ইরানের সাত শর্তের কয়েকটি মেনেছে যুক্তরাষ্ট্র: রেজায়ি
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : অক্টোবর ১২, ২০২৬
হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া ৭টি শর্তের কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসিন রেজায়ি। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি এ কথা জানান।
পোস্টে রেজায়ি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৭টি শর্তের কয়েকটি মেনে নিয়েছে। তবে তাদের জবাব যথেষ্ট নয়। ইরানের কূটনীতিতে পরিবর্তন এসেছে। ইরান আর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।”
চলতি মাসের শুরুতে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘেইর গালিবাফ বলেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৭টি শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্ত ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।”
গালিবাফ আরও বলেন, “সম্প্রতি একজন মধ্যস্থতাকারীদলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট।”
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র শর্তগুলো মেনে নিলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং আলোচনা শুরু হবে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা বন্ধ করা।
গত মাসে চলমান সংঘাত বন্ধে আলোচনা শুরুর উদ্যোগ হিসেবে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত পাঠিয়েছিল ইরান।
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার তিনি বলেন, “তেহরান মনে করছে, এ ধরনের পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি হবে।”
পাবলিকান পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেনেসি অঙ্গরাজ্যে এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, “চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।নির্বাচনের আগে তারা সম্ভবত আরো কিছু করবে। তাদের ধারণা, এতে আমাদের ক্ষতি হবে। কিন্তু আমরা খুব দ্রুতই যুদ্ধ শেষ করতে পারি।”
ইরানের নৌবাহিনী ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও তার প্রশাসন দেশটির বিরুদ্ধে সংযম দেখিয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমি তাদের সঙ্গে কতটা ভালো আচরণ করেছি, তা তারা জানে না। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানের ১৫৯টি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।”
























