প্রতি ৯০ মিনিটে গাজায় একজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করছে ইজরায়েল
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : অক্টোবর ০৯, ২০২৬
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইজরায়েলি হামলায় হামলায় গড়ে প্রতি ৯০ মিনিটে একজন ফিলিস্তিনি নিহত বা আহত হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবিক সহায়তা সংস্থা ইসলামিক রিলিফ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটির হিসাবে, ১ বছরে অন্তত ১ হাজার ৪৫৪ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩২০ শিশু। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে প্রায় একজন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইজরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৪৭১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিহত হয়েছে চারজন এবং আহত হয়েছে ২৮ জন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইজরায়েলি হামলায় গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ২৫৪।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ইজরায়েলি বাহিনীর হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়। একই দিন মধ্য গাজার খান ইউনিসে একটি বাড়িতে ইজরায়েলি বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়।
ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনের পশ্চিমে ইয়ামুন এলাকায় ইজরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
ইসলামিক রিলিফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইজরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত তথাকথিত হলুদ রেখাকে কাজে লাগিয়ে গাজার প্রায় ৬৫ শতাংশ এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রায় ২১ লাখ মানুষের এই ভূখণ্ডের বাকি ৩৫ শতাংশ এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে।
গাজায় কর্মরত ইসলামিক রিলিফের এক সহায়তাকর্মী নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বাস্তবে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবির ও জনাকীর্ণ এলাকাগুলোতেও হামলা চালানো হচ্ছে। ফলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এখনও কাটেনি।”
ইসলামিক রিলিফের অভিযোগ, ইজরায়েল এখনও গাজায় আশ্রয় তৈরির সামগ্রী, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। এতে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যসেবার অর্ধেকেরও বেশি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ ২০ হাজারের বেশি রোগীকে চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
গাজায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার জন্য বিশ্বনেতাদের আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক রিলিফ।
সংস্থাটির মতে, কেবল কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেই চলবে না; মানুষের প্রাণহানি বন্ধ এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। নামমাত্র যুদ্ধবিরতিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয় থাকার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হতাহত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা ও আশ্রয়সংকট অব্যাহত থাকায় গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
























