হাম উপসর্গে ১৩ শিশুর মৃত্যু

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৮ ঘণ্টায় আরও ১৩ শিশু মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুধবারের দেওয়া বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১১ জন মারা গেছে। এ হিসাবের সঙ্গে ২১ সেপ্টেম্বরের চারজনের মৃত্যুর তথ্য যোগ করা হয়। এর আগের দিন মঙ্গলবার হামের উপসর্গ নিয়ে দুজন মারা যায়।

১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৬। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৭৫ জন মারা যায়। ফলে গত ৪৮ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১৩।

মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন করে হাম শনাক্ত হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। ২৪ ঘণ্টায় ১১৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর নিশ্চিত হাম শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৮৫১। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৫৭ জন শনাক্ত হয়েছে।

এতে চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ- দুই শ্রেণি মিলিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৭০ জন শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট মৃত্যুর বড় অংশই হামের উপসর্গ নিয়ে। মোট ১ হাজার ৭৬ মৃত্যুর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০১ জন। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৯৭৫ জন।

তবে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুকে একই হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ উপসর্গ থাকা সব রোগীর ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয় না। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর পাশাপাশি সন্দেহভাজন রোগীর তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে দ্রুত অন্যদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া হামের প্রধান উপসর্গ। শিশুদের ক্ষেত্রে রোগটি জটিল আকার ধারণ করলে নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা বা অন্যান্য গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

হাম পরিস্থিতির বর্তমান পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, নিশ্চিত আক্রান্তের পাশাপাশি উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। এক দিনে ১ হাজার ১৫৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া এবং একই সময়ে ১১ জনের মৃত্যু পরিস্থিতির ওপর বাড়তি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৮৫১ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জনকে হামের উপসর্গযুক্ত বা সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব তথ্যের সঙ্গে প্রতিদিন নতুন রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা যুক্ত হচ্ছে।

সর্বশেষ সরকারি হিসাবে, দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু এখন ১ হাজার ৭৬। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু ১০১ এবং হামের উপসর্গে মৃত্যু ৯৭৫। আর চলতি বছরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৮৫১ জনের এবং হামের উপসর্গ নিয়ে সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জনে। গত ৪৮ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে ১৩ শিশুর মৃত্যু নতুন করে দেশের হাম পরিস্থিতির ভয়াবহতার বিষয়টি সামনে এনেছে।