আবু তাহের সরফরাজের অল্প কথার কবিতা
প্রকাশিত : আগস্ট ২৪, ২০১৮
মেঘ মেঘ যেন এখনও আকাশ
আষাঢ়ে প্রথম মেঘ
আমি তাকে ডেকে আনিনি
মেঘ যাদের প্রিয় ঋতু
তারা বসে বসে কথা বলছে আর আমাকে
চলে যেতে বলছে তাদের মাঝখান থেকে
ঘরে ফিরে এসে আমি ঘুমিয়ে পড়ি
ঘুম থেকে উঠে দাঁতন করি, দেখি
মেঘ মেঘ যেন এখনও আকাশ।
চাঁদ
সূর্যের আলোয় চাঁদ দ্যাখা যায় না
যদিও সে আছে, তবু অনুজ্জ্বল
সূর্য ডুবে গেলে প্রকাশ পায় তার ঔজ্জ্বল্য
রাত্রির স্তব্ধতায়, মহাবিশ্বের নিঃসীম নির্জনে
এসময় চাঁদ নিজেই অনন্য!
সঞ্চয়
যা পেলাম আর যা পেলাম না
তা সকলই আমার সঞ্চয়
আলোর আড়ালে আঁধার
আঁধারের আড়ালে আলো
এই সেতু
পেরিয়ে যেতে যেতে আমি
গোধূলির সূর্যাস্ত দেখেছি।
রঙের মৃতদেহ
রঙ হারালে চোখের আঁধার
আর হবে না আলোর জগৎ দেখা
রঙের মৃতদেহ কালো
অন্ধকারে একা!
ছায়া
এক মানুষের দুইটা ছায়া
এক সে নিজে
আরেক মায়া।
চুম্বনের ধ্বনি
প্রতিদিন যদি শূন্যতা ঘেরা মানুষের সংসার
আমাদের চুম্বনের ধ্বনি পূর্ণতা হবে তার!
সূর্য ডোবার ঘাটে
সূর্য ডোবার ঘাটে এক কিশোরী
চোখের রঙে গোধূলি ছুঁয়ে বসে ভাবছিল
কোনও এক বসন্তদিনের ছবি
এরপর এই পৃথিবীতে
রাত নেমে এসেছিল
চারপাশে শাদা মেঘ মাঝখানে চাঁদ
কিশোরীর মুখের মতোই উজ্জ্বল!
বিষণ্ণ বেড়াল
মুখুজ্যে বাড়ি থেকে যে বেড়াল এসেছিল
তা এখন তোমার বেড়াল।
তুমি তাকে খাওয়াচ্ছ
তুমি তার সঙ্গে খেলা করছ।
তুমিও যে একটা বিষণ্ণ বেড়াল।
গোলাপের কাশিদা
গোলাপের কাশিদা মনে হলো
যেন একটি নক্ষত্র
আকারে-প্রকারে উজ্জ্বল
এই সৌন্দর্য কি নারী?
গাছ?
পাখি?
অন্ধকার?
ছিপছিপে একটা নদী?
অথবা আমার হৃদয়!
নাম লিখেছি ঝরাপাতায়
নাম লিখেছি ঝরাপাতায়
এই দৃশ্য নিয়ে মাথায়
এলাম ঘরে
শূন্য ভিটে উঁইয়ের ঢিবি
বলল ডেকে, আমায় নিবি?
আমি তো নীরব।
অন্ধকারের সারথি
মেঘ ডেকে ওঠে গুরু গুরু
অন্ধকারের সারথি একা যাচ্ছিল রথে চেপে
হঠাৎ বিজলি
চারদিকে চমকিত
স্থির একা অন্ধকারের সারথি
মহাকালের রথের ওপর চেপে।
দুঃসংবাদ
দুঃসংবাদ আমি কিনেছি তোমাকে
আমার অন্ধকার দিয়ে।
আলোতে চোখ কড়কড়
অন্ধকার তো নেই।
তবু গান যদি ভাঙে তার সুর
আমি ভাষার মতো মৃত হয়ে শুয়ে থাকি।
ধর্ষণ
প্রতিরাতেই ধর্ষিত হচ্ছে নারী
যাকে সে চায়, তার সঙ্গে মিলতে না পেরে
প্রতিরাতেই ধর্ষিত হচ্ছে পুরুষ
যাকে সে চায়, তার সঙ্গে মিলতে না পেরে।























