মূর্তিকারিগরে প্রতিমূর্ত এক শহর

ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১১, ২০১৭

প্রতিটা ইটই প্রাণ পেতে চায়। কিছু একটা হতে চায়। প্রতিটি ভবনের আত্মা আছে, আছে মন। যে ভবনের আত্মা নেই সেটির প্রেতাত্মাও আছে হয়তো। ওই রকম ভবনে থাকলে গা ছমছম করতেই পারে।
‘ইট কিছু হতে চায়, ভবনের আত্মা আছে’ এসব কথা বলেছিলেন মার্কিন স্থাপত্যশিল্পী লু্ই আই কান। আমাদের জাতীয় সংসদের স্থপতি তিনি। আগেও হয়তো ইট ও ভবনকে প্রাণময় হিসেবে দেখেছেন স্থাপত্যশিল্পীরা, কিন্তু তার মতো এত আত্মবিশ্বাস নিয়ে সুস্পষ্ট উচ্চারণে কেউ বলেননি কথাগুলো। লুই আই কানকে এই কারণে আমার খুব ভালো লাগে।
ইঁট ও ভবনের আত্মা থাকলে হাজারো ভবন আর লাখো মানুষ নিয়ে যে শহর সে তো নিষ্প্রাণ হতেই পারে না। শহর নিজস্ব আত্মাহীন হলে, নিষ্প্রাণ হলে আমরা সহজেই টের পাই। তখন সে শহরকে বলি, না, শহরটার কোনও প্রাণ নেই। বলি-- ভূতের শহর, প্রেতাত্মার শহর।
ময়মনসিংহ শহর তেমন এক প্রাণময়-মনময় শহর। ‘প্রতিটি শহরের যেমন নিজস্বতা আছে’ তেমনই আছে ময়মনসিংহ শহরেরও। সেই শহরের জীবনী লেখার চেষ্টা করেছেন জাহিদ নেওয়াজ খান। পুরো জীবনী নয়। জীবনের একাংশ মাত্র।
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর কেমন ছিল বাংলাদেশের (পূর্ব পাকিস্তানের) জেলা শহরগুলো। প্রগতিশীলতা, নাগরিকবোধ, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় কীভাবে নতুন রূপ পাচ্ছিল প্রতিটি শহর। কারা গড়ে তুলছিল সেই সব শহরের আধুনিক মেজাজ ও মনন। প্রতিটি শহরের জীবনী থাকলে তা বোঝা যেত অনায়াসে।
জাহিদ নেওয়াজ খানের লেখা ‘মূর্তিকারিগর’ পড়লে যেমন বোঝা যায় ময়মনসিংহ শহরকে। দেশভাগ থেকে স্বাধীনতা পর্যন্ত সময়ের ময়মনসিংহের জীবন রচনা করেছেন তিনি। বইটি কোনো ইতিহাসের বই নয়, ঐতিহাসিক কোনো উপন্যাসও নয়। ময়মনসিংহ নামের একটি শহরের শহর হয়ে ওঠার, সেই শহরের মানুষের নাগরিক হয়ে ওঠার ৮৭ পৃষ্ঠার এক উজ্জ্বল দলিল। জাহিদ নেওয়াজ খান যতটা গভীর অভিনিবেশে দেখেছেন তার বেড়ে উঠার শহরকে ততটা অভিনিবেশ নিয়ে সচরাচর এভাবে দেখে না কেউ।
ময়মনসিংহ শহর নিয়ে যাদের কোনো ভাবালুতা নেই তারা ‘মূর্তিকারিগর’ পড়তে পারেন ফিকশন হিসেবে। আমার কাছে অবশ্য তা ফিকশন নয়। যে শহরের আমিও একজন সেটা তো আমার কাছে ফিকশন হতে পারে না। আমার জীবন যেমন আমার কাছে ফিকশন নয়, তেমনই নয় ‘মূর্তিকারিগর’ও।

জাতীয় জাদুঘরে চলছে চলচ্চিত্রের মহাযজ্ঞ!

জাতীয় জাদুঘরে চলছে চলচ্চিত্রের মহাযজ্ঞ!

জানুয়ারি ১৮, ২০১৮

বাংলাদেশে তিনটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব হয়। এর একটি দ্বিবার্ষিক এবং দুইটি প্রতিবছর হয়। তিনটি উৎসবই হয় স্বেচ্চাসেবীদের আয়োজনে। এর মাঝে দুইটি উৎসবের আয়োজক দুইটি ফিল্ম সোসাইটি বা চলচ্চিত্র সংসদ। এই উৎসবগুলো আয়োজনের পেছনে অনেক কষ্টের গল্প থাকে।

মূর্তিকারিগরে প্রতিমূর্ত এক শহর

মূর্তিকারিগরে প্রতিমূর্ত এক শহর

ডিসেম্বর ১১, ২০১৭

প্রতিটা ইটই প্রাণ পেতে চায়। কিছু একটা হতে চায়। প্রতিটি ভবনের আত্মা আছে, আছে মন। যে ভবনের আত্মা নেই সেটির প্রেতাত্মাও আছে হয়তো। ওই রকম ভবনে থাকলে গা ছমছম করতেই পারে।