করোনা আপডেট
আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৩৪৫৮০৫ ২৫২৩৩৫ ৪৮৮১
বিশ্বব্যাপী ৩০৩৭৫৩৯৭ ২২০৬০০১৬ ৯৫০৯৮৮

অ্যানাবেললে কামস হোম, হরর মুভির কথকতা

তুহিন খান

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০

অ্যানাবেললে কামস হোম (২০১৯) আমেরিকান সুপারন্যাচারাল হরর ফিল্ম। ডিরেক্টেড বাই গ্যারি ড্যুবারম্যান। এই মুভিটা মূলত `অ্যানাবেললে` সিরিজের থার্ড মুভি; `দ্য কনজ্যুরিং ইউনিভার্স` ফ্রাঞ্চাইজের সাত নম্বর মুভি। `দ্য কনজুরিং ইউনিভার্স` নিয়া একটু বলি।

`দ্য কনজুরিং ইউনিভার্স` বেসিক্যালি একটা আমেরিকান মিডিয়া ফ্রাঞ্চাইজ। `শেয়ারড ইউনিভার্স` ধারণাটা মিডিয়া জগতে বেশ জনপ্রিয়। শেয়ারড ইউনিভার্স এমন একটা মিডিয়া প্লাটফর্ম, যেইখানে অনেক কনট্রিবিউটর একসাথে কোন একটা চরিত্র বা সিরিজ বানায়, এবং যেই ক্যারেক্টারের একটা গ্লোবাল ভ্যালু থাকে। যেমন ধরা যাক, সাইন্স ফিকশন, ড্রাকুলা, টম অ্যান্ড জেরি ইত্যাদি। `দ্য কনজুরিং ইউনিভার্স`-ও একটা `শেয়ারড ইউনিভার্স`।

নিউ লাইন সিনেমা, দ্য স্যাফরন কোম্পানি এবং অ্যাটমিক মনস্টার প্রোডাকশনস এই ফ্রাঞ্চাইজের প্রোডিউসার; ডিস্ট্রিবিউটর হিশাবে আছে ওয়ার্নার ব্রোজ পিকচার। ১৩৯.৫ মিলিয়ন বাজেট নিয়া এখন পর্যন্ত প্রায় ১.৫ বিলিয়ন টাকার ব্যবসা করছে এই ফ্রাঞ্চাইজ, যার ফলে `গডজিলা`র পরে সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল হরর ফ্রাঞ্চাইজের তকমা পাইছে `দ্য কনজুরিং ইউনিভার্স`।

এই ফ্রাঞ্চাইজের কাজগুলা মূলত আমেরিকার বিখ্যাত ও কুখ্যাত, আলোচিত ও সমালোচিত প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর ও স্বশিক্ষিত ডেমোনলজিস্ট দম্পতি অ্যাড ওয়ারেন ও লরেন ওয়ারেনের বিভিন্ন কেস নিয়া বানানো। অ্যাড ওয়ারেন মারা গেছেন ২০০৬-এ, আর তার বউ লরেন ওয়ারেন, এই মাত্র কয়দিন আগেই, ২০১৯ সালে মারা গেলেন। এই দম্পতি ১৯৫২ সালে `নিউ ইংল্যান্ড সোসাইটি ফর সাইকিক রিসার্চ` প্রতিষ্ঠা করেন, যা নিউ ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সবচাইতে প্রাচীন ভূতসঙ্ঘ।

এই দম্পতি ছিলেন প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর। উনারা উনাদের এই ক্যারিয়ার নিয়া, প্যারানরমাল অ্যাক্টিভিটিজ ও ভূত নিয়া বইপত্রও লিখছেন দেদার। সেসব বইতে উনারা দাবি করছেন যে, প্রায় ১০,০০০ মত প্যারানরমাল অ্যাক্টিভিটিজ নিয়া তদন্ত করছেন উনারা। অ্যানাবেললে ডল কেস (১৯৬৮), এমিটিভিলার খুন রহস্য (১৯৭৬), প্যারন ফ্যামিলি (১৯৭১), ওয়্যারউলফ (১৯৯১) ইত্যাদি তাদের বিখ্যাত কিছু কেস। যদিও, এই দম্পতির কর্মকাণ্ড নিয়া গোটা ইওরোপে প্রচণ্ড সমালোচনা হইছে। বিভিন্ন সময়ে তাদের এইসব কাজকর্ম ও দাবির বিরুদ্ধে প্রমাণাদিসহ নানারকমের নিউজ হইছে পত্র-পত্রিকায়।

মূলত তাদের বিখ্যাত কেসগুলার উপর ভিত্তি কইরাই বানানো হইছে `দ্য কনজ্যুরিং ইউনিভার্স`র মুভিগুলা। এখন পর্যন্ত তিনটা সিরিজ রিলিজ করছে এই ফ্রাঞ্চাইজ। অ্যানাবেল্লে ডল নিয়া `অ্যানাবেল্লে`; এমিটিভিলার খুন নিয়া `দ্য কনজ্যুরিং` সিরিজ আর `দ্য নান` সিরিজ। এই মুভিটা `অ্যানাবেল্লে` সিরিজের লাস্ট মুভি।

এই মুভিতে মূলত, ওয়ারেন দম্পতির মাইয়া জুডি-ই মেইন ক্যারেক্টার। বাপ-মা ভূতের ওঝা, বাসার সাথেই `অভিশপ্ত` আর `হন্টেড` জিনিশপাতির এক বিশাল জাদুঘর— অকাল্ট মিউজিয়াম; রহস্যময় নীরব একটা বাসা; বাপ-মা`র অদ্ভুত কাজকর্ম; অন্য এক জগত— এসবের ভিতর দিয়া কীভাবে বড় হইতেছিল তাদের ছোট মেয়ে জুডি? মূলত সেইদিকে ফোকাস কইরাই বানানো হইছে এই মুভিটা।

আমার ধারণা, ইওরোপে প্যারানরমাল মুভি, ফ্রিম্যাসনারি মুভি, অ্যাপোকেলিপ্টিক কন্টেন্ট সামনের সময়গুলাতে আরো জনপ্রিয় হইয়া উঠবে। একটা হন্টেড দুনিয়ায় ঢুইকা পড়ব আমরা, খুব তাড়াতাড়ি।