নাহিদুল ইসলামের কবিতা ‘আরোপ’

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২০

ওরা তোমাকে বার বার দোষারোপ করবে,

চায়ের কাপে, আড্ডায়, মুঠোফোনে, পোস্টারে পোস্টারে, 

বিদ্রুপের হাসি হেসে পুলকবোধে নিজেদের শ্রেয়তর ভেবে আত্মপ্রসাদে মগ্ন থাকবে ওরা।
কাঙাল,
যখন তুমি রাস্তার ধারে প্রচন্ড চাপে মূত্রবিসর্জন করবে,
অথবা পথের মাঝখানে ফেলবে পানের পিক,
অথবা ভাঙা, পীচওঠা রাস্তায় বর্ষার জলে জমে ওঠা প্যাচপ্যাচে কাদার ধারে বসে তরকারি বিক্রি করে উচ্ছিষ্ট ফেলবে।
মূর্খ তুমি, বোঝনা আধুনিক এটিকেট,
নাকের ধ্যারধেরে পিচ্ছিল পানি মুছতে টিস্যুপেপারের ব্যবহার জানোনা তুমি ছোটলোক!
তোমাকে রুজির জন্য হাজারে হাজারে লাখে লাখে ঘর থেকে বের হতেই হয় কেন?
বেনিয়াদের পাঁচ টাকার মুখবন্ধ চল্লিশ টাকায় কিনবে না কেন তুমি শালা অশিক্ষিত? 
জলে ভিজে রোদে পুড়ে কয়লা হয়ে জমিনের ইস্পাত খুড়ে ঋণ নিয়ে দামী সার ছিটিয়ে ফসল ফলিয়ে মধ্যাঙ্গুলস্বত্বভোগীর কাছে কেন লোকসানে বিক্রি করবে না তুমি চাষা? 
কেন সারাবছর ধরে কাজ করেও তুমি বোনাসের দাবিতে জটলা পাকাবে রাস্তায়? 
কেন তোমার সময় নেই সামাজিক ভদ্রতা মেনে চলাফেরা করার রাস্তায়, হাটে, মাঠে, ঘাটে, বনে, জঙ্গলে?
তোমার হাতের তালুতে, নখের কোনে, চোখের কেতুরে, নাকের সর্দিতে, মুখের দ্রাক্ষারসে যে ঢুকে যেতে পারে ব্যাধি,
কেন এসব আধুনিক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সতর্কতা নিয়ে উচ্চশিক্ষিত ভাবনার মত সময় নেই তোমার?
শালা কাঙাল!
অথচ কেন তুমি অশিক্ষিত?
কেন তোমার সন্তানকে স্কুলে না দিয়ে নিয়ে যেতে হয় মাঠে অথবা সাম্পানে?
কেন রাস্তায় রাস্তায় অক্সিজেনের মাস্ক ভেদ করেও উঠে আসে মুখ থেকে রক্ত তোমার?
কেন তোমার রক্ত ঘাম করা এক টাকা দুই টাকা জমে জমে বিশাল পাহাড়ের স্তুপ উড়ে চলে যায় বিদেশ-বিভুঁইয়ে? 
ওরা বার বার তোমাকে দোষারোপ করবে বজ্জাত,
রাস্তার ধারে মূত্রবিসর্জনের অপরাধে,
পানের পিক ফেলার কাঠগড়ায় তুলে নিকুচি করবে তোমার।
যাতে করে এসব অনায়াসে চলতে পারে, প্রশ্নহীন।
যাতে ওরা জারি রাখতে সাহায্য করতে পারে এসব।
আর মানবিক চিতকার চেঁচামেচির ঢেকুর তুলে দিতে পারে আয়েশের ঘুম তুলতুলে বিছানায়।
কাঙাল, তুমি বড় অবুঝ, বোঝনা!