করোনা আপডেট
আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ১৮৬৮৯৪ ৯৮৩১৭ ২৩৯১
বিশ্বব্যাপী ১৩২৪৯৫৭৫ ৭৭১৮৩০৭ ৫৭৫৮৪৪

আশাপূর্ণা দেবীর গল্প ‘ম্যানেজ’

প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৮, ২০২০

কথাসাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর আজ জন্মদিন। ১৯০৯ সালের ৮ জানুয়ারি (বাংলা ২৪ পৌষ, ১৩১৫) শুক্রবার সকালে উত্তর কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ছাড়পত্রের পক্ষে থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে তার রচিত ‘ম্যানেজ’ গল্পটি পুনর্মুদ্রণ করা হলো:

ভাদ্রের ‘অনুক্রম’ খুলে কবি বল্লভ সেনের টাকের চুল খাড়া হয়ে উঠলো। এর মানে? কী এ? তাঁর সঙ্গে এই মস্করা করেছে ‘অনুক্রম’ সম্পাদক বসন্ত বাগল?

‘আধুনিক’ কবিতা লিখলেও বল্লভ সেন কিছু আর সদ্য তরুণ নয়। রীতিমত প্রতিষ্ঠিত কবি। কবি সম্মেলনে পুরুত হতে আগে তার ডাক পড়ে। ভালো ভালো সাহিত্য পুরস্কারগুলি প্রায় সবই পেয়েছেন তিনি। এবং ‘অনুক্রম’-এও তিনি সব আজ লিখছেন না।

টেলিফোনের রিসিভারটা তুলে খট খট করে ডায়াল করে বললেন, ‘বসন্তবাবু?’
‘কথা বলছি।‘
‘কথা আর – বলবেন না!’ খেঁকিয়ে উঠলেন বল্লভ সেন কবির সুষমাময় ভঙ্গী ভুলে।
‘আপনার এ সংখ্যার কাগজে আমার নামে একটা কী ছাপা হয়েছে? বলুল। শুনতে চাই আমি, এটা কী?’

বসন্তবাবুও আজকের সম্পাদক নন, তিনি গম্ভীর গলায় বলেন, ‘কী সেটা আমিও বুঝিনি। যা দিয়েছেন তাই ছেপেছি।‘
‘যা দিয়েছি! আমি এটা দিয়েছি?’
‘বাঃ না দিলে পেলাম কোথায়!’
‘কে নিয়ে গিয়েছিল?’            
‘যে যায়। ‘অনুক্রম’-এ পিয়ন বরজলাল।‘
‘আমার কাছ থেকে নিয়ে গিয়েছিল?’
‘না, আপনি বাড়ি ছিলেন না। আপনার চাকর বলেছিল, বাবু রেখে গেছেন।‘

বল্লভ সেন, একটু গুম হয়ে গিয়ে বললেন, ‘দেখে আপনার খটকা লাগেনি?’
‘না তো!’
‘না তো! আশ্চর্য! পড়ে মনে হয়েছিলো এটা কবিতা?’
‘সে তো কোনোদিনই– কিছু মনে করবেন না স্যার, মানে আমি ঠিক বুঝতে পারি না।‘
‘এটাও বুঝতে পারেননি? পড়ুন তো! পড়ুন জোরে জোরে–‘ টেলিফোনের ওপার থেকে বসন্ত বাগলের কণ্ঠ ভেসে আসে-

সিগারেট (উইলস) এক প্যাকেট।
ক্যান্থারাইডিন এক শিশি।
মার্গো সাবান দু’খানা।
সুলেখা কালি এক শিশি।
আশোক ব্লেড এক প্যাকেট।
রিফিল ১টা।

‘এই স্টেশনারি দোকানের ফর্দটাকে আপনি কবিতা বলে চালিয়েছেন। চাকর না হয় ভুল করেছে- কিন্তু আপনি-?’
‘মাই গড! স্টেশনারি দোকানের ফর্দ? কী করে বুঝবো বলুন?’ গত মাসেরটাও তো এই ধরণেরই ছিল-
একগোছা ফুল,
একমুঠো হাড়,
কয়েক কিলো মাংস,
কয়েক গ্যালন রক্ত,
আর—

`থামুন থামুন! ওই আর এই এক হলো? যা সর্বনাশ করলেন আপনি আমার! পাঠকরা-`
বসন্ত বাগল একগাল হেসে বললেন, ‘সেজন্যে চিন্তা করবেন না আর। সে আমি ম্যানেজ করে দেব স্যার। আমাদের ননীবাবুকে দিয়ে এমন একখানা জম্পেস করে সমালোচনা লিখিয়ে বেনামিতে পাঠিয়ে দেব! জীবন মৃত্যু ঈশ্বর ঘৃণা প্রেম ইত্যাদি ইত্যাদি শব্দগুলো লাগিয়ে দিতে বলবো ফাঁকে ফাঁকে। পাঠকের মাথা গুলিয়ে যাবে। ম্যানেজ হয়ে যাবে।`

লেখাটি কুমারেশ ঘোষ প্রবর্তিত রঙ্গ ব্যঙ্গ পত্রিকা যষ্টিমধুর ‘ভাদ্র আশ্বিন, ১৩৭৯ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়। বর্তমান লেখাটি কুমারেশ সম্পাদিত বই ‘যষ্টিমধু নির্বাচিত সংকলন’ থেকে পুনর্মুদ্রণ করা হলো।