অমিতাভ পালের ৫ কবিতা
প্রকাশিত : নভেম্বর ১২, ২০১৮
অলৌকিক
এই সূর্যালোকস্নাত ভিড় উষ্ণ রাস্তাঘাট দেখে
আমার মনেই হচ্ছে না আমি
একটা শীতল ক্রুর মহাশূন্যে আছি
যেখানে নিজের বুকের আগুনে পুড়ছে নক্ষত্রেরা
আর গ্রহগুলি পাক খেতে খেতে নিজেদের সেঁকে নিচ্ছে
একটু উষ্ণতার আশায়—
এই মহাশূন্যে উষ্ণতার অনেক দাম
এখানে শীতলতা একটা সাপের মতো পেঁচিয়ে ধরে সবাইকে
আর ঠেলে দেয় ব্ল্যাকহোলের গভীর অন্ধকারে
এই সূর্যালোকস্নাত ভিড় উষ্ণ রাস্তাঘাট দেখে
আমার মনে হচ্ছে আমি হলে বসে একটা সিনেমা দেখছি
কবিতা জলের মতো
কবিতা জলের মতো
পাত্রের আকারেই তার আকার
আমি রেগে উঠলে কবিতাও আমার সাথেসাথে রেগে ওঠে
হেসে উঠলে হাসে
আমি বেড়াতে গেলে কবিতাকে
ঘরে রাখা যায় না কিছুতেই
কবিতা আমার প্রভাবেই প্রভাবিত
কবিতা জলের মতো
মোলাস্কা
জামাকাপড় খুলে ফেললেই আমার ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে
একটা অসন্তুষ্ট নিরুপায় এবং বিচ্ছিন্ন আমি
যার পেশীগুলি অপুষ্ট
মাথায় দুর্ভাবনার বোঝা
আর মুখভর্তি গিলতে বা ফেলতে না পারা কটুবাক্য
আমার চারপাশে বইছে অস্থির বাতাস
আর আমি পড়তে পড়তে টলে উঠছি
সাইক্লোনে আক্রান্ত কোনো দুবলা ঘরের মতো
জামাকাপড় আমাকে ঠেকিয়ে রাখছে কোনোরকমে
জামাকাপড় আমার বর্ম
জামাকাপড় আমার যোদ্ধা
জামাকাপড়ের ভিতরে আমি একটা অতিসাধারণ ব্যর্থ মানুষ
আজকের নাটক
ভোর হলো—
সরে গেল অন্ধকারের পর্দা
আর জ্বলে উঠলো সূর্যের স্টেজলাইট
মঞ্চের পিছনে বেজে উঠলো পাখিদের ঐক্যতান
গাছপালা বাড়িঘর সব যে যার জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়লো
মঞ্চসজ্জার প্রয়োজনে—
এখন আমাদের অভিনয় শুরু হবে
অবশ্য এরমধ্যেই কিছু কিছু চরিত্র মেকআপ নিয়ে ঢুকে পড়েছে মঞ্চে
মিশে গেছে যার যার ভূমিকায়
আর কিছু এখনো গ্রিনরুমের প্রস্তুতিতে আছে বাথরুমে
কিংবা নাস্তার টেবিলে
সময় হলেই তারা মুখ দেখাবে
এবং সবার এই অভিনয় চলতে থাকবে ঘুমের আগপর্যন্ত
ভোর হলো—
এখন দেখুন আমাদের আজকের নাটক
প্রায় দশ হাজার বছর ধরে আমরা এই নাটকটা
অভিনয় করে যাচ্ছি দিনের পর দিন
জৈবিক
একটি মেয়ের দিকে একটি পুরুষচোখ যখন তাকায়
নারীত্বের ঘুম ভাঙে
মেয়েটির মৌলিক নিঃসঙ্গতা কেটে যায়
জেনেটিক কন্ট্রোরলরুম ব্যস্ত হয় হরমোনের তৎপরতায়
এবার স্বপ্ন আর ভালোবাসার জাহাজ ভাসবে
জীবনের নীল দরিয়ায়
একটি মেয়ের দিকে একটি পুরুষচোখ যখন তাকায়
যৌনতার কৃমিগুলি কোষে কোষে ঢুকে পড়ে
ডিম পাড়বার অছিলায়























