সাহিত্যিক মোহাম্মদ বরকতুল্লাহর আজ মৃত্যুদিন
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : নভেম্বর ০২, ২০২৬
সাহিত্যিক ও ধর্মতাত্ত্বিক মোহাম্মদ বরকতুল্লাহর আজ মৃত্যুদিন। ১৯৭৪ সালের ২ নভেম্বর ঢাকায় তিনি মারা যান। ১৮৯৮ সালের ২ মার্চ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ঘোড়াশাল গ্রাম তার জন্ম। কবিরাজি চিকিৎসক হাজী আজম আলী তার পিতা।
১৯১৪ সালে শাহজাদপুর হাইস্কুল (বর্তমানে শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়) থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর রাজশাহী কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯১৬ সালে প্রথম বিভাগে আইএ পাশ করেন।
১৯১৮ সালে তিনি দর্শনে অনার্সসহ দ্বিতীয় বিভাগে বিএ পাস করেন। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে দর্শন শাস্ত্রে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন ১৯২০ সালে। ১৯২২ সালে তিনি আইনশাস্ত্রে ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯২৩ সালে বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি আয়কর কমকর্তা হিসাবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ১৯২৪ সালে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, ১৯৩০ সালে ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৯৩৬ সালে সাবডিভিশনাল অফিসার পদে উন্নীত হন।
১৯৪৪ সালে কলকাতায় রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সমবায় ও ঋণ সালিশি বিভাগে সহকারী সেক্রেটারি পদে যোগদান করেন। একই পদমর্যাদায় ১৯৪৫ সালে সিভিল সাপ্লাই বিভাগে বদলি হন। দেশ বিভাগের (১৯৪৭) পর ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে দায়িত্ব লাভ করেন।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (১৯৪৮-১৯৪৯) এবং ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (১৯৫০-১৯৫১) পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের ডেপুটি সেক্রেটারি পদে যোগদান করেন।
১৯৫৫ সালে এ পদ থেকে অবসর গ্রহণের পর একই বছর ৩ ডিসেম্বর বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হলে এর বিশেষ কর্মকর্তা (পরিচালক) তথা প্রধান নির্বাহ হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন।
সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত থাকলেও তিনি সৃজনশীল গদ্যশিল্পী। বাংলা ভাষায় দার্শনিক ও চিন্তামূলক প্রবন্ধ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। পারস্য প্রতিভা (প্রথম খণ্ড ১৯২৪ ও দ্বিতীয় খণ্ড ১৯৩২) এবং মানুষের ধর্ম (১৯৩৪) তার বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থ।
পারস্য প্রতিভায় ইরানের খ্যাতনামা কবিদের জীবনী ও তাদের সাহিত্যকর্ম, ফার্সি সাহিত্যের প্রেক্ষাপট, সুফিমত ও বেদান্ত দর্শন এবং মানুষের ধর্মে জগৎ ও জীবন, ইহলোক ও পরলোক, জড়প্রকৃতি ও মনোজগৎ, জীবনপ্রবাহ ও আত্মা ইত্যাদি দুরূহ তত্ত্ব ক্লাসিক্যাল বাংলা গদ্যে উপস্খাপিত করেছেন।
তার লেখা অন্য বইগুলো হচ্ছে: কারবালা ও ইমাম বংশের ইতিবৃত্ত (১৯৫৭), নবীগৃহ সংবাদ (১৯৬০), নয়া জাতির স্রষ্টা হজরত মোহাম্মদ (১৯৬৩), হজরত ওসমান (১৯৬৯), বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ধারা (১৯৬৯)।
প্রবন্ধে বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬০) এবং নয়াজাতির স্রষ্টা হজরত মোহাম্মদ গ্রন্থের জন্য দাউদ পুরস্কার (১৯৬৩) লাভ করেন। পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধিতে ভূষিত (১৯৬২) হন এবং ‘প্রেসিডেন্ট পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পদক লাভ (১৯৭০) করেন।
























