রাষ্ট্র কি মানুষের চৈতন্য ও চিন্তায় হাত দিতে পারে?
সাদ রহমানপ্রকাশিত : জুন ০৯, ২০২৬
রাষ্ট্র যে মনে করে সে মানুষের বিকাশ, চৈতন্য, চিন্তা এইগুলিতে হাত দিতে পারে, এইটা রাষ্ট্রের নিজেকে না বোঝার সমস্যা। আজকে প্রধানমন্ত্রীর বরাতে প্রতিবেদন ছাপা হইলো, কর্মমুখী শিক্ষার প্রতি জোর দিতে গিয়া বাংলা, দর্শন ও ইতিহাস এই বিষয়গুলি উচ্চশিক্ষা থেকে বাদ দেওয়া হইতেছে।
এই বাদ দেওয়ার এখতিয়ার কি আসলেই প্রধানমন্ত্রীর আছে? আপনি `কর্ম` করবেন নাকি `চিন্তা` করবেন, তা আমি ঠিক কইরা দিবো, এইভাবে ভাবাটা প্রবলেমেটিক। যেকোনো রাষ্ট্রপ্রধান নিছক তার রাষ্ট্রকল্পনায় জোর দিতে পারেন। কিন্তু নাগরিকদের সামনে সব অপশনই থাকতে হবে।
আমি যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়া ফারসি ভাষা পইড়া বাকি জীবন ফারসি কবিতা পইড়া কাটায় দিতে চাই, সেই চয়েজের অধিকার আমার আছে। কোন প্রধানমন্ত্রী এইখানে বাধ সাধতে পারেন না। এমনিতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী `গরিবের জন্য উপযুক্ত` একটা রাষ্ট্র সারাক্ষণ চিন্তা করেন।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি, তার এই চিন্তা বাংলাদেশকে পিছনের দিকে নিয়া যাবে। শুধু এইটুকু ভাবাই যথেষ্ট, আপনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান, কিন্তু `বাংলা`কে আপনি উচ্চশিক্ষার বিষয় মনে করেন না।
ভোকেশনাল বা জব-ওরিয়েন্টেড শিক্ষাব্যবস্থা তৈরির জন্য বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বাতিল করার চিন্তা অতি হাস্যকর। যেকোন ইউরোপের ছাগলকেও আপনার এই পরিকল্পনা বলেন, শুইনা হাসবে।
লেখক: কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক























