যে গ্রামের সবাই সঙ্গীতশিল্পী

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮

ভারতের মেঘালয়ের কংথং জঙ্গলের কাছাকাছি একটি গ্রাম। গ্রামটির পাশ দিয়ে গেলেই শোনা যাবে গানের গুঞ্জন। এ গুঞ্জনকে পাখির কলকাকলি ভাবলে ভুল হবে। আসলে পাখির মতো মধুর স্বরে গান করে গ্রামের প্রতিটা মানুষ।

শিশু বয়স থেকেই এ গ্রামের একেকজন সঙ্গীতশিল্পী। গ্রামের সবাই প্রায় খাঁসিয়া সম্প্রদায়। সেখানে প্রত্যেককে সম্বোধন করার জন্য আলাদা নাম থাকলেও একে অন্যের সঙ্গে কথাবার্তা বলে সুরের মাধ্যমে। প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দ রয়েছে আলাদা সুরের ডাক। পরিবারের মা ও ছেলে থেকে বন্ধুবান্ধব সকলেই একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজস্ব গানের ভাষায়।

এ সম্প্রদায়ের নেত্রী ৩১ বছর বয়সী তিন সন্তানের জননী রোথেল খোংসিট বলেন, “সুরের এ রচনা আমাদের হৃদয়ের গভীরতা থেকে আসে। সন্তানের প্রতি যখন ভালোবাসা জেগে ওঠে, আদর-স্নেহ দিয়ে ডাকি, তখন আমরা এই রকম সুরে-সুরে তাদেরকে সম্বোধন করি।”

তিনি আরো বলেন, “যদি আমার ছেলে আমাকে রাগিয়ে তোলে কিংবা আমি তার উপর রাগ করি, তাহলে এর ব্যতিক্রম ঘটে। তখন তাকে তার নাম ধরেই আমি ডাক দিই।”

রোথেল বলেন, “সৃষ্টিকর্তার মেহেরবানিতে তার সৃষ্টি সকল জিনিসের কাছাকাছি আমরা থাকি। পশুপাখিরাও কথা বলতে পারে না নিজেদের স্বরে, তারাও নিজেদের সুরে একে অপরকে ডাকে, আমরা কেন নয়।”

উন্নত বিশ্ব থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে কংথং গ্রামটি। এখানে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পৌঁছেছে ২০০০ সালে এবং সড়ক নির্মাণ হয়েছে ২০১৩ তে। গ্রামবাসী মনে করে, পাহাড় ও বনের কাছাকাছি গ্রামটি হওয়ায় তারা যেন প্রকৃতির খুব কাছেই অবস্থান করে।

গ্রামটি মূলত মাতৃপ্রধান। এখানে মায়ের সম্পত্তি মেয়েরা ভোগ করে থাকে। বিয়ের পর ছেলেরা স্ত্রীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়ি চলে যায়। সূত্র: এএফপি

ধারাবাহিক