ইজরায়েলি হামলায় একদিনে গাজায় নিহত ৭

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : অক্টোবর ০৯, ২০২৬

বৃহস্পতিবার গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আল-সুদানিয়া, রাফাহর উত্তর-পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এবং খান ইউনিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হামলা চালিয়ে ৭ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইজরায়েলি বাহিনী। এসব হামলায় আহত হয়েছে ১২ ফিলিস্তিনি।

এসব অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছয়জনই প্রাণ হারায় গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকায়। গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমে আল-তাওয়াম এলাকার মিসরীয় ক্যাম্পে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় নেওয়া একটি তাঁবুতে হামলা চালায় ইজরায়েল। হামলায় আহত মোহাম্মদ রাজাব ওয়ারশ আগা পরে মারা যান।

ফিলিস্তিনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ইজরায়েলি বিমান হামলায় এক নারী ও এক শিশু নিহত হয়। আহত হয় কয়েকজন। এর আগে ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উত্তরাঞ্চলীয় মাঠ হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, হামলায় দুজন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শহরটির দক্ষিণাঞ্চলের তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হলে আরও দুজন নিহত হয়। আহত হয় তিনজন, যাদের একজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের আল-শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আমের প্রজেক্ট এলাকায় একটি তাঁবুতে ইজরায়েলি গোলাবর্ষণে প্রাণ হারান আহলাম মুবারক (৩০) নামের এক ফিলিস্তিনি নারী। আল-শিফা হাসপাতালের এক চিকিৎসক তার মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্বামী ও দুই সন্তান আহত হয়েছে। স্বামীর অবস্থা গুরুতর।

এছাড়া প্রায় ১ সপ্তাহ আগে গাজা সিটিতে একটি গাড়িতে ইজরায়েলি বিমান হামলায় আহত আহমেদ খামিস আবু নাজা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গাজা সিটির উপকূলীয় এলাকায় ফিলিস্তিনি নৌযান ও উপকূল লক্ষ্য করে ইজরায়েলি নৌবাহিনী গুলি এবং গোলাবর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। একইভাবে উত্তর-পশ্চিম গাজার আল-সুদানিয়া এলাকাতেও গোলাবর্ষণ হয়েছে।

দক্ষিণ গাজার রাফাহর উত্তর-পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি বাড়িতে ইজরায়েলি গোলাবর্ষণে আহত হয় সাতজন। খান ইউনিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইজরায়েলি বাহিনীর অবস্থান করা এলাকাগুলোতে আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বানি সুহেইলা গোলচত্বরের কাছে ইজরায়েলি সেনাদের ছোড়া ধোঁয়া বোমা থেকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের কয়েকটি তাঁবুতে আগুন ধরে যায়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত সম্মত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ইজরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৪৬৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫ হাজার ১৬১ জন।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সাল থেকে গাজা উপত্যকায় স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে কঠোর অবরোধ বজায় রেখেছে ইজরায়েল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইজরায়েলে হামলার পেছনে এই অবরোধকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ফিলিস্তিনি ও জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় ইজরায়েলি হামলায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার। উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা এখনও ইজরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। পাশাপাশি, গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে মামলা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে যুদ্ধবিরতির কাঠামো ও আঞ্চলিক শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হলেও তা কার্যকর অগ্রগতিতে পৌঁছায়নি। নিরস্ত্রীকরণ ও ইজরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রায় প্রতিদিনই ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি