন্ধ। এ বিষয়ের প্রথম চিন্তক আন্তোনিও গ্রামশিকে পাঠকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন প্রথমে। তারপর তাকে ঘিরে আবর্তিত লেখাগুলো তুলে দিয়েছেন আমাদের হাতে। শুধু সেখানেই থেমে থাকেননি, এ নিয়ে আমাদের ভৌগোলিক সীমায় যেসব কার্যক্রম দেখা গেছে বা তা নিয়ে চর্চা হয়েছে, তার অনেক অংশ গ্রন্থভুক্ত করেছেন। সৈকত নিজে এটা নিয়ে নাড়াচাড়া করেছেন অনেকদিন থেকে। তারপর নিজের আত্মতৃপ্তির পর অনুধাবণ করেছেন সব জানাকে ছড়িয়ে দিতে। আমি বলব, এটাও বুদ্ধিজীবীদের কাজেরই অংশ। সমগ্র গ্রন্থের বিষয়বস্তু আমাদের সমৃদ্ধ করে। জানতে সাহায্য করে, কী আমরা, কোথায় আমাদের গন্তব্য। কাদের নেতৃত্বেই বা আমরা সেখানে যেতে পারব কিংবা আদৌ আমরা পৌঁছাতে পারব কীনা। বিষয়ের বৈচিত্র্যের কারণে বইটিকে মোট চার পর্বে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্বে তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট, দ্বিতীয় পর্বে বাংলার বুদ্ধিজীবী, তৃতীয় পর্বে বুদ্ধিজীবীর দায়িত্ব-কর্তব্য-ভূমিকা, চতুর্থ পর্বে বুদ্ধিজীবীর পাঠ ও তাদের আত্মপাঠ। প্রথম পর্বে নয়টি, দ্বিতীয় পর্বে একুশটি, তৃতীয় পর্বে আটটি প্রবন্ধ আছে। চতুর্থ পর্বকে আবার ব্যক্তিত্ব পাঠ আর আত্মপাঠ এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এতে যথাক্রমে সাত আর পাঁচটা প্রবন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া পঞ্চম একটা পর্ব এখানে রাখা হয়েছে, বিশেষ সংযোজন হিসেবে। এটা হলো আহমদ ছফা রচিত ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’ গ্রন্থটি। বুদ্ধিজীবী বিষয়ে একটা সামগ্রিক ধারণা নেয়ার পর অবশ্যই সমাজে বা কোনো দেশে এর প্রয়োগের কিছু ইতিহাসও জানা প্রয়োজন। সেটা জানার পর অবশ্যই আমরা আমাদের নিজেদের দেশে এই ক্ষেত্রে কতখানি কাজ হয়েছে, তা জানার আগ্রহ বোধ করব।

আমাদের দেশে বা ভারত বিভাগের আগে সমগ্র বাংলায় বুদ্ধিজীবী শ্রেণির উত্থান বা সমাজ ও জনগণের জন্য তাদের করণীয় ভূমিকা নিয়েও আমরা বেশ কিছু লেখা এখানে পেয়ে যাই। এরপরই আসে আমাদের বর্তমান সময়ের কার্যকলাপ নিয়ে এই বিষয়ে আলোচনা বা পর্যবেক্ষণ। পার্থপ্রতিম বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বুদ্ধিজীবী প্রসঙ্গে’ লেখাটা থেকে যেটা পাওয়া যায় তাতে আশাব্যঞ্জক কিছু দেখি না। অর্থাৎ সেই অর্থে আমাদের এখানে বুদ্ধিজীবী গড়ে ওঠেনি বা তার পরিবেশও নির্মাণ হয়নি। আবার অন্যদিকে বিনয় ঘোষের ‘বাঙালি বুদ্ধিজীবীর ক্রমবিকাশ’ আমাদের নিজস্ব ঘরানার কিছু বুদ্ধিজীবীর পরিচয় হাজির করে। অর্থাৎ নানা মতের বা মতবিরোধের বিষয় থাকছেই লেখাগুলোতে। হয়তো এটাই স্বাভাবিক। নানা মতের সংঘর্ষে বের হয়ে আসবে ভিন্ন নতুন মত। আর সমাজকে, জনগণকে সঠিক পথ দেখাবে সেটা। যেটা আসলে বুদ্ধিজীবীদেরই কাজ। প্রকৃত বুদ্ধিজীবী মানেই দৃঢ় অবস্থান আর স্পষ্ট বক্তব্যসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। এই নিয়ে শৈলেশকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় তার ‘বাঙালি বুদ্ধিজীবীর সত্যসাধন’ লেখায় বলেন, ‘শুদ্ধ জ্ঞানচর্চার প্রক্রিয়ায় মাঝে মাঝে এমন বেফাঁস সত্যের আবিষ্কার হয়ে যায়, যা সমসাময়িক রাষ্ট্রনায়কদের গদির ভিত্তি নড়িয়ে দেয়। রাষ্ট্রনায়কদের পক্ষে তাই সত্যানুসন্ধানের অবাধ সুযোগ দেয়ার অর্থ নিজেদের গদি হারানোর ঝুঁকি নেয়া।’

