ইজরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত ৭, ধ্বংস খাদ্যভাণ্ডার
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : আগস্ট ২৬, ২০২৬
ইজরায়েলি হামলায় গাজার বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার ৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে শিশু, গর্ভবতী নারী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য সংরক্ষিত পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রীর একটি গুদাম।
আল-শিফা হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কাছে বেইত লাহিয়ার একটি বাড়িতে ইজরায়েলি হামলায় ৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়।
এর আগে একই দিন খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় বেসামরিক লোকজনের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়।
খান ইউনিসে আগের ইজরায়েলি হামলায় আহত ৩ ফিলিস্তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। তাদের দুজন সোমবারের হামলায় আহত হয়। অপরজন প্রায় ২ সপ্তাহ আগে আহত হয়।
মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস (এমএপি) বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার ভোররাতে ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় গাজায় শিশু, গর্ভবতী নারী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য সংরক্ষিত পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রীর একটি গুদাম ধ্বংস হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনের ছাদ ও দেয়ালসহ বড় একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে গুদামে থাকা সব খাদ্যসামগ্রী ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। পরে এসব সামগ্রী মানুষের খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
গুদামটি স্থানীয় মানবিক সহায়তা সংস্থা আরড এল ইনসানের (এইআই)। সংস্থাটি এমএপির সঙ্গে যৌথভাবে গাজার প্রায় ৬০টি চিকিৎসাকেন্দ্রে সহায়তা দিয়ে আসছিল। এসব কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ১০০ নারী ও শিশু চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেত।
এইআইয়ের প্রকল্প সমন্বয়ক সাহার সালেম বলেন, “গুদামে থাকা বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী পুরোপুরি হারানো আমাদের কার্যক্রমের জন্য বড় ধাক্কা। এতে বিশেষ করে শিশু ও নারীদের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজার পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের খাদ্যসংকটের পর শিশু ও নারীদের এখনো জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।”
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ডা. মুনির আল-বুরশ মঙ্গলবার অক্সিজেন সরবরাহের সংকট নিয়ে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “মৌলিক জীবনধারণের প্রয়োজনীয় উপকরণের সম্পূর্ণ বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “গাজায় প্রায় ৩৪টি অক্সিজেন স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১২টি চালু রয়েছে। আরও কোনো স্টেশন বিকল হলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।”
আল-বুরশ বলেন, “অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে এসব মানুষ মারা যাবে। আমরা এমন পরিস্থিতিতে যেতে চাই না, যেখানে একজন চিকিৎসককে দুজন রোগীর মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—কে অক্সিজেন পাবে আর কে পাবে না।”
উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগের মধ্যেই ইজরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইজরায়েলকে গাজায় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
১৭ আগস্ট ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ইজরায়েলের গাজায় হামলা করা উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনার শর্ত অনুযায়ী হামাস অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছে।” সূত্র: আল জাজিরা























