অমিতাভ পালের একগুচ্ছ কবিতা
প্রকাশিত : জুলাই ১৮, ২০১৮
মুখোশ
আমাদের প্রত্যেকের মুখে একটা মুখাশ আছে
প্রতিটা মনোহারী দোকানে
প্রতিটা সুপারমলে
নিঊমার্কেটে
দেদারসে বিক্রি হচ্ছে এই মুখোশ
আমরা কিনছি আর মুখে লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি
মুখোশটার মুখে বিষণ্নতার বলিরেখা
প্রাণহীন হাসি
আর ভয়ের চিহ্ন আঁকা হয়েছে বিভিন্ন রঙে
মুখোশটার মুখে একটা আর্ত মানুষের পোর্ট্রেট ছাপানো
আমাদের এখন আর আলাদা কোন চেহারা নেই
নদী
কতগুলি নদী আর একটা সমুদ্র নিয়ে ছিল আমাদের সংসার
আমাদের সেই নদীগুলির শরীরে ঘূণ ধরেছে
একটা অসুস্থ কাঠের তক্তার মতো তারা শুধু হাঁপায়
আমাদের সবগুলি চোখের জল দিয়েও
তাদের গর্ভবতী করতে পারছি না
নোনা স্যালাইন কেবলি ভেসে যাচ্ছে সমুদ্রের দিকে~
সমুদ্র আমাদের হয়ে কাঁদছে
আমাদের ঊঠানে দুর্ঘটনায় নিহত একদল লাশের মতো
কতগুলি নদী শুয়ে আছে
মূহূর্তের সুখ
তোমার সঙ্গে যেকোন স্পর্শের মূহূর্তে
মুখোমুখি হওয়া আমাদের শরীরের কোষগুলি
পরস্পরের দিকে বাড়িয়ে দেয় প্রচন্ড আগ্রহের হাত
তাদের আঙুলগুলি থেকে তখন বের হয়
অস্বাভাবিক আঠালো লালা
তৈরি হয় চৌম্বকক্ষেত্র
আর আমরা দুই বাধ্য ধাতুর মতো
মেনে নেই কম্পাসের সকল নিয়ম~
বিপরীত মেরুর দিকে আকর্ষিত হই
আমাদের সম্পর্কগুলি সব মূহূর্তের সুখ
মদ
মদের কাছে একটা মাস্টার কি আছে
যদিও সে পাকস্থলীতে যায় কিন্তু ওই চাবিটা দিয়ে
নিঁখুত চোরের মতো নিঃশব্দে ও দক্ষতায়
খুলে ফেলে আমার মনের সবগুলি দরজা
আর তারপর একটা প্যান্ডোরার বাক্সের মতো
আমি ঊগড়াতে থাকি আমার যাবতীয় জমে থাকা কথা
তা সে কবিতা গালাগালি কিংবা বমি~ যাই হোক না কেন
আমি তাই মাঝেমাঝে মনের আবর্জনা পরিস্কার করতে
মদের দ্বারস্থ হই
মদ বাজারের সেরা ক্লিনিং এজেন্ট