আর এ কারণেই সাধারণত রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে কোনোরকম ঝুঁকি না নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের ওপরই চড়াও হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ফ্রান্সে বুদ্ধিজীবীদের যে আন্দোলন শুরু হয়, তা পুরো ইউরোপে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল। সে সময় আলফ্রেড ডেফ্রুস নামে এক সেনা অফিসার গোপন সামরিক তথ্য পাচারের দায়ে অভিযুক্ত হন। তিনি ছিলেন ইহুদি। বিচারে তার যাবজ্জীবন দীপান্তর হয়। এর দুই বছর পর এস্টারহেজি নামে একজন ফরাসি সেনা অফিসার একই অভিযোগে অভিযুক্ত হন। কিন্তু তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। অনেকেই জানতেন যে, ডেফ্রুস নির্দোষ আর এস্টারহেজি প্রকৃত দোষী ছিলেন। কেবল ইহুদি বিদ্বেষের কারণে বিচার উল্টে যায়। এই বিষয়টা নিয়ে এমিল জোলা জোরালো প্রতিবাদ জানান। ফলে ফরাসি সরকার তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে। এতে তাকে অভিযুক্ত করে জেল ও জরিমানা করা হয়। তবু তিনি নিজের বক্তব্য থেকে একচুলও নড়েননি। তবে গ্রেফতার এড়াতে চলে যান ইংল্যান্ডে। তার প্রতিবাদ কিন্তু বৃথা যায়নি। কিছুদিন পরে হলেও এতে কাজ হলো। একজন ষড়যন্ত্রকারী আত্মহত্যা করার সময় সব স্বীকার করে যায়। আর এভাবেই সত্যের জয় হয়। এটি বুদ্ধিজীবীদের চরিত্রের একটা উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

আমাদের বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবী শ্রেণিভুক্তের সংখ্যা এখনো আশাপ্রদ না। বা বলা যায়, হাতে গোনা কয়েকজন বাদ দিলে অনেকেই নিজেদের অবস্থানকে এমন পর্যায়ে সদৃঢ় করতে পারেননি, যাতে তাদের বুদ্ধিজীবী পর্যায়ে ফেলা যায়। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী তার লেখায় এই দোদুল্যমান বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে আলোচনা করেছেন। বেশ কিছু উদাহরণ তিনি টেনেছেন। কিন্তু সব জায়গাতেই নির্দেশিত ব্যক্তির পরিচয় উন্মোচন করেননি। অন্যদিকে সৈকত হাবিবের লেখায় যাদেরকে চিহ্নিত করেছেন, খল হিসেবে তাদের চেহারাটা বেশ স্পষ্ট। সিরাজুল ইসলামের লেখার অস্পষ্টতা কেন তা জানি না। মনে হয় এটা সার্বিক একটা ধারণা দেয়ার জন্য লেখা। তবে মুখোশ খুলে যদি চিহ্নিত না করা হয়, তাহলে প্রকৃত বুদ্ধিজীবীদের পথ সুগম হওয়া কঠিন। আমার মতের সপক্ষে একটা উদাহরণ দেয়া যায়। সম্প্রতি মুহম্মদ জাফর ইকবাল তার একটা লেখায় বুদ্ধিজীবী সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়ে যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি শুরু হয়েছে, সেটার মূল কারণ তিনি বোঝার চেষ্টা করেছেন পত্রিকায় বিভিন্ন লেখা থেকে। কিন্তু সেটা তিনি অনুধাবন করতে পারেননি। সেই সম্পর্কে তিনি ৩০ আগস্ট ২০১৩ তারিখে ইত্তেফাকে ‘সাদাসিধে কথা’ কলামে লিখেছেন, ‘আমাদের দেশে লেখালেখির একটা নতুন স্টাইল শুরু হয়েছে, সবারই একটা নিরপেক্ষতার ভান করতে হয়। তাই কেউ যদি গুরুতর অন্যায়ও করে সোজাসুজি স্পষ্ট করে কেউ লেখে না। ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে গা বাঁচিয়ে লিখে যেন কেউ কিছু বলতে না পারে। আজকাল পত্রপত্রিকার ইলেকট্রনিক ভার্সন রয়েছে। সেখানে কোনো লেখা ছাপা হলে তার লেজে পাঠকরা আবার ভুল বানান এবং অমার্জিত ভাষায় যা কিছু লিখতে পারে। তাই সবাই ভয়ে ভয়ে লেখে, কার আর সত্যি কথা বলে গালমন্দ খেতে ভালো লাগে।’

