শেখ হাসিনাকে মামলা থেকে অব্যাহতি, পিবিআইয়ের ব্যাখ্যা
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের সম্প্রতি অব্যাহতি দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। কেন অভিযুক্তদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, সে কারণও ব্যাখ্যা করেছে পিবিআই।
সংস্থাটি জানিয়েছে, মামলাটির তদন্তে অভিযোগের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং মামলার ভিকটিম ও তথ্যে গুরুতর অসংগতি রয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে পিবিআই সদর দপ্তর গণমাধ্যমে এই ব্যাখ্যা পাঠায়।
ব্যাখ্যায় পিবিআই জানায়, তারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট সব মামলা আন্তরিকতার সঙ্গে তদন্ত করছে। এরই মধ্যে আন্দোলনকে ঘিরে দায়ের হওয়া ১৭টি জিআর মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা হয়েছে। পাশাপাশি ৬৭টি সিআর মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ধানমন্ডি থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় (মামলা নম্বর–০১, তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪) ফাইনাল রিপোর্ট (চূড়ান্ত প্রতিবেদন) আদালতে দাখিল করাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
পিবিআইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে ধানমন্ডি থানায় এ মামলা করেন শরিফ (৩৭)। মামলায় ভিকটিম হিসেবে উল্লেখ করা হয় সাহেদ আলীকে (২৭), যাকে বাদীর ছোট ভাই বলা হয়। এছাড়া আহত হিসেবে আরও ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। তবে তাদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা বা পরিচয় দেওয়া হয়নি।
ঘটনার স্থান হিসেবে ধানমন্ডি-২৭ এলাকার মিনা বাজারের আশপাশ এবং ঘটনার সময় ৪ আগস্ট ২০২৪ সকাল ১১টা উল্লেখ করা হয়। তদন্তে নেমে পিবিআই জানতে পারে, এজাহারে উল্লেখিত ঠিকানা অনুযায়ী সাহেদ আলী নামের কেউ কখনো সেখানে বসবাস করেননি। বাদীর ঠিকানাতেও তার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
তদন্তে আরও উঠে আসে, সাহেদ আলী বাদীর ভাই নন। তার নামে এজাহারে উল্লেখ করা জাতীয় পরিচয়পত্রটি ভুয়া এবং সেটির সঙ্গে কোনো মোবাইল নম্বর নিবন্ধিত নেই।
এজাহারে ভিকটিমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সীমান্ত স্কয়ারের নাম উল্লেখ করা হলেও মার্কেট কমিটির সঙ্গে লিখিত ও সরাসরি যোগাযোগ করেও ওই নামে কোনো ব্যক্তির তথ্য পাওয়া যায়নি। আহত হিসেবে উল্লেখ করা অন্যদের বিষয়ে যাচাই করতে ঢাকা কলেজ ও ঢাকা সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ও সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
পিবিআই জানায়, এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় মামলাটিতে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ধানমন্ডি থানায় করা ওই হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১১৩ জনের অব্যাহতির সুপারিশের বিষয়টি সোমবার নিশ্চিত করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ধানমন্ডি থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই আবুল বাশার।
তিনি বলেন, “সম্প্রতি আদালতে ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে পিবিআই। এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ৩ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।”
























