এহসানুল ইয়াসিনের ৪ কবিতা
প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
দরিয়া নগর
তোমাকে চিনি অল্পবিস্তর
প্রেম দাও প্রেম নাও—
বাকিটা দরিয়া নগর!
ভাসালে ভাসান, অকূলে পাষাণ
ঘন কুয়াশায় জাগে চরাচর
আমাকে ডুবাও—
মহাকাল নিরন্তর।
দরিয়ায় পথের ভূগোল পাখি!
তবুও নিশ্চিত গন্তব্যে
দিনরাতের কত আকুতি
গান তো থেমে নেই— অবিরাম বর্ষণ।
প্রেমের খেলায় আগুন সংশয়
পানি ঢালো বাতাস দেবে প্রশ্রয়।
তোমাকে দিলাম
অতল গহিনের মালিকানা
আমাকেও নিয়ো
যদি হয় লাল নীল সংসার।
তোমাকে চিনি অল্পবিস্তর
প্রেম দাও প্রেম নাও—
বাকিটা দরিয়া নগর!
দুই.
যদি হারায় অতলে ডুবে যেও অসীমে
তোমাকে খাওয়াব বরুণ ফলের পিঠা।
কত পথ কত নদী মিলিয়ে গেল ক্ষুধায়
জীবন তোমাকে নেবে না খুব সহজে
জানো তো—
হাওয়া বড় নির্মম, প্রত্যাঘাতে থামে না।
স্রোতে ভেসে ফিরে যদি সেই পরম
আগলে রেখো বুকে।
পরমে পরম মেলে— আঁধারে মানুষ।
সময়ে ডেকে নিয়ো উড়াব ফানুস!
সাপ যদি ফণা তোলে
সহসা পথ ভুলে
তুমি দেখ আমি আছি
শরীরের খুব কাছাকাছি।
জীবনও সাপের মতো
সোজা কিন্তু তেজস্বী!
আলো নেভে আলো আসে
হারায় দিনরাত্রি
চোখে কাম জাগলে মরণও বাসি!
আমাকে নাও ঘাটের মরায়
সময় সাক্ষাৎ মাঝি
পারো যদি নিয়ে এসো
লগি বৈঠার লাঠি।
হাওয়ায় উড়াব পাল
সামনেই দরিয়া নগর।
সুন্দরের নামলিপি
কিছুই ফুরোয় না
তোমার রং— জলের কাটাকাটি
ফিরে আসে অবিশ্বাস্য ঘোরে
বাষ্পীভূত জলের মতো
তোমার নামে।
এই যে তোমাকে দেখা
এক জীবনে বহুবার
আনন্দ বিষাদে
প্রতিবারই মনে হয় প্রথম।
সরিষার ঘানি টানে জীবন
অমিয় সুধা কারা পান করে?
আমি জানি না— দোলাচল সংশয়
বাতাসে কান পাতে শকুন
তোমার চোখের মাপে ওঠে সূর্য।
কেউ কি তা দেখে?
মানুষের স্মৃতিতে জেগে থাকে সুন্দর
তোমার স্পর্শকাতর অঙ্গের নামলিপি।
তোমাকে বহুবার দেখার মতো
ফিরে দেখি— অবাক বিস্ময়ে
অচেনা ফুলের তীব্র গন্ধে!
আহা জীবন আমার!
তোমাকে দেখার সাধ
কোনোদিনই মিটল না।
রক্তজবা চোখে
তোমাকে পেয়েছি নতুন ধানের গন্ধে
ফালি ফালি রোদ— তুমুল আনন্দে।
তোমাকে পেয়ে দুপুর শিস বাজায়
দোয়েলের রক্তজবা চোখের পাতায়!
আমি তখন পানপাতায় তোমাকে দেখি।
শস্যের দানার মতো শরীর জাগে
অতি ধীর পায়ে নামে সতর্ক সন্ধ্যা।
বলো কোথায় যাব?
চারদিকে হাঁকডাক— তীব্র দাবদাহ!
পাখি ডাকে— গন্তব্যহীন ওড়াউড়ি
ধারণার অধিক দীর্ঘ জীবন তোমার কাছে ঋণী!
সহসা বৃষ্টি
সহসা বৃষ্টি এলো রোদ্দুরে
রাজপথ ঘরদোর লোকাল বাস
ট্রেনের ছাদ জলে ভেসে যাচ্ছে।
অদ্ভুত মৃত্যু ঘটে গেল শহরের!
বয়স্ক লোকটার গলার
হুকহুক কাশির শব্দে বাতাস ভারী
ভিক্ষুক পথচারী আগুন্তক মুখোমুখি
টোকাই শিশুটি মায়ের খোঁজে।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে আলসেমি
রাজনীতিবিদ অসহায়
আমলাতন্ত্র লাল ফিতেতে
চোখ রাখে। বৃষ্টি অঝোর বৃষ্টি!
তোমার সঙ্গে দেখা হবে না
এই দুঃখে দুপুর কেঁদে উঠল
জন্মের আনন্দ জীবনের মতো
তবুও বেদনা নিয়ে এলো বৃষ্টি।
বৃষ্টি সহসা বুকের ভেতর নীরবে
অশান্ত পৃথিবীতে তুমুল গর্জনে।
























