অমিতাভ পালের একগুচ্ছ কবিতা
প্রকাশিত : আগস্ট ২০, ২০১৮
আত্মশাসন
চিৎকার, বড় চিৎকার করো তুমি
অধস্তনকে গালাগালি করো যখন
ঊর্ধ্বতনের সামনে দাঁড়ানো তুমি
গলে যাও যেন আজ্ঞাবাহিত মাখন
লজ্জা করে না, লজ্জা করে না তোমার?
আমিতো দেখেছি তোমার নিহত খোমার
প্রিয় যেইসব মুখোশ আছিল জমা
সেসব মুখোশ গোপনে চাইছে ক্ষমা
পাগলাঘণ্টা ঘুমিয়ে পড়েছে
গোপনে ও অগোচরে কবে যেন আমাকে
জেলে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে
এখন আমার চারদিকে কেবল মোটা মোটা গরাদ
আর কংক্রিটে বুটের পায়চারির শব্দ
আমাদের জেলখানায় অনেক অনেক কয়েদি
তারা কেউ ক্ষুদ্র ব্যবসা করে
কেউ জেলখানার হিসাবরক্ষণ অফিসে
করে লেখাপড়ার কাজ
কেউ জোরে জোরে আবৃত্তি করে নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা
আর কেউ অবদমনের স্রোত রুখতে না পেরে
সেলের দেয়াল ভরে ফেলে যৌনময় চিত্রমালায়
তবে আমাদের জেলখানায় আমরা ভালোই আছি
সবকিছু মেনে নিয়ে যতটা ভালো থাকা যায় আর কি
আমাদের কোনো বিদ্রোহ নেই
বরং কেঊ বিদ্রোহ করতে চাইলে আমরা তাকে ঠেকাই
আর নিয়তির দোহাই দিয়ে সব সহ্য করি
কেবল গভীর রাতে জেলখানার বাতাসে
গোপনে ভাসতে থাকে একটা রুদ্ধ কান্নার সুর
আমাদের জেলখানাটার নাম সোনার বাংলা
চাঁদ দেখা কমিটির রিপোর্ট
পাড়ার নাস্তার দোকানে সকালের ভিড়
কালো মোটা মেঘের মতো পুরুষেরা বসে আছে
পরোটা ডালভাজি আর টাটকা গুজবের লোভে
হোটেলের সারাটা আকাশ পুরুষের গন্ধে ঢাকা
এখানে মেয়েদের উদিত হওয়ার কোনো সুযোগই নেই
এমন সময় চুলার পাশের জানালায় শোনা গেল
একটা মিহি গলার আওয়াজ
কয়েকটা পরোটা আর ডালভাজির অনুরোধে ভরা
সাথেসাথে আমাদের চোখ চলে গেল জানালায়
সেখানে উদ্ভাসিত আকাশে ভাসছে একটা মেয়ের মুখ
ঠিক একটা চাঁদের মতো ফর্সা
আর তার কণ্ঠস্বর মিহি জোৎস্নার মতো
ছড়িয়ে পড়েছে হোটেলের জংলি ঘরটার পুরা অরণ্যে
আমরা পুরুষ মেঘেরা এখন স্তব্ধ
পাড়ার দোকানে প্রাতঃরাশ করতে গিয়ে
আজ সকালে ফ্রিতে চাঁদ দেখে এলাম
আমরা কয়েকজন ভাগ্যবান পুরুষ
একটা অসমাপ্ত ক্রিকেট ম্যাচের গল্প
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ঊদ্দেশ্যে
খুবই দুর্দশাগ্রস্ত ইনিংস আমাদের
বেশ কয়েকটা উইকেট পড়ে গেছে
বোর্ডে রানও খুব একটা নেই
এখন আমার নামবার পালা
ক্যাপ্টেন বলেছেন নিজের খেলা খেলতে
ওদিকে কোচের পরামর্শ, ধরে খেলো
এসময় আরেকটা উইকেট হারানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না
আমি খুব দোটানায় আছি
কারণ আমাকে একইসঙ্গে টিকে থাকতে হবে
পাশাপাশি রানও করতে হবে সঙ্গীরা যাতে
লড়াইয়ের পুঁজি পায়
সামলাতে হবে বাউন্সার সুইং
ফাঁক খুঁজে বের করতে হবে ফিল্ডিংয়ের
আমি যেন সবকিছু পারি
আকাশটাও আজ খুব মেঘলা
বাতাস বেশ জোরে বইছে
জলকামানের মতো বৃষ্টি আসতে পারে যেকোনো সময়
আমাদের সব প্রতিরোধ আর প্রচেষ্টাকে পণ্ড করে দিতে পারে
এক নিমেষেই
তখন আমাদের আর ড্রেসিংরুমে ফিরে যাওয়া ছাড়া
কোনো উপায়ই থাকবে না
অবশ্য প্রতিপক্ষ এটাই চাইছে
বৃষ্টিতে ম্যাচটা পণ্ড হলে সিরিজটা ওদের হাতেই থাকবে
অথচ আমরা সিরিজ জেতার খুব কাছে এসে পড়েছিলাম
এদিকে বৃষ্টি আবহাওয়া প্রতিপক্ষের বোলার— সব
আমাদের হারাতে চাইছে
তবে আমরাও নাছোরবান্দা
শেষ না দেখে ছাড়বো না
শেষপর্যন্ত অবশ্য ম্যাচটা হয়নি
টানা বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল স্টেডিয়ামের মাঠ
ফলে প্রতিপক্ষের ড্রেসিংরুমে দেখা গিয়েছিল খুশির ঝলক
আর আমরা মন খারাপ করে বসেছিলাম আমাদেরটায়
স্থানীয় পত্রিকাগুলিতে পরদিন লেখা হয়েছিল,
অল্পের জন্য সিরিজটা হাতছাড়া হয়নি প্রতিপক্ষের























