আবু তাহের সরফরাজের পাঁচটি ছড়াকাব্য

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২০

জনগণ

জনগণ হুজুগে
ভয় পায় জুজুকে।
আজ যাকে ডাকে, দাদা
পরদিন বলে, গাধা।

জনগণ বোকা তাই
দেশ থাকে কব্জায়।
শোষণের যন্ত্র
হলো গণতন্ত্র।

ভোটারের অধিকার
শোষণের হাতিয়ার।
রাজপথে জনতা
প্রাণ দ্যায়, শোনো তা।

নেতাদের চালাকি
বোঝে কোনো শালা কি?

তেরিমেরি পালোয়ান

গুমগুম ভাঙে ঘুম গুড়িগুড়ি বিষটি
গুনগুন গান গেয়ে খাও ঝাল মিষটি।
পা ফেলে গুটিগুটি এলো ওই গুগলি
কথা বলো গুছিয়ে, করো না হে চুকলি।

সকালের কাঁচারোদ উঠোনের ঘাসে
ছায়াবীথি ইসকুলে যায় আর হাসে।
তেজপাতা খেয়ে সে হলো খুব তেজী
তেলচিটে তেলাপোকা ধরে আনে বেজি।

তেরিমেরি পালোয়ান ছুটে এসে বলে,
চলো যাই ধানক্ষেতে পানি দেয়া কলে।
ইসকুলে প্রতিদিন পড়া আর লেখা
ভালো আর লাগে না তো গৎবাঁধা শেখা।

কত কত পড়া এই পৃথিবীর বুকে
হৃদয়ের খাতা খুলে নাও সব টুকে।

ভ্যানগগ

গোধূলির সোনারঙে স্বপ্নের ছবি
আঁকলেন ভ্যানগগ, ভিনদেশি কবি।
নীলিমার নীলে আঁকা তার ক্যানভাস
সবুজের মাঝখানে মাঠজোড়া ঘাস।

গোধূলির মাঠে মাঠে হাঁটে ভ্যানগগ
নীলিমার বুকে ঘুম দেয়া তার শখ।
পৃথিবীর ওইপাড়ে নীলিমার নীলে
ঘুম এলে ঘুমোবে দুইজন মিলে।

নীলিমার রঙছবি মুছে দিলে কেউ
থেমে যাবে সাগরের সবগুলো ঢেউ।
সূর্যের কাছাকাছি তাই ভ্যানগগ
ক্যানভাসে আঁকে নীল আসমানি বক।

ছায়াবীথি পড়বে ছবি

ছায়াবীথি পড়বে ছবি
আঁকুন কিছু রফিক নবী।

একটি গাছে জবাফুল
ছায়াবীথির কানে দুল।

আঁকুন নদী ছিপছিপে
যা পেরোতে হয় জিপে।

বাঁশবাগানে নিঝুম চাঁদ
আঁকুন তো এই চাঁদনি রাত।

খসখসে কাঠপেনসিল
আঁকতে পারেন গাঙচিল।

গাঙ পেরোলেই ছোট্ট গাঁ
রঙ তুলিতে আঁকুন তা।

ছবির কবি রফিকুন
ছায়াবীথি হেসেই খুন।

ছায়াবীথি পড়ছে বই

ছায়াবীথি পড়ছে বই
এই বইতে ছবি কই?

চওড়া নদী বাঁশের সাঁকো
যেমন খুশি তেমন আঁকো।

এই যে তোমার লেখার খাতা
ছবির রঙে রাঙাও পাতা।

এসব ছবি বইতে দেব
ছড়ার কথায় মিলিয়ে নেব।

তারপরে তা ছায়াবীথি
পড়বে বাবার ছড়াগীতি।