শিক্ষাবিদ গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজ জন্মদিন

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৬, ২০২৬

শিক্ষাবিদ গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজ জন্মদিন। ১৮৪৪ সারের ২৬ জানুয়ারি কলকাতার নারকেলডাঙার দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে তার জন্ম। পিতা রামচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণের শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন। মাতা সোনামণি দেবী ধর্মপ্রাণ মহিলা ছিলেন।

তিন বছর বয়সে গুরুদাস পিতৃহীন হলে অসহায় জননীর স্নেহছায়ায় ও তত্ত্বাবধানে শিক্ষালাভ করেন। প্রথমে ভর্তি হন ওরিয়েন্টাল সেমিনারি ও পরে কলুটোলা ব্রাঞ্চ স্কুলে (হেয়ার স্কুলে)। এখান থেকে ১৮৫৯ সালে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় প্রথম হন।

স্কটিশ চার্চ কলেজ ও পরে প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত পরীক্ষায় প্রথম হয়ে স্নাতক ও ১৮৬৫ সালে স্নাতকোত্তর (এম.এ) হন। ১৮৬৬ সালে আইন পরীক্ষাতেও সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করেন। পরের বছর ল`অনার্স পাশ করেন।

শিক্ষাপর্ব শেষে তিনি প্রথমে প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনা আরম্ভ করেন। গণিতের অধ্যাপক হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। এখানে কর্মরত অবস্থাতেই বহরমপুর কলেজে অধ্যাপনার সুযোগ হয়। বহরমপুরে অবস্থানকালে ওকালতিও শুরু করেন।

মুর্শিদাবাদের নবাবের আইন উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। জননীর আগ্রহে ১৮৭২ সালে কলকাতায় হাইকোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন। ১৮৭৭ সালে এম.এল. উপাধি পান এবং পরের বছর বিচারপতির পদ লাভ করেন। ১৬ বছর তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।

পরবর্তী জীবনে তিনি অনারারি ম্যাজিসেট্রট, কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কমিশনার, বাংলার ব্যবস্থাপক সভার সদস্য হন। ১৮৭৮ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠাকুর আইন অধ্যাপক নিযুক্ত হন। ১৮৭৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও আইন পরীক্ষক ও ৩ বছরের জন্য সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন।

এ সময় তিনি পরীক্ষা পরিচালনা ও পাঠ্যপুস্তক নির্বাচনে কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। ১৮৯০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হন। ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পদ লাভ করেন। ১৯০২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের সদস্য ও ১৯১২ সালে ল` ফ্যাকাল্টির ডিন হন।

শিক্ষা ক্ষেত্রে পরীক্ষা পরিচালনা ও পাঠ্যপুস্তক নির্বাচন ছাড়াও জাতীয় শিক্ষা পরিষদের উৎসাহী কর্ম হওয়ার সুবাদে বহু অবদান রেখে গেছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজে তার প্রভূত অবদান ছিল এবং আমৃত্যু এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলার চর্চা আবশ্যিক ও বাংলা ভাষার সকল শিক্ষা প্রচলনের প্রচেষ্টায় তার বিপুল অবদান ছিল।

দেশের জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকল্পনায় অগ্রণী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সাথে কায়িক শ্রমের কাজেও লিপ্ত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষায় সরকারি হস্তক্ষেপের তিনি নিন্দা করেন, এমনকি সক্রিয়ভাবে বাধাও দেন। স্ত্রী-শিক্ষার বিষয়েও তিনি ছিলেন সমান আগ্রহী। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ও ভারতীয় বিজ্ঞান উৎকর্ষিণী সভার সাথে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় পরোক্ষভাবে তিনি রাজনীতিকদের সাহায্য করতেন। ১৯০৫ সালে ১৬ অক্টোবর আনন্দমোহন বসুর সভাপতিত্বে ফেডারেশন হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সভায় তিনি ছিলেন প্রধান বক্তা। তার বক্তব্য রাজনীতিকদের প্রভূত সাহায্য করেছিল।

গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো: জ্ঞান ও কর্ম, শিক্ষা, এ পিউ থটস অন্ এডুকেশন, দ্য এডুকেশন প্রবলেম ইন ইণ্ডিয়া, হিন্দু ল` অব ম্যারেজ অ্যান্ড স্ত্রীধন (বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অধ্যাপক হিসেবে প্রদত্ত বক্তৃতা, পরে প্রামাণ্য গ্রন্থ)।

ব্রিটিশ সরকার ১৯০৪ সালে তাঁকে `নাইট` উপাধিতে ভূষিত করে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। বাংলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বাংলা ভাষার চর্চা ও প্রসার ও উন্নতিকল্পে অক্লান্তকর্মা গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯১৮ সালের ২ ডিসেম্বর মারা যান।