আশরাফ রোকনের মে দিবসের কবিতা ও অন্যান্য
প্রকাশিত : মে ০১, ২০২০
মে দিবসের কবিতা
এক.
অনুকূল হাওয়া এসেই
একদা উল্টে দিলে মুখোশ
আড়াল করতে পারবে না
কখনো আর নিজের মুখ,
জগৎ সংসার হয়ে উঠবে
আলোয় আলোময় এখানে
অন্ধকার দূরে গিয়ে জানি
সহসাই লুকোবে নিজেকে!
দুই.
শস্য পাহারার কালে গুছিয়ে এনেছি খড়
এখনি ধরাবো আগুন মাঠের মাঝখানে:
খড়ের আগুনে পুড়িয়ে মারবো বলে
দুর্মুখ শ্বাপদ, হিংস্র সাপ ও বিচ্ছুদের;
পৃথিবীকে প্রত্যহ যারা করছে দংশন!
মর্মের অসুখ
হয়তো-বা মর্মের অসুখ, যেন তাই
সকালবেলায় ঘুম ভাঙতে না ভাঙতেই
দরোজায় এসে প্রত্যহ রোজ এখানে
মৃত্যুদূত তার পাখা খুলেই দাঁড়ায়:
নিঃশ্বাসে ক্রমশ দেখা দেয় ভাঙন
কুচি কুচি বাতাসের মর্মে ঢুকে পড়ে
ক্ষীণ, চিন্তারেখার চেয়েও সূক্ষ্ম
অসুখের বীজ, দেখাও যায় না আর:
আমাদের কাছেই থাকে চির অপরিচিত
যেন কোনো গোপন আততায়ীই এক,
ছোরা হাতেই সংগোপনে থাকছে আড়াল;
প্রতিবার কেড়ে নিতে চেয়ে মর্ম আমাদের!
সূর্য ডোবার পর
সকালবেলায় সূর্য হেঁটে এলে তোমাদের বাড়ি,
কী করো তখন?
নিজেকে লুকোও
কোথা কোন পালক ছায়ায়!
পোড়ো খড়ে আটকেই থাকো নাকি পড়ে
কোনো ঝরাপাতার সমিল?
ধুলোর সাথে জড়াও অস্ফুট
বিস্ময়ের দেয়ালগুলোয়
ধ্স নেমে এলে,
উৎসবের রঙের মতো
ফুরিয়ে গেলে দুপুর কী করো তখন!
সন্ধ্যার ঘূর্ণায়মান চোখের পরিধি
জুড়ে জমতে থাকা আঁধারে—
রাত্রির নিচে কামনাদগ্ধ
এক সন্দিহান কাঠপোকা
কুরে কুরে খায় যখনই
সময়কে কেটেকুটে করে সর্বনাশ,
অচেনা অরণ্যে ঢাকা পড়ে
তেলাকুচা ফলের শৈশব;
কী করো তখন?
বাতাসে সহসা আলোড়ন
তোলেই সূর্য ডোবার পর!
পণ
অমানিশা রজনী এখন
চার দশ একশো দিকেই,
থোকা থোকা মেঘের বহর
বাতাসে নড়ে না এতটুকু।
আঁধারের সাথে উপমিত
মনে হয় নিজেকেই কোনো
অজানার পাখির পালক,
একান্ত অনাগ্রহেই উড়ে
এসে পড়েছি কারো সন্মুখে!
উষার সান্নিধ্যেই দাঁড়ানো
অচেনা এক উদ্ভিদ যেন,
জড়িয়ে ধরেছি শূন্যতারে;
শূন্যের মাঠের শেষ রেখা।
সোনারঙের খড়ের মতো
নতুন দিনের আকাঙ্ক্ষায়—
চিনে নিতে চেয়েছি আপনি।
রাতের গন্ধ
সবকিছুতেই এখন একটা রাতের গন্ধ প্রবল:
ঘর থেকে উসাড়া, উসাড়া থেকে ধাইর;
বাইরে নিচে নামার সিঁড়ি পার হয়ে ক্রমাগত
উল্ডি তলায়, উঠোনে, বাইরাগ, দূর্বাচট্টন সর্বত্র জুড়ে
রাতের গন্ধেরাই বিপুল উঠে আসে নিঃশ্বাসে
ঘরের ভিতরে ও বাইরে সব জায়গায় একই সমান
বিন্যাসিত যেন তারা একটা গন্ধেরই বাগান!
মাটিবায়ুআলোজলেই বেড়ে ওঠা নিয়ত
কাণ্ডডালপুষ্পপাতাবীজ অন্তরীক্ষে
সূর্যের কপালে লেগে আছে কতক রাতের গন্ধ,
ভোরের আগে আগেই মোরগের বাকের সময়
যখন রাতের গর্ভে জন্ম নেয় সূর্য;
মনে হয় কারো কালো চুলের বেণী থেকে এখানে
থেকে থেকে ভেসে এসে ছড়িয়ে পড়ছে গন্ধ
কাদামাখা কোনো রাতে আর
রাতের চেনাঅচেনা গন্ধই অনেক।
যাও
আমাকে ছেড়ে চলে যাও তুমি, যে তুমি এখানে
পারোনি ভালোবাসতে কখনও ছেড়ে চলে যাও
আর মুক্ত করে দাও আমার ইচ্ছেগুলির ডানা;
বাতাসে উড়ে বেড়াক যত্রতত্র তারা পরম আনন্দে
নিজেদের খেয়াল খুশিমতো যে-দিক খুশি সে-দিকেই
উড়ে যাক নিরন্তর পানে নিরুদ্দেশে এখনই:
প্রবল হওয়ার আগেই বুকের যাতনা যাও,
এখানে একা থাকতে দাও একা একটা জীবন।























