বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক আজ, আলোচনায় থাকছে যেসব বিষয়
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : জুন ০৯, ২০২৬
ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি, অনুপ্রবেশ, সীমান্ত অপরাধ দমন এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে নয়াদিল্লিতে আজ মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক।
এ উপলক্ষে সোমবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পৌঁছেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল। দিল্লি বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার এবং বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, তিন দিন ধরে দুই দেশের সীমান্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে এটি প্রথম মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক। ফলে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কাছে বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানো আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক পাচার, মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তে সহিংসতার মতো বিষয়ও আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সংযুক্ত। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান সংক্রান্ত নানা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও ফেরত পাঠানোর বিষয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ১ মাসে কয়েক হাজার অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আরও কয়েকশো ব্যক্তিকে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়ার আওতায় রাখা হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, দিল্লির বৈঠকে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, সীমান্তে টহল কার্যক্রম, সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপত্তা এবং আটক ব্যক্তিদের নিজ নিজ দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হতে পারে। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠক শেষে যৌথভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ সামনে আসতে পারে।























