যুদ্ধ শুরু হলে তেলের দাম ছাড়াতে পারে ১৫০ ডলার

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : অক্টোবর ২৬, ২০২৬

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের জ্বালানি কমিশনের প্রধান হোজ্জাতুল ইসলাম মুসা আহমাদি। রোববার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা  জানান।

হোজ্জাতুল ইসলাম মুসা আহমাদি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে আবার যুদ্ধ শুরু হলে এবং বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হলে দাম আরও বাড়তে পারে। ইরান তেলের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি চাপ বজায় রাখতে চায়। জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলো বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়বে।”

তিনি আরও বলেন, “এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুতও কমছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রসহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।”

হোজ্জাতুল ইসলাম মুসা আহমাদি বলেন, “তেলের দাম বাড়লে শুধু জ্বালানি খাতেই এর প্রভাব সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সামগ্রিক জ্বালানি খরচও বেড়ে যাবে। এতে আমদানিনির্ভর তেল ব্যবহারকারী দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও দেশের ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে আরও বেশি চাপের মুখে পড়তে হবে। সংকট যত দীর্ঘ হবে, এর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিণতি মোকাবিলা করাও তত কঠিন হয়ে উঠবে। ইরান তেলের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি চাপ বজায় রাখতে চায়।”

হোজ্জাতুল ইসলাম মুসা আহমাদি বলেন, “জ্বালানি খাতে ইরানের কৌশলগত অবস্থান এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরক্ষাসক্ষমতা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তেলের দাম কমতে না দিলে জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে। এতে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যয় বাড়বে।”

ফ্রান্স, পর্তুগাল, আলবেনিয়া ও ইতালিসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের জ্বালানিসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন আহমাদি। সতর্ক করে বলেন, “তেল সরবরাহে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও চাপে পড়তে পারে।” সূত্র: মেহের নিউজ