আশরাফ রোকনের একগুচ্ছ কবিতা

প্রকাশিত : অক্টোবর ১০, ২০১৮

ব্যাঘ্রজীবন

সবাই বাঘ, বাঘের মতো
কেউ বড় আর কেউ ছোট
আলাদা কিছু না
বড়রা ভালোবাসে রক্ত
ছোটরাতো দুগ্ধপোষ্য!

বড়রা শেখায় ছোটদের
কী করে থাবা মেলতে হয়
থাবা মেলতে না জানলে যে
বৃথা এ ব্যাঘ্রজীবন, শেখায় তা-ও।

দু`মুখো সাপ

দু`মুখো সাপের সংখ্যাই বাড়ছে দিন দিন
আমাদের পল্লীতে তাইতো সর্পভয় বেড়েছে অধিক
মুখে মুখে অত ওঝাদের বিরল গুণকীর্তন

দু`মুখো সাপগুলি কিন্তু বর্ণচোরা
ওদের হলদেকালো ডোরার ভিতরে পড়ে
কারো দৃষ্টিশক্তিই ঠিকভাবে কাজ করে না,
ফলে সমূহ দংশনের আশংকা দুইদিকে,
যে যার দিকে যতই ঝুঁকে থাক না কেউ
দু`মুখোর মুখ কিন্তু দুই দিকেই খোলা!

দূর শৈশবে জেনেছি, দু`মুখো সাপ লাঠিতে মরে না
ওদের আগুনে পুড়িয়ে মারতে হয়।

নির্জনতা

আমার সঙ্গে খেলারত
এখানে রাত্রির ছায়ারাই
বেপরোয়া ঝড়ের তাণ্ডবে দাঁড়িয়েও
ভুলি না কখনো তোমাকে হে নির্জনতা
যে তুমি ফুলের বিবশ রেণুর চেতনা

পায়ের নিচে মাটির উপর দাঁড়িয়ে
বাতাসের সাথে মিশে যাওয়া
সাধুদের মুখের দ্যুতির ন্যায় দীপ্ত
সমস্ত আলোর উদ্ভাস ভেবে তোমাকে
আগামীকালের জানলায় রাখি মুখ

চাপা-কঠিন ছায়াদের প্রচ্ছায়াগুলো
ভেঙে ফেলে দিয়েই এখানে
অন্ধকুঠুরিতে নয় আর বেশিক্ষণ।

আমার আগুন

দূরে নয় কোথাও, কাছেই আছে
কল্পলোকে নির্ঘুম সে
উদিত সূর্যের তীব্র মেধা,
চেতনায় জ্বলে উঠা উজ্জ্বল আগুন

যে পোড়ায় নিজেকে নিজের আগুনে
যেমতি প্রমিথিউসের আত্মা দাউ দাউ
বলার থাকে না কিছুই আর তখন
নিজের আগুনে নিজেই পোড়া যখন!

গোলাপের পাপড়ির পবিত্রতা ভেবেই বিনম্র
আজো কোলে তোলে নিই আগুন,
আমারই নিজের আগুন—

দূরে নয়, কাছেই আছে কোথাও
সম্পর্কের গভীরে লুকিয়ে এক ফোঁটা
রক্তের গভীরে যেমতি লুকিয়ে মৃত্যুবীজ।

বিবমিষা

বিবমিষার কালো রাত্রি ঘিরে
সারি সারি প্রার্থনারত গাছ আর
বুনো ফুলগুলির চোখের অশ্রুই
ঘুমাতে দেয় না

নিশিপোকাদের উলুরব,
সন্ধানি আত্মজাগরণে
নির্জনতা ভেঙে তৈরি একটা জগৎ:
সুর ও সৌন্দর্যের, বেদনা ও আনন্দের
যেন-বা রাতের অর্কেস্ট্রাই
থেমে থেমে বাজছে অবিরাম
উদাসীন অজস্র চোখের ঘুম কেড়ে

আলোকিত হয়ে ওঠার স্বপ্নে নির্ঘুম
সারি সারি প্রার্থনা রাতের
একদা এক বনভূমির ভোরে
শরতের রঙিন রোদ্দুর হবে জানি।