উল্লেখ্য, এখানে কবি সমুদ্র গুপ্তের ‘ডিসেম্ববের রচনা’ বই থেকে একটা অংশের উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি এই বইয়ের ‘করিম বক্স মামুর ঘটনা এবং বাংলাদেশের সুশীলগণ’ লেখায় বলেছেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, মাত্র কিছুদিন আগের ‘বুদ্ধিজীবী’ নামক সর্বনামটি এড়িয়ে তারই একটা অংশ ‘সুশীল’ শিরোনাম ধারণ করে বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে আলাদা একটা ‘অভিজাত গোষ্ঠী’ তৈরিতে লিপ্ত। এর যুক্তিসঙ্গত কারণ হচ্ছে, ‘বুদ্ধিজীবী’ ব্যানারের মধ্যে বহু সম্প্রদায়ের লোক ঢুকে যাচ্ছে। ‘বুদ্ধিজীবী’ আখ্যার সংজ্ঞা নিয়ে অস্পষ্টতা দেখা দেয়ায় এই সুযোগ ঘটেছে। ফলে বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে যারা নিজেদের অভিজাত কুলীন বলে ভাবে, তারা এই চতুর এবং আরো ঘোলাটে ‘সুশীল’ সর্বনামটি উদ্ভাবন করেছে। বুদ্ধিজীবীরা আগে যা করত, সুশীলরাও তাই করে, তবে তারা বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে অধিক চতুর ও কুশলী। এখন দেখা যাচ্ছে সাবেক, এবং অবসরপ্রাপ্ত কিছু লোক, ব্যবসালিপ্ত, অবৈধ আয়মণ্ডিত ধোপদুরস্ত কিছু লোককে বিশেষজ্ঞ মর্যাদায় ভূষিত করে মতামত তৈরি করে এবং সমাজের কলুষিত শীর্ষ স্তরকে প্রভাবিত করে ও প্রচার মাধ্যমকে প্রতারিত করে।

শেষে বলতে হয় যে, এ ধরনের বই আমাদের আত্মমর্যাদা গঠনে এক বিশাল পদক্ষেপ। আত্মমর্যাদার মাপকাঠিটি গড়ে দেয়ার দায়িত্ব যেহেতু বুদ্ধিজীবী শ্রেণির, সেহেতু তারাই অগ্রণী ভূমিকা নেবেন। আর বুদ্ধিজীবীদের উসকে দিতে বা বলা যায় তাদের পদচারণা দৃঢ় করতে সৈকত হাবিবের বইটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আর যারা সাধারণ পাঠক, তাদের কাছেও বইটির আবেদন অনেক। এ কারণে যে, নিজের অবস্থান বা নিজের অধিকার আদায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে এ ধরনের চর্চার ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে। সৈকত হাবিবের এই বই হয়তো আমাদের এ বিষয়ের চর্চাকে আরো বেগবান করবে। আরো সাহসী পদক্ষেপ নিতে অনুপ্রাণিত করবে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের।

বুদ্ধিজীবীর ইতিহাস অনুসন্ধান ও আত্মপাঠ বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা ৫১১, মূল্য ৪৯৫ টাকা। বইটা প্রকাশ করেছে ‘কথাপ্রকাশ’। এর প্রচ্ছদ এঁকেছেন সব্যসাচী হাজরা।

ধারাবাহিক
একুশে বইমেলা ২০১৮