অমিয় রায় দীপের রাজনৈতিক ছড়া

প্রকাশিত : আগস্ট ০৫, ২০১৮

রুদ্ধতন্ত্রের চিৎকার

নেই নেই বলে উঠলো রব
থামলো গিয়ে রাজপথে
গণতন্ত্র আর স্বৈরতন্ত্রের
হঠাৎ সাক্ষাতে।
মশাল মিছিল গলার স্বর
দীনের বুলি একাকার
ফেলে দিয়ে বইপত্তর নকশা ছবি
করছে শুধু বলাৎকার।
মাটির পুতুল গেল ভেসে
উজান গাঁয়ের বন্যায়
রুদ্ধ মুখে থাকাই শ্রেয়
মুখ খুললেই অন্যায়।
হাতের ওপর হাত রাখাও আজ
বিভীষিকার ভয়
কালো রাত নাকি গেল চলে
তবে এখন চলছে কীসের সময়!
দিনেও আঁধার রাতেও আঁধার
সূর্যের নেই খোঁজ
শুধু শুধু মিথ্যে বলে
ভোর হচ্ছে নাকি রোজ।
সব কিছু বুঝি শেষ হয়ে
পেল সমাপ্তি
দেখছি দেখো এখানে শুধু
উচ্ছিষ্টরই ব্যাপ্তি।
তাই বলছি,
নেই নেই বলে আর
কিছু হবে না এখানে
আবার না হয় তুলবো রব
গোরস্থান কিংবা শশ্মানে।

কাঠবিড়ালী কথা

আমি একটি পদ্য লিখলাম
কাঠবিড়ালী কথা
বনবাঁদাড়ের ইতিবৃত্ত
শেষে বাতুলতা।
বাঘে সিংহে সভা হলো
কালকে নির্বাচন
নতুন করে রাজা হবে
পুরোনো দিয়ে আর কত নাচন।
হাতি সে তো বিশাল দেহী
শক্তিতে কথা বলে
শেয়ালের মতো বুদ্ধির জোর
তার এত না চলে।
চালাক শেয়াল বাঘ সিংহের
দুই পক্ষতেই আছে
নির্বাচনের বাজনা শুনে
বানর সে কী নাচে!
হরিণ দেখো শিং বাঁকিয়ে
হাঁটছে শুকনো পায়ে
নির্বাচনের কোনো কথাই
লাগায় না সে গায়ে।
ইচ্ছে ছিল এবার নির্বাচন
করবে হরিণ বাবু
বাঘ সিংহের গর্জনেতে
সে গৃহবন্দি কাবু।
পাখপাখালি বেরিয়েছে
খবর দিতে দেখি
নির্বাচন যে ঘনিয়ে এলো
নেই সময় বাকি।
ময়ূর সে যে পেখম তুলে
নাচছে বেশ ভারি
নির্বাচনের আনন্দেতে
নিদ্রা কেলেঙ্কারি।
সবাই দেখি কষছে খুব
নির্বাচনী চোথা
নতুন রাজা হবে কে
বনের মাঝে হেতা।
হঠাৎ করে এলো খবর  
হবে না নির্বাচন
কাঁঠবিড়ালী ছড়ালো কথা
রাজায় রাজায় অস্ত্রারণ।
অবশেষে দেখি আর
হলো না নির্বাচন
বনপতি পশুরাজ
আর পুরোনো সিংহাসন।

বিয়ান বেলা

কথা যেথা মৃত্যু হেতা
ধর্ম যেথা ভয়
অট্টহাসি নগর কান্না
ভগ্নবেশে রয়।
বিয়ানেতে বসবে যে
তাসের খেলাঘর
অর্গলখানি রইবে শুধু
ভাঙবে মোদের ঘর।
আসবে না দেখতে মোদের
রাজা, মন্ত্রি, উজির
আমরাও শালা যাব না যে
ভোট বাণিজ্য স্থবির।
নগ্নসাধু হেঁটে এসে কহে মোদের, ওরে
গেলি, গেলি, তোরা এবার রসাতলে।
ওহে সাধু আর কী যাব
রসের তলে
রস তো মোদের নিংড়ে গেছে
আর তল তো মোরা জন্ম ছলে।
মুচকি হেসে সাধু কহে
ওরে বোকার দল
ওরা হলো ওপরওয়ালা
তোরা হলি ছাওয়ল।
আমরাও হেসে দিলাম কহে,
হতোই যদি ওপরওয়ালার
ভোটের বছর আসে কেন
রোজ বিয়ান বেলা।