অনন্ত সুজন
অনন্ত সুজনের ৫ কবিতা
প্রকাশিত : অক্টোবর ১০, ২০২৬
বুনন
পাবার আগেই পতন অনিবার্য হলে পৃথিবীর সব বনে, মনে, রণাঙ্গনে একত্রে জ্যোৎস্না নামে!
এ-জ্যোৎস্না গৃহত্যাগী, অশেষ যাযাবর
আমাদের পুরুষেরা পেশীতে প্রবল বিদ্যুত নিয়ে হেঁটে যায় উৎসবের দিকে—তাদের প্রত্যেকের হাতে বীজ ও বারুদ!
নারীরা আরও হরিণপায়ে এগিয়ে, সঙ্গমের গান অঙ্গে অঙ্গে, সাজিয়েছে মাদুর ও মদিরা!
নাচুক তবে গ্রহরাশি, নক্ষত্রের অনিবার্য উদোম আলোয়! ঘটে যাক, রটে যাক কামের কাফফারা!
আমাদের উৎপাদিত অদম্য শিশুরা এবার মানুষ হয়ে বেড়ে ওঠবে!
প্রণয়তীর্থদিনে
তোমাকে পাহারায় রেখেছে অপার মগ্নতা। মেঘের তাঁবুতে হিজাব সরিয়ে পেতেছো বিভাবেদী। বনভূমির সবুজ বিপ্লবে নূরের বল্কল, বিপুল উৎসব। নক্ষত্রের উদার আলো এখন থেকে বড্ড নিষ্প্রয়োজন!
পৃথিবীর কী হলো হঠাৎ—সকল শব্দ সংগীতে প্রবাহিত! গ্রীষ্মমাসে দূরাগত বাতাস বরফের আদর বিলিয়ে শীতকালকে দাঁড় করিয়ে রেখেছে! ভুল করে হলেও যে চোখ তোমাকে দেখেছে একবার—সেই চোখ আয়ুষ্মান, ইরানি ড্রোনের সমান! কবন্ধ অন্ধকারেও স্পষ্ট দেখার সুগন্ধ আর উজ্জ্বলতা ছড়ায়।
পরিযায়ী পাখিদের সবাই ছিল আমারই প্রেরিত প্রণয়ের দূত! তোমার হৃদয়ের গোপন খবরে কর্ণকুহর রক্তিম করে রাখছে। এ-কারণেই মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে নিজেরই ধমনী খুলে খুলে নির্মাণ করেছি—অধিকারের বেষ্টনী ও পথ।
তোমার ভেতর অস্ত যাব বলে জড়িয়ে ধরেছি কাবার গিলাফ—কতশত অশ্রুবিন্দু অনর্গল ঝরেছে মক্কার পাথরে, জানে আল্লাহ আর তাঁর আবাবিল।
পরিণাম
তোমাকে যে চায়নি
নিশ্চিত সে জাহান্নামি
চেয়েও যে পায়নি
সেই অভাগা আমি!
ঋষি
গ্রহে গ্রহে বিবাদ সংগঠিত হবার পর
উদ্ধার করা গেল একটি গৃহত্যাগী নক্ষত্র
পদাতিক বেশে ভূমন্থনে জড়িত।
উড়োঝাঁক ভেঙে সকল উত্তাপ নিয়ে একাকী
অবলোকনের নির্জন গুহায়। জগৎ-জঞ্জাল দু`হাতে
সরিয়ে অবিরাম ছড়ায় নক্ষত্র-রেণু।
এই যে ধ্যান, প্রগাঢ় সংলাপ—
চোখ বন্ধ করে ছুটে যায় উত্তরের হাওয়ায়
তার নির্ণয় দেখে গোপনে কেঁদেছে হাজারও বেদুঈন
সে আজ পশ্চিমের মেঘে দিয়েছে হানা
অসীমের মমতা ভেঙে যা কিছু ঝরে পড়ে
মগ্নতার পদমূলে। বলতেই হয়, বর্ষণের অনভিজ্ঞ চিৎকার আসন্ন ঋতুতে বাড়ি ফিরে যাবে।
যেন নৈঃশব্দ্যের ব্যাপক রীতি হতে সহসা উদ্ভাসিত
বিক্রম—পর্বতের অখণ্ড আবেগ।
এই সংবেদ ছড়িয়ে পড়ে বালিকা বেণীর মতো
বিশ্ব ভূগোলে—চূর্ণ করে কঠিন শিলা ও পাথর
অনুভবের গোপন মহলে বসন্তের আঘাতে
যে পাঠক আরেকবার ঘুরে দাঁড়াতে চায়
গোত্র ত্যাগ করে চিন্তারেখায়— পিপাসাপুস্তকে
শরৎ
কাশফুল তোমাকে আনন্দ দেয়
বিস্তীর্ণ বাগান হয়ে দাঁড়িয়ে আছি—
নক্ষত্রের দুধের মতো সঘন সাদায়
পাঁজর খুলে বিছিয়ে দিয়েছি
লোমশ বুকের ইরানি কার্পেট
ইচ্ছের গোপন রঙে হবে সংবর্ধনা
মসৃণ শিরদাঁড়ার সামান্য নিচে
আটকে রেখেছি সবুজ বাতাস
আকাঙ্ক্ষার নীরব কোলাহল
শরৎকাল প্রায় চলেই যাচ্ছে
তুমি অদেখার যন্ত্রণায় নৃত্য করছ
আগামী বছর জন্মই নেব না!
























