রহিমা আফরোন মুন্নী
রহিমা আফরোন মুন্নীর দীর্ঘকবিতা ‘নতুন চোখ’
প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
আমি বুদ্ধকে দেখি, আরও দেখবার চেষ্টা করবার কথা ভাবি, বুদ্ধকে হালকা জানি এ-ও ভাবি, সেইটা শতাংশের কত অংশে পড়ে কষতে পারব না সেই অংক, বলতে পারব না জানার বেলায় কি`বা বুঝবার বেলায় স্বয়ং বুদ্ধ আপেক্ষিকতার বাস্তবতায় কতটা অদেখা কি`বা অচেনা জালে জড়াইয়া ছিল বা জড়াইতে পারত তা সম্পর্কে সচেতন ছিল কি না, এই প্রশ্ন যে কেউ তুলতে পারে কি! তুলবার জন্য তারে বুদ্ধের নখের কাছে বা তারে ডিঙাইয়া পাশের পাহাড়ে যাইবার মতো বীরোচিত কিছু হইতে হয় কি!
আমি লাউ জু পড়ি নাই, তবে পড়াশোনা করে কেউ কিছু কোট করছে সেই সুবাদে সেই পরিমাণ জানা হইছে, অবশ্য সেই জানা-বুঝা দেইখা পড়ুয়ার বন্ধ দুয়ার খুলবার বৃথাই চেষ্টাতে আর আশা দেখি না, বুঝবার জন্য নিজ বিবেচনা বোধে আস্থা থাকলে তার জন্য দুই পাঁচটা মূল কথাই যথেষ্ট কি-না ভাবি, অন্যের ভরভরন্ত কিংবা ন্যাকাবোকা বুঝ বুঝতে তার চশমা তার চোখ নিজ নাকে টাঙানোর পরও নিজের দেখার অস্পষ্টতায় হতভম্ব আমি!
ওশো সাহায্য করবে ওশো মহান এই রকম নিশ্চিন্তের যাত্রায় আমি মিল পাই আমার বুঝ আর তার বুঝ শব্দের অদলবদল মাত্র অথচ ওশোর মানচিত্র ছাড়াই পথ খুঁজতে আমার পাড়ানো মাড়ানো দাবড়ানো শেষ কয়েক দফা, আমার কানে ফিসফিসানি আমার মনে ফুসলানি, এইসব না-জানা আমি আগেই তবে জানতাম! যদি জানতামই তাইলে জানাইলাম না কেন নিজেরে! জানতাম জানলেই কিছু হয় কি! জানলেও অন্তস্থ হয় কি! অন্তস্থলের তলায় বসবাস মসৃণ তো না আর চর্চা`র সীমারেখাও আছে, আরোপিত তো রাবারের মতোই, টানাটানির সময় সেইটা না ভুললেই হইলো!
ইভান পাভলবের মনস্তত্ত্ব আমারে পথ দেখাইবে কি! আমি তার নাম শুনলামই সবে, ইতিমধ্যে নিজ পথ বেশ অর্ধেকটাই পার কইরা আসছি, সহজ হইতে চাইতেছি সহজে, সহজ সাধারণ জীবপ্রাণ!
অবশ্য ভূতরূপে ফ্রয়েডীয় চেতনা আমার ওপরে আগেই ভর কইরা ছিল, এখন তা দুর্দান্ত সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার! কত যে কন্টেট এক ফ্রয়েডীয় চেতনায় সেইটা রোমাঞ্চকর ব্যাতিরেক আর কি কাজের!
এদিকে নীটশের বুঝ আপেক্ষিকতার বাস্তবতায় আমারে কতভাবে যে বিপরীত দুইটা দিকে ক্রমাগতভাবে হেলাইছে আর দুলাইছে তা ইয়ত্তারহিত! বুঝলাম কি আদৌ কত ক্ষুদ্র যে এই আমি আর কত অর্থহীন জীবন যে এই আমার আর আমাদের সবার!
এইসব জগাখিচুড়ি বুঝ আর আপোষের মিলমিলান্তি নিজেরে আরও ট্যাকনা আরও বালপাকনা কইরা দিতেছে কি-না সেই ধন্দে-ও আমার নাই সন্দেহ, আমি বুঝি যা আমার ওপর দিয়া প্রবাহিত হয় নাই কখনোই তার ধারা আমার বুঝে আসবে না! আমি জানি যেই যেই পথ ধইরা হাঁটছি, আসছি, ঠিক ঘুইরা শুরুতে যাইতে পারব প্রয়োজন মাত্রই! আমার বেশ অর্ধেকটাই মৃত জীবন প্রতি বিন্দুতে পষ্ট এমন!
নিজেরে দেখতে এখন আর বাইরের চোখ দুইটা মেইলা আয়নার সামনে দাঁড়াইতে হয় না, এখন আমার খোলা দুই চোখ পলকবিহীন পাহারায় অনন্তকাল! এই অবসরে ভিতরে ভিতরে কি যেন গজানো শুরু করতেছে, ঠাহর করা যায় না, শুধু কচকচানি, চোখ কি!
























