চিত্রকর্ম Victor Tkachenk

চিত্রকর্ম Victor Tkachenk

অরিজিত কুণ্ডুর তেজস্ক্রিয় কবিতা

প্রকাশিত : এপ্রিল ২৩, ২০১৮

প্লাস্টিক অপ্রেম

সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনে নিওন আলোময় শহরজুড়ে ম্যানিকুইন।
গোলাপের আদানপ্রদান বড় যান্ত্রিক লাগে,
বুদ্ধিজীবীদের বড় মৃত মনে হতে থাকে,
মনে পড়ে মেট্রোর মৃত মানুষগুলোর পাষাণ চোখজোড়া ।
অস্তিত্বের আশ্বাস থেকে বঞ্চিত মানুষেরা
প্লাস্টিক ইমেজে খুঁজে চলে স্বপ্নের প্রতিবিম্ব,
শহরময় যৌন অশ্লীলতা আর মাংস কাটার উল্লাস,
সাধকের নির্বাণ আজ দুঃস্বপ্নই বটে।
ধুলোময় খড়খড়ে ধূসর দেওয়াল
সেই ডুবে যাওয়ার কথকতা আওড়ায় ।
গাছের শিকড়ের ছালে শোষণের ইতিহাস জমা,
প্রেম অপ্রেম বড় প্রেমহীন নৈরাশ্যময়,
মূক বধির অন্ধ সমাজে আরও বেশি হ্যালোজেন।
যখন একাকী বহিরাগত হেঁটে চলে শহরে
চোখে তার ভাসে না কো তারা,
যুবতীর চোখের জল শুষে নেয় কংক্রিট।
এমন সময়ে কি প্রেম সম্ভব বলো?
বলো কাছে আসতে পারবে
পরস্পরের শত মাইল ব্যবধান ঘুচিয়ে
শত শতাব্দীর আত্মবিযুক্তি হারিয়ে,
আসতে পারবে কি
আকাশে জোনাকির আলোয় ফিনিক্স পাখির গানে
অন্ধকার একাকী নিঃসঙ্গ রাতে
নক্ষত্রময় ছড়িয়ে দিতে পারবে তোমার ভালোবাসা?

হে বৃক্ষ

হে বৃক্ষ,
ধরণীর সুধা তুমি বহন করে চলো
কত সময়ের ইতিহাসের গান নিয়ে দোলো
কত মানবীর চোখের জল মোছো
হে বৃক্ষ,
বাতাসে ওড়ে যখন চেতনা
দিয়েছো তার নির্যাস কত জীবিত মৃত প্রাণীকে
কত নির্জীব পাথরে ফুটিয়েছো ফুল,
কত শত মহাজাগতিক আঘাত সয়ে
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নত হয়েছো বারবার,
মরে গিয়ে আবার বেঁচে জননীর প্রার্থনা হয়েছো
হে বৃক্ষ,
প্রেমিকার কান্না শুষে দিয়েছো গোলাপ অস্ত্রাগারে
আর প্রেমিকের বিরহ শুষে বৃষ্টি এনেছো
যোদ্ধার ছায়া হয়েছো,
পথিকের হয়েছো পান্থশালা,
সাধকের হয়েছো নির্বাণ
হে বৃক্ষ,
কত অস্ত্রাঘাতে বারবার আহত,
কত পুঁজিবাদী চক্রান্তে উৎপাটিত,
কত শত পাতার দোলায় উৎসাহিত,
কত মুকুলের ফোটায় আলোকিত।
কত আলোময় ফোটন তোমায় প্রাণ দেয়
আর দাও ফিরিয়ে সে প্রাণ
গ্যালাক্সি থেকে গ্যালাক্সিতে

হে বৃক্ষ,
চক্রান্তময় সভ্যতার মরণ ব্যাধিতে
যখন তুমি হতে যাবে বিলুপ্ত,
আমরা থাকবো,
লড়বো,
রক্ত প্রেম অস্ত্র দিয়ে
বারবার মরে আবার বেঁচে
আমরাই বাঁচাবো তোমায়
হে বৃক্ষ,
রইলো তোমার কাছে
দৃঢ় অঙ্গীকার।

ছাড়পত্র ২

সিরিয়ায় শিশুর মুখ কঙ্কাল।
কেন জানো?
সিরিয়ায় যখন নরক থেকে বোমা পড়ছিল,
আমরা আলিঙ্গনে মগ্ন ছিলাম,
ব্যস্ত ছিলাম আত্মিক সংকট বিনিময়ে
ব্যস্ত ছিলাম রমণে
আত্মরতিতে।
তুমি যখন কবিতা লেখা শেষ করে
গাছের চারায় জল দিচ্ছিলে

আমি যখন শিল্পকলায় মগ্ন হয়ে
অতিসংহত,
তখন শুনি পুলিশকে গোলাপ দিলে অন্ধ করে দেয়,
সরকারদলীয় নেত্রী আন্দোলনকারী ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে দেয়,
শুনে তুমি চিন্তিত, আহত, পর্যুদস্ত
আর আমার কথা না-হয় নাই বা বললাম।
এই মৃত সময়ে
সভ্যতার নিওন কোলাহলে দুজনাই পরাজিত।
এমন সময়ে চলো সংহত, প্রস্তুত হই
প্রস্তুত হই ঈশানকোণে শিউলিফুল ফোটাবার জন্য,
প্রেয়সী চলো সভ্যতার এই অমানবিক অত্যাচারে
শুধু না হয়ে আহত,
প্রেম, অস্ত্র নিয়ে পুঁজিবাদ আর চেতনায়
কামান দাগি।
চলো মোর সন্তানদের বাসযোগ্য করে তুলি এ পৃথিবী,
চলো পাখিদের গান গাওয়ার সু্যোগটা
অল্প বাড়িয়ে দিই,
বাতাসে ধোঁয়া ধুলোর বদলে অক্সিজেন ভরি,
চলো চলো কামান দাগি।