বাড়ছে আত্মহত্যার হার, মানসিক রোগে ভুগছে ৬০% ইজরায়েলি সেনা
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
গাজায় দুই বছর ধরে হামলার সময় এবং এর পর থেকে ইজরায়েলি সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যা ও আঘাত-পরবর্তী মানসিক চাপসংক্রান্ত রোগ (পিএসটিডি) বাড়ছে। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনগুলোয় ইজরায়েলি বাহিনীর সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সংকটের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হামলা চালায় হামাস। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়। সেদিন থেকেই উপত্যকাটিতে নির্বিচার হামলা শুরু করে ইজরায়েলি বাহিনী।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতিতে যায় হামাসা ও ইজরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এখন পর্যন্ত ইজরায়েলি সেনাদের হামলায় গাজায় ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজা সংঘাতের কারণে ইজরায়েলি সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তাদের পিএসটিডি বা মানসিক রোগের পরিমাণ ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৮ সাল নাগাদ তা বেড়ে ১৮০ শতাংশ হবে। গাজায় আগ্রাসনে আহত ২২ হাজার ৩০০ সেনার ৬০ শতাংশ পিএসটিডিতে ভুগছে।
ইজরায়েলের এমেক মেডিকেল সেন্টারে সংঘাতফেরত সেনাদের ওপর গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন মনোবিজ্ঞানী রোনেন সিদি। তিনি বলেন, “ইজরায়েলি সেনারা সাধারণত দুই কারণে পিএসটিডিতে ভুগছে। একটি হলো সংঘাতের সময় মৃত্যুর ভয়। অপরটি হলো নৈতিক আঘাত। অর্থাৎ সংঘাতের সময় তারা এমন সব কর্মকাণ্ড করেছে যার ফলে এখন এসে মানসিক পীড়নে ভুগছে।
ইজরায়েলের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ম্যাকাবির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন ইসরাইলি সেনাদের ৩৯ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্যসহায়তা চাইছেন। আর ২৬ শতাংশ নিজেদের দুশ্চিন্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। গাজা সংঘাতে অংশ নেওয়া এক সেনা বলেন, সংঘাত এখন কমে এলেও দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকেন তিনি।
ইজরায়েলি পার্লামেন্ট কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ২৭৯ ইজরায়েলি সেনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এটি আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি। এছাড়া ২০২৪ সালে ইজরায়েলে যতজন আত্মহত্যা করেছে, তাদের ৭৮ শতাংশই সংঘাতে অংশ নেওয়া ইজরায়েলি সেনা। চিকিৎসা না দিলে এই হার আরও বাড়বে বলে শঙ্কা রোনেন সিদির।
ইজরায়েলের নৃশংসতায় গাজার বেশির ভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে। ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। খাবার, আশ্রয় ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটে ভুগছে তারা। ফিলিস্তিনি চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের পর দিন চরম আতঙ্কের মধ্যে কাটানোর পর গাজার বাসিন্দারা এখন ভয়াবহ মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
























