গণিতজ্ঞ ভূপতিমোহন সেনের আজ মৃত্যুদিন
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
পদার্থবিদ ও গণিতজ্ঞ ভূপতিমোহন সেনের আজ মৃত্যুদিন। ১৯৭৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। ১৮৮৮ সালের ২১ মে রাজশাহীতে তার জন্ম। পিতা রাজমোহন সেন ছিলেন রাজশাহী সরকারি কলেজের গণিতের অধ্যাপক ও উপাধ্যক্ষ। মাতা নিশিতারা দেবী ছিলেন নিষ্ঠাবান ধার্মিক মহিলা।
ভূপতিমোহন সেনের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে এবং পরে রাজশাহী কলেজে। তিনি এন্ট্রান্স ও এফএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণির বৃত্তি পান। বিদ্যালয় শিক্ষা শেষ করে তিনি ভর্তি হন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে। ১৯০৮ সালে ট্রিপল অনার্সসহ বিএসসি পাস করেন।
গণিতে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয়, পদার্থবিদ্যায় দ্বিতীয় শ্রেণি এবং রসায়নে দ্বিতীয় শ্রেণি পান। ১৯১০ সালে তিনি স্নাতকোত্তরে ফলিত গণিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর কিংস কলেজের ফাউন্ডেশন স্কলার হয়ে কেমব্রিজ যান।
১৯১২ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংলার হন এবং ১৯১৪ সালে প্রথম ভারতীয় হিসাবে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ স্মিথস পুরস্কার লাভ করেন। ১৯১৫ সালে ভারতে ফিরে আসার পর, তিনি `ইন্ডিয়ান এডুকেশন সার্ভিস`-এ যোগ দেন। ১৯১৫ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত ঢাকা সরকারি কলেজের গণিতের অধ্যাপক এবং ১৯২১ হতে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক ছিলেন।
১৯২৩ সাল কলকাতায় ফিরে আসেন এবং প্রেসিডেন্সি কলেজে (বর্তমানে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) গণিতের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৩০ সাল পর্যন্ত এই পদে নিযুক্ত ছিলেন। ১৯৩৪ সালে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যক্ষ হন এবং ৮ বছর অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৪৩ সাল `ইন্ডিয়ান এডুকেশন সার্ভিস` হতে অবসরের পর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ প্রেসিডেন্সি কলেজের বিশুদ্ধ গণিতের খণ্ডকালীন অধ্যাপক নিযুক্ত হন এবং একই পদে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৫৪ সালে অবসর নেন।
কোয়ান্টাম মেকানিক্স ও ফ্লুইড মেকানিক্সের ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ অবদান রেখেছেন। ডা. নীলরতন সরকারের কন্যা শান্তাকে বিবাহ করেন ভূপতিমোহন সেন। তাদের দুই পুত্র ও এক কন্যা ছিল। পুত্রেরা হলেন: মনীষীমোহন সেন ও সুব্রতকুমার সেন।
ভূপতিমোহন সেনের গবেষণার ক্ষেত্র ছিল: ডিফারেনশিয়াল জ্যামিতি, হাইড্রোডাইনামিকস ও আধুনিক পদার্থবিদ্যা। ১৯৩৩ সালে বিজ্ঞান পত্রিকা নেচারে তার একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। তার টাইডাল অসিলেশন অন এ স্ফেরোয়েড শিরোনামের গবেষণাপত্রটি কলকাতা গাণিতিক সমিতি তথা কলকাতা ম্যাথমেটিকাল সোসাইটির বুলেটিনে প্রকাশিত হয়েছিল।
ভূপতিমোহন সেনের লেখা দুটি বই হচ্ছে: এ নিউ ক্লাসিক্যাল থিওরি অফ দ্য ফোটন ও ইলেক্ট্রন এবং লাইট অ্যান্ড ম্যাটার: এ নিউ ক্লাসিক্যাল থিওরি অফ লাইট অ্যান্ড ম্যাটার। গ্রন্থ দুটি ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ এবং বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের ওপর বিদ্যমান তত্ত্বগুলির সমালোচনা করেই রচিত হয়।
























