এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, চুক্তি আজ

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : অক্টোবর ০৭, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পর বহর সম্প্রসারণ ও ভবিষ্যৎ উড়োজাহাজ পরিবহন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

এ উপলক্ষে আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও এয়ারবাসের মধ্যে ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ অধিগ্রহণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সম্প্রতি বলেন, “আমরা ১০টি এয়ারবাস কিনছি, ইনশাআল্লাহ। অক্টোবরে চুক্তি হয়ে যাবে। এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।”

এই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার চুক্তি হচ্ছে। মঙ্গলবার বিমানের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে এ তথ্য জানানো হয়। আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের গ্রাউন্ড লেভেলের উৎসব হলে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার।

বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এয়ারবাসের সঙ্গে এ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। চুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন রুট সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বাংলাদেশি এয়ারলাইনসের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন গন্তব্যে আরও ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নিউইয়র্কে পুনরায় ফ্লাইট চালুর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সিডনি রুট চালুর বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানে একটি ফ্লাইট চালু রয়েছে এবং সেখানে দ্বিতীয় ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

এয়ারবাস কেনার বিষয়ে কোনো চাপ বা শর্ত ছিল কি না, এ বিষয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “আমরা কোনো চাপে কিছু করছি না। আমাদের নিডসের কারণে করছি। আমাদের ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর জন্য করছি। কোন দেশ থেকে কতটি উড়োজাহাজ কেনা হবে, সেটি বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের প্রয়োজন ও অ্যাভিয়েশন খাতের স্বার্থ বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। কোন এয়ারক্রাফটটা কীভাবে আমাদের জন্য সুইটেবল, সেটা চিন্তা করেই কিন্তু আমরা করছি। বাংলাদেশ কীভাবে লাভবান হবে, কোথা থেকে কিনলে লাভবান হবে, কার কাছ থেকে কতটুকু কিনলে লাভবান হবে, সেসব আমাদের চিন্তা করা উচিত।”

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “অ্যাভিয়েশন খাতকে শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বহরে উড়োজাহাজ বাড়লে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে, নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালু করা যাবে এবং যাত্রীসেবার মানও উন্নত হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে টিকিটের দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি, আমাদের অ্যাভিয়েশন খাতকে শক্তিশালী করা দরকার। নিজস্ব এয়ারলাইনসের মাধ্যমে দেশের বেশি যাত্রী পরিবহন করা গেলে এ খাত থেকে আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থও দেশের মধ্যেই থাকবে।”

এর আগে বহর সম্প্রসারণে নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় বিমান। তারই অংশ হিসাবে দুই দফায় যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হয়। এবার এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ অধিগ্রহণের চুক্তি সেই পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।