আশিক আকবরের একগুচ্ছ কবিতা
প্রকাশিত : এপ্রিল ০২, ২০১৮
পরকীয়া
হতে পারে সদ্যমৃত প্রেমিকের জন্যে, ফেলে যাওয়া প্রেমিকার বুকেও, আবার জাগতে পারে প্রেম।
আর সে পরকীয়া করতে পারে, স্বামী বা নতুন প্রেমিকসহ, তার পরিত্যক্ত সদ্যমৃত প্রেমিকের সাথে।
খুব খারাপ লাগলে তারা, প্রেমিকের কবরের কাছে বসতেও পারে দুই দণ্ড!
কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি ক্ষেত্রটা মনে পড়ছে, কী ছিল তার ঢাকাইয়া প্রেমিকার নাম?
কালো ঘোড়া
আমার ঘোড়া কই! সেই লালচে রঙের ঘোড়া। কুচকুচে কালো ঘোড়াটা কই! যে জ্যোৎস্না রাতে সবুজ ডালক্ষেত খেতে চলে যেত? আমাকে দেখলেই যে লাগামশুদ্ধ দুই পা তুলে দিতো চিঁহিঁ চিঁহিঁ ডাক...
গফুর কোচোয়ন, না, না গফুর সহিস, আমার চাবুক কই? জিন চাপাও সহিস গুহুর, ঘোড়দৌড়ে যাব। ভ্রুনস্কির পরাজয় মানা যাচ্ছে না, আন্নার কান্না অসহ্য অস্থির করছে। তলস্তয়, আপনি দেখুন, আন্নাকে ঘোড়ায় উঠায়ে পালাচ্ছি পার্বত্য অঞ্চলে, বনে, বস্তিতে, গ্রামীণ লোকালয়ে...
দৌড় দৌড়, যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা নয়, যুদ্ধ বাঁধাতে যাচ্ছি। আন্নার হাতে হাতের ভ্রুনস্কিরা হয়ে উঠছে কমরেড। কালো ঘোড়া, আপনার দুই পা তোলা চিঁহিঁহিঁ শুনতে পাচ্ছি। জ্যোৎস্না রাতে কলাই ক্ষেতেই যাব।
মৃত্যুর ফল
হঠাৎ আমার মৃত্যু সংবাদ পেলে
তোমার নিশ্চয়ই খারাপ লাগবে না?
দায়মুক্তির একটা দীর্ঘশ্বাস অন্তত ফেলতে পারবে!
ভালোবাসার দায়, বড় দায়।
মৃত্যুতে অনেক সময়
চারাগাছও মহীরুহ হয়ে যায়।
খণ্ডচিত্র
সেই লুকিয়ে খাওয়া টিফিন চলছে আজকেও। চলছে, সহপাঠীর জামা জুতো গাড়ির দিকে চেয়ে থাকা। পৃথিবী, সবার টিফিন বক্সের আঙুর আপেল হও! জাংক ফুড হও। দুধভাত হও সকল ঘরের।
আর হত্যা করো তাদের, যারা পুঁজির দর্শন কপচায়। যারা ধর্মের ধোঁয়া তোলে। যারা সম্পদের শয়তান অধিপতি। চালক।
আমি বিপ্লবী, সাম্যের সর্ব স্বাধীনতা না আসা পর্যন্ত আছি। একটা স্কুল, একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ পৃথিবী না হওয়া পর্যন্ত আছি।
তার প্রতি
সূর্যমুখী, এত অধঃপাত তোমার! বসন্তের শেষ দিককার রাতে চাঁদের দিকেই তাকালে? সমকামীই হলে? স্যাফো, ওই গ্রীক কন্যা, তার কাছ থেকেও নিলে না শিক্ষা? জানি, তোমার আমেরিকায় পলায়নে নারী নিবেদিকাদের তুখোর ভূমিকা ছিল। ছিল পুরুষদেরও। আমি কি খুব ভীতিকর ছিলাম? চেইন খুলে কোনোদিন কি চাঁদ দেখিয়েছি? কোনো দিন চোখ থেকে গালের দিকেও তাকাইনি। গলার কাছে সার্টের বোতাম খোলা থাকলে লজ্জা পেতাম। অন্য ঐশ্বর্যে চোখ, সে তো কোন ছাড়! দ্বৈত পাসপোর্ট নিয়ে উড়ছো আজকাল। ঘুরছো ওই মার্কামারা সমীদেরই সাথে। আমার হৃদপিণ্ড কান্দে। আমার বউ পোলাপাইন নাই। আমরা বাচ্চাকাচ্চা রাখা ছাড়াই দুনিয়া ছাড়বো! আমগর অপ্রকাশ খনিজ কারা আগলে রাখবো! আমরা কাদের দুধগন্ধ মুখে চুমো খাব? এমন নারীই হলে, নিজের তরল দুধ, চা-তে দিয়ে এক চুমুক করলে না পান। আর এই বিপ্লবীর রক্ত মাখা হাত, কি করে বুকের দুধে ধোবে? কত দিন আর, এই ব্রক্ষ্মাণ্ডে চলতে দেবে ছোট ছোট যুদ্ধকাল।























