কবি নবীনচন্দ্র সেনের আজ মৃত্যুদিন

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৩, ২০২৬

কবি নবীনচন্দ্র সেনের আজ মৃত্যুদিন। ১৯০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি মারা যান। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার অন্তর্গত পশ্চিম গুজরার (নোয়াপাড়া) সুপ্রসিদ্ধ প্রাচীন জমিদার পরিবারে তার জন্ম। পিতা গোপীমোহন রায় এবং মা রাজরাজেশ্বরী।

পাঁচবছর বয়সে তিনি লেখাপড়া শুরু করেন। ১৮৬৩ সালে তিনি চট্টগ্রাম স্কুল (বর্তমানে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল) থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতা যান। ১৮৬৫ সালে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ (বর্তমান প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে দ্বিতীয় বিভাগে এফএ এবং জেনারেল অ্যাসেমব্লিজ ইন্সটিটিউশন (স্কটিশচার্চ কলেজ) থেকে ১৮৬৯ সালে বিএ পাশ করেন।

বিএ পাশ করার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যক্ষ সাট্ক্লিফের সুপারিশে নবীনচন্দ্র কলকাতার বিখ্যাত হেয়ার স্কুলে তৃতীয় শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পান। কিছুদিন পরে বেকার হয়ে পড়েন। পরে ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হন।

মাত্র একুশ বছর বয়সে তিনি কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হন। ১৮৬৮ সালের ১৭ জুলাই বেঙ্গল সেক্রেটারীয়েটের এসিস্টেন্ট পদে যোগ দেন। ১৮৬৯ সালের ২৪ জুলাই যশোরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে তাকে পদায়ন করা হয়। কর্মজীবনে তিনি বাংলা, বিহার, ত্রিপুরার অনেকস্থানে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি দুই দফায় মোট প্রায় আটবছর ফেনীতে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এসময় তিনি অনন্য কর্মদক্ষতায় একটি জঙ্গলাকীর্ণ স্থানকে মনোরম শহরে পরিণত করেন। ১৮৮৬ সালে তিনি ফেনী হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। যা বর্তমানে ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল।

প্রায় ছত্রিশ বছর সরকারি চাকরি করার পরে ১৯০৪ ১ জুলাই দিসি অবসর গ্রহণ করেন। নবীনচন্দ্রের প্রথম কবিতা ‘কোনো এক বিধবা কামিনীর প্রতি’ প্রকাশিত হয় তৎকালীন অন্যতম খ্যাতনামা পত্রিকা এডুকেশন গেজেট-এ, যখন তিনি এফএ শ্রেণির ছাত্র।

তার প্রথম বই ‘অবকাশরঞ্জিনী’র প্রথম ভাগ প্রকাশিত হয় ১২৭৮ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ এবং এর দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয়  ১৮৭৮ সালের ২৯ জানুয়ারি। শেষের কাব্য তিনটি (রৈবতক, কুরুক্ষেত্র, প্রভাস) আসলে একটি বিরাট কাব্যের তিনটি স্বতন্ত্র অংশ। এই কাব্য তিনটিতে কৃষ্ণচরিত্রকে কবি বিচিত্র কল্পণায় নতুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন।

নবীনচন্দ্রের অন্যান্য বইগুলো হচ্ছে, পলাশির যুদ্ধ, রৈবতক, কুরুক্ষেত্র, প্রভাস, ক্লিওপেট্রা, অমিতাভ, অমৃতাভ, রঙ্গমতী, খ্রীস্ট, অমিতাভ ও অমৃতাভ।