শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর আজ জন্মদিন
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : জুলাই ১০, ২০২৬
ভাষাবিদ, শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর আজ জন্মদিন। ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন অবিভক্ত চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তার জন্ম।
১৯০৪ সালে হাওড়া জেলা স্কুল থেকে তিনি এন্ট্রান্স এবং ১৯০৬ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ পাস করেন। পরে সিটি কলেজ থেকে সংস্কৃতে সম্মানসহ বিএ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯২৮ সালে ফ্রান্সের সরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক এবং অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রাচীন ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে তার গবেষণা ও বিশ্লেষণ বাংলা ভাষা-চর্চায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন বহুভাষাবিদ। তিনি প্রায় ২৪টি ভাষা আয়ত্ত করেছিলেন এবং এর মধ্যে অন্তত ১৮টি ভাষায় তার উল্লেখযোগ্য পাণ্ডিত্য ছিল।
তিনি সাহিত্য ও ভাষা আন্দোলনের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির সম্পাদক, পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতি এবং উর্দু অভিধান প্রকল্পের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত, রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম, নবী করিম মুহাম্মাদ, বাংলা সাহিত্যের কথা (দুই খণ্ড), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ব্যাকরণ পরিচয়, বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এবং মহররম শরীফ।
১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমেরিটাস অধ্যাপক হন। একই বছর ফ্রান্স সরকার তাকে নাইট অব দ্য অর্ডার অব আর্টস অ্যান্ড লেটার্স সম্মানে ভূষিত করে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে মরণোত্তর ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করে এবং ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে স্বাধীনতা পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত করে।
১৯৬৯ সালের ১৩ জুলাই ঢাকায় তিনি মারা যান। তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের পাশে সমাহিত করা হয়। ভাষা ও সাহিত্যে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হল এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কলা ভবনের নাম তার নামে নামকরণ করা হয়েছে।























