লঞ্চ ভাড়া বাড়ল
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর এবার বাড়ানো হলো লঞ্চ ভাড়া। প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে লঞ্চের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২০ পয়সা করে বাড়ানো হয়েছে। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সড়ক ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও এখন পর্যন্ত রেলের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভাড়া না বাড়ালে রেলের লোকসান আরো বাড়বে বলে মন্ত্রণালয় থেকে চাপ রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, ব্যবস্থাপনার ব্যয় বৃদ্ধিসহ সবকিছু বিবেচনায় নৌযান মালিকরা ১৫ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিলেন। তবে যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে ৭.৫৪ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এছাড়া সর্বনিম্ন ভাড়া আগে ৩২ টাকা ছিল। বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধি আমাদের কাম্য না। কিন্তু বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না। এজন্য জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই আমরা সর্বনিম্ন ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করেছি। ভাড়া বৃদ্ধির নামে নৈরাজ্য কিংবা তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কাউকে স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ দিইনি।”
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন মালিকরা। তারা একজন যাত্রীর যাতায়াতে প্রতি কিলোমিটারে ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর জন্য নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন।
ওই চিঠিতে তারা প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য বিদ্যমান ২ টাকা ৯৫ পয়সার স্থলে চার টাকা ৪৫ পয়সা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা ৫২ পয়সার স্থলে ৪ টাকা ২ পয়সা করার কথা বলেছে। অন্যথায় জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে দেশে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ফলে বাসের ভাড়া দূরপাল্লা ও রাজধানীসহ শহরে কিলোমিটার প্রতি ১৭ পয়সা করে বাড়ানো হয়।
মঙ্গলবার সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী বাসভাড়া ২০ পয়সা বাড়ে। জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে ৩ পয়সা ভাড়া কম নিতে বলা হয়েছে। সে হিসেবে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ১৭ পয়সা হয়। এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন বাসের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১১ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এবার বাড়ানোর আগে পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা। আর মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা।
অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে ৫২ আসনের বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা বাড়ে। তবে দূরাল্লার পথে অনেক নন-এসি বাসের আসন কমিয়ে ৪০ বা এর চেয়ে কমে নামিয়ে আরমাদায়ক করা হয়েছে। সেগুলোয় ভাড়া আরো বেশি। এছাড়া যুক্ত হতো সেতু ও সড়কের টোল। এবার নতুন করে ১৭ পয়সা বাড়ার কারণে নতুন করে নির্ধারিত হবে বাসভাড়া।
শেখ রবিউল আলম বলেন, “গতবার যখন ১৫ টাকা বেড়েছিল ডিজেলের দাম, তখন আমরা রেলের ভাড়া বাড়াইনি। এবার আবার ২০ টাকা যখন বেড়েছে জ্বালানির দাম, রেলের ভাড়া বৃদ্ধির চাপ আছে রেল মন্ত্রণালয় থেকে। আপনারা জানেন যে, রেলে তো আমরা লোকসান করি। এ জ্বালানির দাম যা বেড়েছে, আর এর সঙ্গে যদি ভাড়া না বাড়াই, আমরা ১০ বছর রেলে ভাড়া বাড়াইনি। তার জন্য কি কেউ ধন্যবাদ দিয়েছেন? ১০ বছর ভাড়া বাড়াইনি। আবার গতবার তেলের দাম বেড়েছে, বাড়াইনি।”
তিনি আরও বলেন, “তার মানে কী হচ্ছে, জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতাও যেমন আছে, মনোযোগটাও আছে। এবার রেলের ভাড়া বাড়ানোর খুব চাপ রয়েছে। তা না হলে লোকসান আরো বাড়বে। তারপরও এখনো ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আমরা চাইব যে, ভাড়াটা যাতে না বাড়িয়ে অ্যাডজাস্ট রাখা যায়। এটা এখনো পর্যন্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, ওই ভাড়া থাকছে। দেখা যাক, আর কিছুদিন অপেক্ষা করি, চাপটা কেমন হয়।”
রেলের ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমি রেলের যারা আছেন, মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন, ভাড়া কালেকশন নির্ধারণ যারা করেন, তাদের বলছি যে সর্বাত্মক স্যাক্রিফাইস করে অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করেন। একান্তই যদি একেবারে অপারগ হয়ে যায়, যেমন আমি আপনাকে বলি, আমাদের ফেরিভাড়া বাড়ানোর অনেক দাবি ছিল, লস হচ্ছে ফেরিতে। বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এখানে আছেন। তিনিও উপস্থাপন করেছিলেন যে আজ তাদের ভাড়া একটা যৌক্তিক পর্যায়ে বাড়ানোর জন্য, দীর্ঘদিন ভাড়া বাড়ানো হয় না।”
তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাক বা বাস মালিক সমিতি, তারাও এগ্রি করেছে যে ফেরিভাড়া বাড়ানো উচিত। আপনারা জানলে অবাক হবেন যে ফেরি লস করছে। কিন্তু জনস্বার্থে সেটা আমরা আজকেও কিন্তু ওর মধ্যে টিকেছি। যখন একটা প্রতিষ্ঠান একেবারে অকেজো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি হয়, ডিসফাংশনাল হয়ে যায়, এটা তো একটা সার্ভিস। এখানে বেতন আছে, জ্বালানি আছে, মেইনটেন্যান্স আছে। আর আমাদের সরকার তো আর খুব বড় সাবসিডি সরকার কন্টিনিউ করতে পারে না।”
শেখ রবিউল আলম বলেন, “সেই জায়গা থেকে আমরা সর্বোচ্চ চাপ নিচ্ছি, ঝুঁকি নিচ্ছি, চেষ্টা করছি না বাড়ানোর। একান্তই হয়ে গেলে সেটাও আপনারা জানবেন। নিশ্চয়ই সেটা যৌক্তিকভাবে বাড়বে এবং আপনাদের জ্ঞাত করেই বাড়বে। তবে এখনো পর্যন্ত রেলের ব্যাপারে আমরা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিইনি।”
























