উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটে বাংলাদেশ
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : অক্টোবর ২১, ২০২৬
২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬-এর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির এই হার বাস্তবায়িত হলে তা ১৯৮৮-৮৯ অর্থবছরের পর দেশের সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি হবে। এছাড়া আগের অর্থবছরের ৮ দশমিক ৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতির তুলনায় এবার তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। এই অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দিলেও আগামী বছরগুলোতে ঋণ পরিশোধের বাড়তি দায় বড় চাপ তৈরি করতে পারে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশকে প্রায় ২৫ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে মূল ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ১৮ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং সুদ ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল, ঢাকা মেট্রোরেল এবং বিমানবন্দর সম্প্রসারণের মতো বড় প্রকল্পে নেওয়া বৈদেশিক ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ায় বা শেষ পর্যায়ে থাকায় এই দায় বাড়ছে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম বাড়ার চাপ অব্যাহত থাকবে। জ্বালানি তেল, গ্যাস, সার ও ভোজ্যতেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ আমদানিকৃত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারদর এবং ডলারের বিনিময় হারের ওপর নির্ভর করে আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের চাহিদা প্রভাবিত হবে।
প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিনিয়োগের গতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রপ্তানি আয় এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ধরে রাখতে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল সহজ করা, বিনিময় হারে বাস্তবসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসার উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
রিজার্ভের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, প্রবাসী আয় বৈধ পথে আনা এবং বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ানো, নতুন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিশোধ সক্ষমতা বিবেচনা করা, বিলাসী পণ্যের চাহিদা কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সচল রাখা এবং মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজার তদারকি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
























