আবু তাহের সরফরাজের ৬ কবিতা

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৯

যে ছিল সেও নেই

ওইখানে আছে হাওয়া
এইখানে আছে আগুন
আগুন জ্বালাতে পারে যে
        এমন কাউকে ডাকুন।

ওইখানে ছিল মেঘ
এইখানে ছিল চাঁদ
চাঁদের শরীরে লুকনো
            চন্দ্রাবতীর ফাঁদ।

কাছাকাছি ছিল কেউ?
নদীতে কেন ঢেউ
তীরে এসে লাগে
কাছাকাছি কেউ নেই
যে ছিল সেও নেই
গুণ আর ভাগে।

এইখানে আছে স্মৃতি
ওইখানে তার শাড়ি
স্মৃতির ভেতর খুঁড়ে
তুলে আনতে পারি।

ঘুম

ঘুম ভেঙেছে?
              তাও ভাঙেনি কাঠঠোকরার শব্দে?
                            খুব হিসেবি দিনরাত্রি
                            দুই হাজারের অব্দে।
ঘুমোচ্ছে কে?
             টের পাইনি, টের যেন কে পেত?
                     এসবই ঢের আগের কথা
ওরা, পাঠশালাতে যেত।

ঘুমোচ্ছো যে, চোখ কি খোলা?
হঠাৎ কিছু হলে?
বলবে কাকে? অনেক আগেই, ওরা,
সবাই গেছে চলে।

শিঙা

নীল চাঁদোয়া রাত্রি নাচে কসাইখানার পাশে
বুকের নিচে প্রেতাত্মারা দাঁত খিচিয়ে হাসে।
দিচ্ছে টহল রাতের পুলিশ ঘুরছে তাদের পা
মাংস ছিঁড়ে খাচ্ছিল যে, বলল খেয়ে যা।

চাঁদ অথবা মেঘের নিচে ঘুমনগরী
স্বপ্ন ফেরি করে
শিঙা হাতে ঠায় দাঁড়িয়ে একটা ছায়া
হঠাৎ নড়েচড়ে।

শিঙা তুমি ঘূর্ণি তুলে একটা সুরেই বাজো
প্রলয় হবে জেনেও মানুষ স্বপ্ন দ্যাখে আজও।

বেড়াল

খুনের নিকটবর্তী মুহূর্তে
কাছাকাছি বসে ছিল কামুক বেড়াল

খুন যে ঘটেছে
চোখ পিটপিট করে দেখেছে আমুদে বেড়াল
খুনের মুহূর্তে যে রক্ত ঝরল
চেটেপুটে খেলো লালাসিক্ত বেড়াল!

দম্পতি

আহত ব্যাকুল নক্ষত্রেরা
ঘুম ছড়িয়ে দিচ্ছে
টগর-নোলক দম্পতি এক
তাই কুড়িয়ে নিচ্ছে।

ঘুম কুড়ানো মহৎ রীতি
ঘুমেই তো আশ্রয়
একজীবনে বয়েস কিছু
হয় যদি সাশ্রয়।

জঙ্ঘমে আর ঘামের দেহে
দাঁড়াচ্ছে ওই নারী
খুলতে হবে খেতের বেড়া
ফসল তোলা গাড়ি।

ঘরের ভেতর উঁইয়ের ঢিবি
খেতে এবার খরা
নারী হচ্ছে প্রশ্নবোধক
যায় না তাকে পড়া।

ঘুম ছড়ানো মাঠের ওপর
ঘুমোচ্ছে দম্পতি
শরীর জেগে আছে তবু
নেই কারও সঙ্গতি।

ঘর ভাঙে না, মানুষ ভাঙে
ভাঙাই সহজ রীতি
ঘুম কুড়োতে মাঠে এসে
কুড়োয় তারা স্মৃতি।

মানুষজন্ম পেয়েছে বলে

মুগ্ধতা ছড়াতে পারে আজকের সন্ধে
অন্ধকার তাই চলে গেছে শহরের পেট চিরে
শস্যের স্বপ্নে মুখের বলিরেখা অবধি মনে হচ্ছে ঘাস
সংসার ছাওয়া এখন মাকড়শার জাল
ধেয়ানে কার কথা বলে যাচ্ছে সে... নিশ্চিত সে
অন্ধকারে হারিয়ে এসেছে মোহর
এক একটি জীবনের ভার পিঠে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, কে লোকটা?
বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটায় রাত হয়ে গেলে খুব চমকে উঠি, আমিই তো সে
হাঁটতে হাঁটতে কুঁজো মানুষের মতো সর্বস্বান্ত বোকাদের মতো আর
শ্যাওড়াগাছের ভূতের মতো... আমার ভেতর কোনো আয়না নেই
আমি কাকে দেখব?
বুকের ভেতর ঘোর, অন্ধকার
আমি কার কাছে যাব? মাঝে মাঝে যেতে তো হবেই
কেউ একজন আমার জন্যে বসে থাকবে ঘরের বাতি বন্ধ করে
আর জানলা খুলে দিয়ে। চাঁদের আলো আর জ্যোছনার ঢেউ
একটা নদীসমেত তার ঘরে
মাঝে মাঝে সাঁতার দিতে ইচ্ছে হলে
হঠাৎ হঠাৎই বেঁচে থাকতে ইচ্ছে হলে আমি তো যেতেই পারি তার কাছে
পোষা বেড়ালের মতো তার পায়ের কাছে
বৃষ্টি আর নিজের থেকে নিজেকে লুকিয়ে রেখে হামাগুড়ি দেই
ছায়া থেকে শরীরকে আলাদা করে দেয়ালে দেয়ালে কে চিনেছে
কার অস্থি ওইখানে, পাথরের পৃথিবী
বৃষ্টি বৃষ্টি বৃষ্টি আমাকে নাও, নেবে?

কে একজন প্রেমিক দাঁড়িয়ে আছে শূন্য হাতে
পায়ের তলায় মাটি নয়, পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে
কে একজন প্রেমিক কালের আঘাত বুকেপিঠে, কে যেন সেৃ
মানুষজন্ম পেয়েছে বলে তাকে এখন ডাকতে পারি, মহাকাল।

ধারাবাহিক