পশ্চিম তীরে ইজরায়েলি অভিযান, ধরপাকড়

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : অক্টোবর ২৪, ২০২৬

অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে ১৫টি শহর ও জনপদে অভিযান চালিয়ে বহু ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইজরাইলি বাহিনী। এর আগে হেবরনে হামলায় ২ ইজরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর পুরো পশ্চিম তীরে অবরোধের নির্দেশ দেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

শুক্রবার গভীর রাতে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, হেবরনে তাদের অভিযান শুরু হয়েছে এবং তা কয়েক দিন চলবে। পাশাপাশি পশ্চিম তীরের অসংখ্য এলাকায় অন্যান্য বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ছিল পশ্চিম তীরের নাবলুস, জেনিন, তুবাস ও কালকিলিয়াসহ কয়েকটি শহর ও জনপদ। নাবলুসের জালুদ ও কারিউত গ্রামে ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে ইজরায়েলি বাহিনী। জেনিনের কাছে আরাবেহ ও বুরকিনেও কয়েকজনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া তুবাস ও এর কাছের আক্কাবা শহরে ঢোকে ইজরায়েলি সেনারা।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলে হেবরনে তিনতলা একটি ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি বুলডোজার। ভবনটির বাসিন্দাদের মালপত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হেবরনের আইন দেইর বাহা এলাকা ও আশপাশের কয়েকটি জায়গা থেকে শত শত ফিলিস্তিনি পরিবারকে জোর করে বাড়িঘর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পশ্চিম তীরের পূর্বাঞ্চলে জেরিকো শহর ও এর কাছের আকাবাত জাবর শরণার্থীশিবিরেও ঢোকে ইজরায়েলি বাহিনী।

শুক্রবার গভীর রাতে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তেলেম নামের একটি ইজরায়েলি বসতির কাছে রিজার্ভ সেনাদের একটি ব্যাটালিয়নের ওপর হামলা চালানো ২ ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীকে হত্যা করেছে তারা। ওই হামলায় ২ ইজরায়েলি সেনা নিহত ও  তিনজন আহত হন।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, তেলেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইজরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ।

এ হামলা ও অবরোধ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে উত্তেজনা বাড়ছে। ইজরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের সহিংসতার পাশাপাশি জলপাই সংগ্রহকারী ফিলিস্তিনিদের ওপরও হামলা বেড়েছে। আসন্ন ইজরায়েলি নির্বাচনের আগে এসব সহিংসতা আরও বাড়ছে।

ইজরায়েলের উগ্র জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ২ সেনা নিহত হওয়ার পর পশ্চিম তীরের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইজরায়েলি সরকার সেখানে বহু বসতি নির্মাণে উৎসাহ দিচ্ছে।

ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক দল প্যালেস্টিনিয়ান ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের মহাসচিব মুস্তাফা বারঘুতি বলেন, “ইজরায়েলি মন্ত্রীদের উসকানিমূলক বক্তব্য পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে। অবরোধের ফলে পশ্চিম তীরের প্রতিটি শহর ও গ্রাম ছোট কারাগারে পরিণত হবে এবং তল্লাশিচৌকি বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “ফিলিস্তিনিদের ওপর সমষ্টিগত শাস্তি চাপিয়ে দিলে পরিস্থিতির বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।” সূত্র: আল জাজিরা