কঙ্গোতে ইবোলায় ৩৭৭ জনের মৃত্যু
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : জুলাই ০১, ২০২৬
১৫ মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে ১ হাজার ৩০৭ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছে এবং ৩৭৭ জন মারা গেছে বলে জানিয়েছে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) সরকার। উগান্ডায়ও অল্প সংখ্যক আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইবোলা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলেেআফ্রিকার অর্থনীতিতে ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া ৩ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাসের বর্তমান প্রাদুর্ভাব এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। এই ধরনটির বিরুদ্ধে এখনও কার্যকর ও পরীক্ষিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
ডিআর কঙ্গোতে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি ড্যামিয়েন মামা বলেন, “প্রয়োজনীয় অর্থ ও সম্পদ নিশ্চিত করা গেলে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। অন্যথায় এটি পুরো অঞ্চল এবং সম্ভাব্যভাবে আফ্রিকার জন্য দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সংকটে রূপ নিতে পারে।”
ইউএনডিপির প্রতিবেদনে ৩টি সম্ভাব্য পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সবচেয়ে অনুকূল পরিস্থিতিতে রোগটি কেবল ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে ডিআর কঙ্গোর মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে।
তবে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ইবোলা যদি রুয়ান্ডা ও অ্যাঙ্গোলাসহ অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং একই সময়ে ইরান সংকটজনিত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকে, তাহলে আফ্রিকার অর্থনীতিতে ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি এবং প্রায় ৩ লাখ ২৮ হাজার মানুষের চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ডিআর কঙ্গোর সংঘাতপ্রবণ ইতুরি প্রদেশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে ইবোলায় মৃত ব্যক্তিদের দাফনের সময় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় জনগণের অবিশ্বাসের কারণে নিরাপদ দাফন কার্যক্রম পরিচালনায় ত্রাণকর্মীরাও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত সপ্তাহে ডিআর কঙ্গো সরকার রাজধানী কিনশাসাসহ ৪টি প্রদেশে জনসমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে নির্ধারিত বিক্ষোভের আগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিরোধী দলগুলো নিষেধাজ্ঞাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে। সূত্র: আল জাজিরা























