আমার ভ্রমণিয়া দিন

পর্ব ৩০

আমার ভ্রমণিয়া দিন

জুন ১৪, ২০১৮

আব্বা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হলে কী হবে, ক্ষেতে ক্ষেতে নিজেও কাজ করতেন, তার দেখাদেখি আমরাও ক্ষেতে ডুবে থাকতাম মাটি বুকে নিয়ে। আজ যেখানে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় জেলখানা এখানেই ছিল সেই আলুচাষের জমিগুলো। জেলখানা করার সময় সব জমি অধিগ্রহণ করে নিয়ে যায় সরকার।


আমার ভ্রমণিয়া দিন

পর্ব ২৯

আমার ভ্রমণিয়া দিন

সবুর পাগলাও কখন হাট থেকে ফিরে এসে বসে গেছে খাবার খেতে। সারাটা দিন সে হাটের মধ্যে গিয়ে কী করলো না করলো তার খোঁজ কেউ নিত না, জিজ্ঞেস করলেও মিলতো না সদুত্তর। রাতটা কাটিয়ে পাগলা কাউকে কিছু না বলেই চলে যেত পরদিন ভোরবেলা।


জুন ০৭, ২০১৮

আবার দ্যাখা হবে হে সুন্দর

আবার দ্যাখা হবে হে সুন্দর

আমি অবাক। মুখ দিয়ে কথাই বেরুচ্ছিল না। শুধু মাহিফুজুর ভাইকে বললাম, ভাই, ওই দ্যাখেন স্পুনবিল। ওইদিকে জোঁকের ভয়ে নৌকায় বসে আছেন নাইমুল ভাই। আমি কই, ভাই, চামচ আছে? ভাইতো জোঁকের ভয়ে থেকে এটা তামাশা ভাবলেন। পরে প্রায় ১৫ মিনিট পেরোলে তার ধৈর্য্য আর রইল না।


জুন ০৪, ২০১৮

আমার ভ্রমণিয়া দিন

পর্ব ২৮

আমার ভ্রমণিয়া দিন

নানাবাড়িতে আরেকজন পাগল আসতো ঘোড়ায় চড়ে। ক্লিশ ক্লিন্ন এক ঘোড়া। অনেকটা গাধা টাইপের। ঘোড়াটাকে ঈদগাঁ মাঠের কাছে বেঁধে রেখে সে ঈদগাঁওয়ের মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে পড়ত। পরনে থাকত সাদা সামরিক পোশাক। পায়ে গামবুট। মাথায়ও সামরিক ক্যাপ ছিল।


মে ৩১, ২০১৮

আমার ভ্রমণিয়া দিন

পর্ব ২৭

আমার ভ্রমণিয়া দিন

মতি পাগলিকে ঘিরে মানুষের নিষ্ঠুরতাও কম দেখিনি। সে আঙুলে অস্ত্র তাক করলেই ভয় পায় বলে একশ্রেণির মানুষ তাকে দেখলেই হলো আঙুলে অস্ত্র তাক করে তামাশায় মেতে উঠতো। ভীত সন্ত্রস্ত মতি পাগলিকে দেখে তারা বিকৃত আনন্দে হো হো অট্টহাসিতে আকাশ বাতাস ভরিয়ে তুলতো।


মে ২৪, ২০১৮

আমার ভ্রমণিয়া দিন

পর্ব ২৬

আমার ভ্রমণিয়া দিন

একদিন শুনলাম, রাজাকার ধরে কাচারিঘরে আটকে রাখা হয়েছে। রাজাকার শব্দটি কি সেদিনই আমি প্রথম শুনেছিলাম, নাকি আরো আগেও শুনেছি! তবে রাজাকার ঠিক কী তখনো জানা ছিল না। তাই কৌতূহলী হয়ে ছুটে গিয়েছিলাম দেখার জন্য। ভারি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম দেখে যে, আমাদের মতোই একজন মানুষ গাছের সঙ্গে বাঁধা।


মে ১৭, ২০১৮

আমার ভ্রমণিয়া দিন

পর্ব ২৫

আমার ভ্রমণিয়া দিন

কী যে আতংকের কালোছায়া নিয়ে নেমে আসতো তখনকার সেই একাত্তরের এক একটা সন্ধ্যা। মনে হতো যেন রাতের অন্ধকার নামার সঙ্গে সঙ্গে হামলে পড়বে রাক্ষসখোক্কসের দল। সম্ভবত ২৫ মার্চের কালরাতই একাত্তরের প্রতিটি রাতকে দিয়েছিল চরম এই বিভীষিকাময় প্রেক্ষাপট।


মে ১০, ২০১৮

আমার ভ্রমণিয়া দিন

পর্ব ২৪

আমার ভ্রমণিয়া দিন

আমাদের গ্রামগঞ্জ বোধ হয় কাউয়ার ভালো লাগত না তেমন। শালিক ছিল বেশুমার, চড়ুইও। এত যে পাখি ছিল, থাকবেই তো। না থেকে পারে? কী যে গাছপালা ছিল তখন। বাতরে বাতরে গাছ। বড় বড় কাঁঠাল গাছ, আমগাছ, শিমুল গাছ, গাম্বুরি গাছ। ঝিটকা, তাল, খেঁজুর। গাছে গাছে চারপাশ ঢাকা থাকতো।


মে ০৩, ২০১৮

আমার ভ্রমণিয়া দিন

পর্ব ২৩

আমার ভ্রমণিয়া দিন

কামলাদের খাওয়া ছিল দেখবার মতো। বাংলাঘরের বারান্দায় খেঁজুরের পাটি বিছিয়ে দু’পা মুড়ে গোলাকার বৃত্তাকার হয়ে খেতে বসতো তারা। তারপর প্লেটভর্তি ভাত নিয়ে প্রথম দফায় যে কোনও একটা ভর্তা নিয়ে মেরে দিত এক দু’প্লেট। দ্বিতীয় দফায় যে কোনও একটা তরকারি নিয়ে আরো এক দু’ প্লেট দিয়ে জমিয়ে দিত সে খাওয়া।


এপ্রিল ২৬, ২০১৮

তোদে যাত্রা

শেষ পর্ব

তোদে যাত্রা

তোদে যখন পৌঁছলাম তখন সূর্য প্রায় ডুবুডুবু। চারদিকে বেশ ভিড়। কী হলো ব্যাপারটা! আমরা তো এই জেনে গেছিলাম যে, তোদে প্রচণ্ড শান্ত একটি জায়গা, যেখানে চিৎকার নেই, কোলাহল নেই। কিন্তু এখানে তো বেশ সরগরম। একটু পরেই জানলাম, আসলে সেদিন ছিল হাটবার


এপ্রিল ২২, ২০১৮

আমার ভ্রমণিয়া দিন

পর্ব ২২

আমার ভ্রমণিয়া দিন

নানাবাড়ির ভ্রমণ পথই আমার পঞ্চ-ইন্দ্রিয়কে সজাগ করে দিয়েছিল। আমার চোখ যেমন অনেক রঙিন সবুজশ্যামল জগত স্পর্শ করতে পেরেছে প্রথমবারের মতো, আমার শ্রবণেন্দ্রিয়ও তেমন পাখির ডাক, হাওয়ার গান, ঝিঁঝি পোকার স্বর কিংবা জল প্রবাহের শব্দে শব্দে নিসর্গের কাছ থেকে লাভ করেছে নতুন নতুন অভিজ্ঞান।


এপ্রিল ১৯, ২০১৮

ধারাবাহিক