আবু তাহের সরফরাজের কাহিনিছড়া ‘সন্ধে’
প্রকাশিত : মার্চ ১২, ২০২০
সন্ধে নামে বনবাদাড়ে
পদ্ম ফোটা দিঘির ধারে
সন্ধে নামে ধীরে
গ্রাম ডিঙিয়ে খেতের আলে
কৌটো খুলে সিঁদুর ঢালে
আকাশটাকে ঘিরে।
আকাশরাঙা লালচে আলো
দেখতে খুবই লাগছে ভালো
বিভ্রমে তা আঁকা
পাহাড় ঘেরা দেখছ ভূমি
মুহূর্তে তা দেখবে তুমি
গর্ত দিয়ে ঢাকা।
সন্ধে নেমে এলো
পলাশডাঙার হাট পেরিয়ে
মাঠ বেড়িয়ে
খাল কিনারে এসে
হাওয়ার সাথে ভেসে
বইছে এলোমেলো
সন্ধে নেমে এলো।
কাঁপছে পাতা তিরতির
বইছে হাওয়া ঝিরঝির।
রাখাল ছেলে ফিরছে গাঁয়ে
সঙ্গে গরুর পাল
হঠাৎ দ্যাখে আকাশ কোণে
জ্বলছে কী গোলগাল!
মাঠের শেষে গ্রামটা ঘিরে
ছমছমে গাছপালা
তার ওপরে চাঁদ উঠেছে
দেখতে রুপোর থালা।
রাখাল ছেলে উদাস মনে
যায় পেরিয়ে খাল
সন্ধে খুবই আলগোছে তার
দ্যায় ছড়িয়ে জাল।
ঝুপ করে সে সন্ধে নামে
রঙটা ফিকে কালো
জোনাক পোকা দ্যায় জ্বালিয়ে
একশো কোটি আলো।
সজনে গাছের চিকন পাতার ডালে
মুহূর্তে কে আলকাতরা ঢালে?
ভূতের মতো ছমছমে চারদিক
হাঁটতে গেলে রাস্তা রেখো ঠিক।
সবুজ সরু ঘাসের বনে
আলগোছে গা আপনমনে
দ্যায় বিছিয়ে সন্ধে এসে
ঘুমের মতো ভেসে ভেসে...
পুকুরপারে নুইয়ে পড়া
ঘাড় হেলানো গাছে
ডাকছে পাখি সন্ধেটাকে
সন্ধে এলো কাছে।
ঝাপটে ডানা সন্ধে নিয়ে
ফিরল পাখি নীড়ে
চৌধুরীদের আমবাগানে
গাছগাছালির ভিড়ে।
গাছের ডালে পাখির বাসা
তিনটে মোটে ছানা
আগলে রাখে দোয়েল পাখির
ছোট্ট দুটি ডানা।
ডাকছে ঝিঁঝি একটানা
ভয়তে কাঁপে তিন ছানা।
অনেক দূরে
সাগর-নদী-পাহাড় ঘুরে
বিজন নদীর ঢেউ দুলিয়ে
পথ ভুলিয়ে
সন্ধে এলো ওই
মাঠের শেষে
তোমার বাড়ির কাছটি ঘেঁষে
কলতলা আর উঠোন দিয়ে
পাঁচ ফোড়নের গন্ধ নিয়ে
সন্ধে এলো ওই।
বনবাদাড়ে নদীর ধারে
ছাইরঙা সে সন্ধে
ফাঁদ পেতেছে আর মেতেছে
মৌরি ফুলের গন্ধে।
গ্রাম ডিঙিয়ে গ্রামে
সন্ধে কী আর থামে?
নির্জনতা বলছে কথা
শঙ্খনদীর বাঁকে
তার দু’তীরে বনের ভিড়ে
পাখপাখালি ডাকে।
বিজন নদীর কূল ভেঙেছে
শঙ্খনদীর ঢেউ
সন্ধে যদি দৌড়ে পালায়
জানতে না তা কেউ।
পাখির গানে গুনগুনিয়ে
বাজল কীসের সুর?
সন্ধে গেছে তেপান্তরে
অনেকটা পথ দূর।
ঘুমপাড়ানি ঘুমের দেশে
সন্ধে পড়ে হেলে
ঘুমকুমারী ঘুম পাড়াবে
নাচবে হেসেখেলে।























