রহিমা আফরোজ মুন্নী
রহিমা আফরোজ মুন্নীর নভেলা ‘ধুরন্ধর’
পর্ব-৪
প্রকাশিত : জুন ২৯, ২০২৬
৬.
সপ্তাহের সাত দিনই পারলে হাসপাতালে কাটায় বিভাস। কাজ তার ধ্যানজ্ঞান। অফ ডিউটিতে তার দিন তাই চলতেই চায় না। নিধির সাথে যেহেতু স্রেফ কাগজের সম্পর্ক, তাই দরকার ছাড়া কোনো কথাতেই তার মুখ ফোটে না। আর দরকারগুলোকেও সে এতটাই অদরকারি করে রাখে যে, নিজের খাবারটাও নিজেই ম্যানেজ করে নেয়।
কাজের মেয়েটা ছুটিতে বলে ডাইনিং রুমে বসে কফি আর টোস্ট বানায় বিভাস। নিধি মনোযোগ পেতে উত্তেজক এক নাইটি পরে টেবিলে বসে চামচ প্লেট এগিয়ে দেয়। তাকে স্পষ্টতই অগ্রাহ্য করে বিভাস অন্য প্লেট চামচে হাত বাড়ায়। নিধি বলে ওঠে, ‘তোমার অসভ্যতা আর নেয়া যাচ্ছে না।’
বিভাস তাকিয়েও দেখে না। খাবার শেষ করে কফি হাতে লাইব্রেরি রুমে ঢুকে পড়ে। নিধি মেজাজ খারাপ করে উঠে যায় রুমে। পোশাক দেখানোর নির্লজ্জতায় বিব্রত হয়ে নাইটির ওপর শাল চাপিয়ে নিজের জন্য কফি বানিয়ে লাইব্রেরি রুমে ঢোকে। তার চলে যাওয়া কিংবা ফিরে আসা কোনোটাতেই ভাবান্তর নেই বিভাসের।
নিধি কথা আগাতে চেয়ে চোখে চোখ ফেলবার চেষ্টা করে। কিন্তু বিভাসের চোখ কখনো টিভিতে কখনো ফোনে। উত্তেজিত নিধি বিভাসের সামনে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে ওঠে, ‘এইভাবে আর চলতে পারে না, আমাদের কথা বলা দরকার।’
বিভাস এইবারও না তাকিয়ে বলে ওঠে, ‘মাসের সাত তারিখের মধ্যে খরচের টাকাটা পেয়ে যাবা।’
নিধি অবাক হয়ে বলে, ‘কথা শেষ?’
বিভাস কোনো উত্তর দেয় না।
৭.
ইভানের ফ্ল্যাট ছয় তলার ছাদের অর্ধেকটা জুড়ে। লিফট নেই। অনামিকা ইভানের ছাত্রী। উঠেই হাঁপাতে থাকে। ফ্ল্যাটের দরজা খুলে ঢুকেই ইভান বলে, ‘গোসল সেরে এসো। আফটার অল আমি তো তোমাকে অপোজিট জেন্ডার হিসেবেই দেখি। তাই সেইম জেন্ডারের ভেবে সয়ে নেয়া অসম্ভব। তাছাড়া তোমার ঘামে তনুর আকর্ষণ থাকতে পারে সোনা। আমার কাছে তো নয়।’
অনামিকা বিরক্ত হয়ে বলে, ‘আমাকে সোনা বলে ডাকবেন না স্যার, ঘিনঘিন লাগে।’
বিকট শব্দে ঘর কাঁপিয়ে হাসল ইভান, ‘তনু তো মহাভাগ্যবান এমন প্রেমিকা পেয়ে।’
ঘাড় নেড়ে সায় দেয় অনামিকা। তনুশ্রী তার জুনিয়র। তাদের প্রেমের কথাটা একমাত্র ইভান জানে। তাই সে সহজ এই নিয়ে।
গোসল সেরে টাওয়েল চাপিয়ে ঘরে ঢুকল অনামিকা। একটু পুরুষালী গড়ন তার। ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত চোখ বুলিয়ে আফসোসের চুকচুক শব্দ বের হলো ইভানের মুখ থেকে, ‘ধুরো, তোমার এমন ব্যাটা ব্যাটা ফিগার যে, আমাকে এডিট করতে হয় ম্যালা সময় নিয়ে। এরপর থেকে ওয়াক্স করে আসবে, পয়সা আমি দেব।’
অনামিকা জবাব দেয়, ‘তাই নাকি? জেনে আশ্বস্ত হলাম স্যার, তবে আগে পুরোনো পেমেন্টগুলো দিয়ে দিয়েন।’
চুপসে গেল ইভানের মুখ। টাওয়েল খুলে বিছানায় শুয়ে পড়ল অনামিকা। পুরো বিছানায় ফুলের পাপড়ি। একমুঠো নিয়ে নিজের বুক ঢাকলো আর কিছু পাপড়ি জড়ো করে ইভান ওপর থেকে ফুঁ দিয়ে দিল অনামিকার শরীরের ওপর। বিভিন্ন দিক থেকে ছবি তুলতে লাগল। এমন সময় বিকট শব্দে ফোনের আওয়াজ।
নির্বিকারভাবে উলঙ্গ অবস্থায় দৌড় দিল অনামিকা। ইভান চোখ বন্ধ করে ফেলল। সে এখনও পুরোপুরি অভ্যস্ত হতে পারেনি অনামিকার সহজেই উলঙ্গ হবার ব্যাপারটায়। ভাবল, মেয়েটাকে হাজারবার বলেছি আমার সামনে এমন ন্যাংটো হয়ে ঘুরবে না। আমি তোমার মতো বাই সেক্সুয়াল নই। ন্যাংটো শরীর দেখলে আমার অস্বস্তি হয়। কে শোনে সেইসব!
অনামিকার সিধা উত্তর, ‘আমি মোটেও বাই সেক্সুয়াল নই। আপনাকে দেখে আমার কিছু ফীল হয় না বলেই মনে থাকে না এইসব।’
ফোন ধরতেই ওপাশে তনুশ্রীর গলা, ‘বাবু কোথায় তুমি?’
অনামিকা অবলীলায় বলে, ‘ডিপার্টমেন্টে।’
তনুশ্রী বলে, ‘থাকো তাহলে, আসছি এক্ষুনি।’
ফোনটা রেখেই অনামিকা হুড়াহুড়ি লাগায় যাবার জন্য। ইভানের সামনেই ব্রা পরে অবলীলায় বলে হুঁক লাগিয়ে দিতে। ইভান শিস বাজাতে বাজাতে হুক লাগায়। জিজ্ঞেশ করে, ‘তনুর কল?’
অনামিকা উত্তর দেয়, ‘হু, এক্ষুনি যেতে হবে। যদি টের পায় আপনার এখানে, তো কসম কাটিয়েও বিশ্বাস করানো যাবে না।’
হাসতে থাকে ইভান, ‘তোমাদের জুটির সফলতা কামনা করছি বেইবি।’
অনামিকা সিরিয়াস হয়, ‘স্যার আপনি আমার সংসার ভাঙবেন, ডোন্ট এভার কল মি বেইবি।’ চলবে























