শিক্ষাবিদ নীলরতন সরকারের আজ জন্মদিন
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : অক্টোবর ০১, ২০২৬
চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ স্যার নীলরতন সরকারের আজ জন্মদিন। দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার নেতড়াতে ১৮৬১ সালের ১ অক্টোবর তার জন্ম। তার আদি নিবাস যশোহর। পিতার নাম নন্দলাল সরকার।
নন্দলাল যশোরের দরিদ্র কায়স্থ পরিবারের মানুষ ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার জয়নগরে থাকতে আরম্ভ করেন। বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক যোগীন্দ্রনাথ সরকার নীলরতন সরকারের ভাই।
নীলরতন সরকার ১৮৭৬ সালে জয়নগর থেকে এন্ট্রান্স ও ক্যাম্পবেল মেডিকেল স্কুল থেকে ডাক্তারি পাশ করেন। এরপর তিনি মেট্রোপলিটান কলেজ থেকে এলএ ও বিএ পাস করেন। ১৮৮৫ সালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়ে তিনি ১৮৮৮ সালে এমবি হন।
এরপর ১৮৮৯ সালে এমএ এবং এমডি উপাধি লাভ করেন। মেট্রোপলিটান কলেজ থেকে এলএ ও বিএ পাস করে কিছুদিন তিনি চাতরা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে থেকে এমবি হয়ে তিনি মেয়ো নেটিভ হাসপাতালে হাউস সার্জেনের পদে যোগ দেন।
নীলরতন সরকার অল্প সময়ের মধ্যেই চিকিৎসক হিসাবে বিখ্যাত হন। তার পারিশ্রমিক ২ টাকায় আরম্ভ হয়ে আস্তে আস্তে ৬৪ টাকা অবধি হয়। তিনি দরিদ্র রোগীদের বিনা পয়সায় চিকিৎসা করতেন এবং তাদের বিনামূল্যে ওষুধ ও খাবার দিতেন।
১৮৯৩ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো এবং এরপর ফ্যাকাল্টি অফ সায়েন্স ও ফ্যাকাল্টি অফ মেডিসিনের ডিন হন। তিনি স্নাতকোত্তর কলা (১৯২৪ থেকে ১৯২৭ পর্যন্ত) ও বিজ্ঞান শিক্ষা বিভাগের (১৯২৪ থেকে ১৯৪৩ পর্যন্ত) সভাপতিও হয়েছিলেন।
১৮৯৫ সালে তিনি একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করেন। ১৯১৬ সালে কলেজের নাম হয় কারমাইকেল মেডিকেল কলেজ যা পরবর্তীতে আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নামাঙ্কিত হয়।
১৯১৮ সালে মেডিকেল এডুকেশন সোসাইটি গঠিত হয় কারমাইকেল মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন বিষয় দেখাশোনা করার জন্য। নীলরতন ১৯২২ সালে এর সভাপতি হন। এবং ১৯৪১ সাল পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। নীলরতন ১৯০৮ সালে বুট অ্যান্ড ইকুইপমেন্টের নির্দেশক হন।
বসু বিজ্ঞান মন্দির, বিশ্বভারতী এবং ভারতীয় যাদুঘরের ট্রাস্টি ছিলেন। ১৯১২ থেকে ১৯২৭ সাল পর্যন্ত তিনি বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য ছিলেন। তিনি সায়েন্স কলেজ অফ দ্য ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি এবং ন্যাশন্যাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনের (জাতীয় শিক্ষা পরিষদ) স্থপতিদের মধ্যে ছিলেন।
তিনি ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। জাতীয় শিক্ষা পরিষদের সম্পাদক হিসেবে তিনি এদেশে বৃত্তিগত প্রশিক্ষনের চেষ্টা করেছিলেন।
বেঙ্গল টেকনিক্যাল স্কুল, যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রভৃতি স্থাপনেও তার ভূমিকা ছিল। যাদবপুর যক্ষ্মা হাসপাতাল (বর্তমানে কুমুদশঙ্কর রায় যক্ষা হাসপাতাল) প্রতিষ্ঠায় তিনি সহযোগিতা করেছিলেন। ১৯১৯ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ছিলেন।
১৯২০ সালে তিনি লন্ডনে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয় সম্মেলনে যোগদান করেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডিসিএল এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তাকে এলএলডি উপাধি প্রধান করে। নীলরতন সরকারের দেশের সামগ্রিক উন্নতির প্রতি আগ্রহ তাকে বিভিন্ন শিল্প স্থাপনের দিকে উৎসাহিত করেছিল।
তিনি রাঙামাটি চা কম্পানি (পরবর্তী কালে ইস্টার্ন টি কম্পানি), ন্যাশন্যাল সোপ ফ্যাক্টরি এবং ন্যাশন্যাল ট্যানারি কম্পানিতে তার টাকা নিয়োগ করেন। নীলরতন সরকার রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ১৮৯০ থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন।
ক্যাম্বেল মেডিকেল স্কুল কলেজে রূপান্তরিত হয়ে তার নামে নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নামাঙ্কিত হয়। ১৮৮৮ সালে নীলরতন পূর্ববঙ্গের ব্রাহ্ম ধর্মপ্রচারক গিরিশচন্দ্র মজুমদারের মেয়ে নির্মলাকে বিবাহ করেন। ১৯৪৩ সালের ১৮ মে নীলরতন সরকার মারা যান।
























