বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বাড়বে, প্রবৃদ্ধি ৩.২ শতাংশে নামার আশঙ্কা
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : অক্টোবর ১৩, ২০২৬
চলতি বছর বাংলাদেশের দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবরের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
রেজিলিয়েন্স আন্ডার স্ট্রেইন, আর্জেন্ট চয়েসেস শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়লেও ২০২৭ সালে তা আবার কমে ৩ দশমিক ২ শতাংশে নামতে পারে এবং গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা চলছে। ২০২৬ সালে অপরিশোধিত তেলের গড় দাম গত বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৪৮ শতাংশ বাড়তে পারে।
জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের এই মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়, ডলারের রিজার্ভ, বিদ্যুৎ ও উৎপাদন খরচের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক চাপ তৈরি করছে।
আইএমএফের হিসাবে, এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অনেক কম। ২০২৬ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ, ভিয়েতনামের ৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং চীনের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে; যেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নেপালের সমান (৩.৬%)।
এছাড়া দেশের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবে ঘাটতি ২০২৬ সালে জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে তা আরও বেড়ে ২ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়ানোর বড় আশঙ্কা রয়েছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের বিনিয়োগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখলেও যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি, বাজেট ঘাটতি ও ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণের চাপ প্রবৃদ্ধির স্থায়িত্বকে ঝুঁকিতে ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে সরকারি অর্থব্যবস্থা টেকসই করা এবং মধ্যমেয়াদি দক্ষ ঋণ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণের জোর পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
























