করোনা আপডেট
আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ১৮৬৮৯৪ ৯৮৩১৭ ২৩৯১
বিশ্বব্যাপী ১৩২৪৯৫৭৫ ৭৭১৮৩০৭ ৫৭৫৮৪৪
অলঙ্করণ: পাপিয়া জেরীন

অলঙ্করণ: পাপিয়া জেরীন

পাপিয়া জেরীনের ৫ কবিতা

প্রকাশিত : জানুয়ারি ১১, ২০২০

প্রিয়তমেষু

তোমারে পাওয়া যাবে না কস্মিনকালেও
তাই এ জীবনে যা সম্ভবপর... তাই নিয়েছি,
যা আসে বা চলে যায়... তা ঈশ্বরের ইচ্ছায় জেনে
সহজে বেঁচে থাকি, খাদ্য হয়ে।

তুমি ধরে নিতে পারো,
তুমি আমাকে যা ভেবেছিলে আর আমি
এ-দুয়ে আজ কোনো বিভেদ নেই;

শুনেছি, আমাকে ভুলে যেতে
কত কিছু করেছো রাত জেগে,
অংকেও গড়বড় করছো আজকাল!
দিনে তিন  কাপ এখন ছ`কাপে
বিড়ির সংখ্যাও ষোলো!

আমি তোমারে মনে রাখিনি
ভুলেও থাকিনি কোনো একদিন—
নিঃশ্বাস গুণে গুণে এ জীবনে কে বাঁচে বলো!

দ্ব্যণুক

জ্বলতে আছো টলতে আছো চিকন আগুন
তোমার উপর বইসা আছি রূপার হাঁড়ি,
ফুটতে থাকে হাঁড়ির ভেতর জলের কুমুদ।

বইসা থাকি পন্নগী এক তোমার ডাঁটে
বিষের নেশায় টলতে আছো... দুলতে আছো,
শঙ্খবীণে জমতে থাকে ফেনার ঝিলিক।

তোমার-আমার দেহ ভাসে নাওয়ে নাওয়ে
জলের ভিতর চান্দে দেখে চান্দেরই মুখ,
জলের উপর দুইলা ওঠে শাপলা শালুক।

দুলতে দুলতে তোমার আমার যুগল অণু
প্রবল চাপে হইয়া ওঠে সরস দ্ব্যণুক!

ইকোয়েশন

তোমারে পাব না জেনে
যত গ্লানি ও বিষাদ
প্রিয়-বিয়োগ, অপ্রিয়-সংযোগ
সরলীকৃত হতে থাকে;

জলে ডোবা সুগন্ধি-সাবান
ক্ষমাহীন অক্ষম প্রেম
উষর নাভি, ক্লেদ-জনম
সার্ভিক্স বেয়ে বৃষ্টির মতো
নেমে আসা সেই ছোট্ট ভ্রূণ
ভগ্নহৃদয়, ভগ্ন-জীবন...

তোমারে পাব না জেনে
জীবনের সব বিষাদময় গ্লানি
আর যোগ হয় না—
যোগের বদলে গুণ হতে থাকে!

অসঙ্গত

মৃত্যু
পাশে আসে
পিঠে মৃদু শ্বাস
পথে পড়ে থাকে
সবুজ নোটের মতো
তোমার মতো প্রেম নিয়ে
আসে
হাসে
আমি দেখি
মৃত্যু আসে
রেখে যায় কাছে
যা ছিল সব
অথবা দূরে নেয়
যেন অগ্রহায়ণ
যেন ধান চলে গেছে বাড়ি বাড়ি
মাটিতে গেঁথে আছে
তবু নেই কিছু
যেমন অসঙ্গত বিকেল
তুমি অপেক্ষায়
শরীর আছে
প্রেমহীন
তবু অপেক্ষায়
আসি বারবার
চলে যাব বলে
কিংবা আসিনি কোনোদিন
তবু আসার পথে
ঝরে আছো তুমি
ম্লান
পাতার নীলে
মৃত্যু আসে
প্রসবিতার কাছে
জন্মাতে একবার
বুকে রাখে মুখ
ক্ষুধার কথা বলে
মৃত্যুর মতো তুমি আসো
তোমার মতো আসে
মৃত্যুর ডাক
সব আছে পাশে
তবু মোহনিয়া ডাক
তুলে নিয়ে যায়
শেষে
ঝুলায়ে রাখে
শোয়ায়ে রাখে
বসায়ে রাখে
নিসাড়!

প্রজায়িনী  

জানি তুমি ধ্যানী, প্রেমিক
চার্চে গিয়ে শুধু আমাকেই চেয়ে এসেছো
তোমার কাছে পৌঁছে দিতে আমাকে—
কত ধ্বংসযজ্ঞ মেনে নিতে হলো পৃথিবীর!

আমার  অবুঝ শিশুরা—
নধর ডাহুক ভেবে ওরা জাপটে ধরেছে কয়েকটা উড়ুক্কু মিসাইল,
পোড়া পালকের মতো খসে গেছে ওদের পেলব আঙুল
বিষণ্ণ স্তনের পাশে ওরা নুড়ির মতো ঝরে আছে, দেখো!

তুমি ধ্যানী,
শুধুমাত্র আমাকেই চেয়ে বসে আছো ঈশ্বরের কাছে,
অথচ শিশুরা ছিল, আরও প্রজনিকা—
বৃক্ষ, জল, পাখি,পতঙ্গ;

দেখো, শুধু আমাকে পৌঁছে দিতে
কতশত শহর গুড়িয়ে দিলো ঈশ্বর!

এখন
এই ক্ষীরোদতনয়া চাঁদ,
তার নিচে একা দাঁড়িয়ে আমি
পাশে বিদীর্ণ স্তন-ধোয়া নদী
আর এই ন্যুব্জ প্রত্ননগরী!

সঙ সার

দমকা বাতাসের পর নিজেকে সঙ লাগে
অন্ধকার হাতড়ে চুল বাঁধার কিছু খুঁজে পাই না, পাই না শিশুদেরও!

ভেবে নিই দুর্যোগে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি
আমার বর, তোমার পরিবার মৃতদের স্তূপের মাঝখানে আমাদের ছবি হাতে দাঁড়িয়ে—
নিকষ কালোতে দুটো একটা ক্যান্ডেল;

অন্ধকার হাতড়ে কিছুই খুঁজে পাই না!

ভেবে নিই দুর্যোগে সব বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে
আর একটা শরণার্থী ক্যাম্পে আমরা দুজন
স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে
শুয়ে আছি খুব কাছে
বুকে নিয়ে মৃত সন্তানের শোক...