ইতালিতে অনন্য সততা দেখিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশি তরুণ

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

ইতালির রোমে রাস্তায় দুই হাজার ইউরোসহ একটি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পেয়ে তা ফেরত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যমে বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশি তরুণ মুসান রাসেল।

ছবিসহ রাসেলের সাক্ষাৎকার ছেপেছে ইতালির লা রিপাবলিকা পত্রিকা। সেখানে তিনি পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন।

বাংলাদেশ থেকে সাত বছর আগে রোমে আসেন রাসেল। রোমের রাস্তায় তিনি একটি লেদার সামগ্রীর স্টল চালান। শুক্রবার রাস্তায় একটি মানিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে সেটা হাতে নিয়ে দেখেন, ভেতরে অনেক নোট, ক্রেডিট কার্ড ও অন্যান্য মূল্যবান কাগজপত্র রয়েছে।

কিছুই না ভেবেই তিনি এটা নিয়ে চলে যান কাছাকাছি পুলিশ স্টেশনে। রাসেল ভালো ইতালিয়ান বলতে পারেন না। কিন্তু তিনি তার বক্তব্য পুলিশকে বোঝাতে পারলেন এবং মানিব্যাগ জমা দিলেন।

মানিব্যাগে একতাড়া নোট দেখে পুলিশ অবাক হলো। পুলিশ তাকে ধন্যবাদ জানালে রাসেল বলেন, এটি আমার কর্তব্য। আমি আমার কাজ করেছি। এটির মালিক আমি না, ঘটনাচক্রে খুঁজে পেয়েছি মাত্র।

পুলিশ স্টেপশনেই রাসেল প্রথম জানতে পারেন, ভেতরে দুই হাজার ইউরো ছিল। পুলিশ সেটার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং ফেরত দেয়। রাসেলের সততায় মুগ্ধ হয়ে মালিক তাকে পুরস্কার দিতে চাইলে রাসেল সবিনয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর কাজে ফিরে যান।

কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি পুলিশের ফোন পান। পুলিশ জানায়, ম্যানিব্যাগটির মালিক একজন ব্যবসায়ী। তিনি রাসেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। প্রথমে রাসেল যেতে চায়নি। কারণ সবাই তার দিকে মনোযোগ দিক, সেটি তিনি চাননি। তবে শেষপর্যন্ত তিনি গেলেন।

মালিক ভদ্রলোক রাসেলের দেখা পেয়ে খুবিই খুশি হলেন। ধন্যবাদ জানাতে লাগলেন। রাসেলের মনের ইচ্ছেমতো তিনি তাকে একটা পুরস্কার দিতে চান। কিন্তু রাসেল তা প্রত্যাখ্যান করে।

এই ঘটনার পরপরই রাসেলকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় ইতালির গণমাধ্যমে। লা রিপাবলিকা পত্রিকাকে রাসেল জানান, মানিব্যাগের ভেতরটা দেখে তার মনে হয়েছিল, যিনি এগুলো হারিয়েছেন তিনি নিশ্চয় খুবই সমস্যায় আছেন। এতে ছিল কয়েকটি ক্রেডিট কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ কিছু কাগজপত্র। টাকা তো ছিলই। তবে কত টাকা, তা তিনি বলতে পারেননি। কারণ তিনি সেগুলো গুণে দেখেননি।

রাসেল জানান, প্রথম জীবনে তাকে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে। দিনরাত খাটতে হয়েছে। দু’বছর ধরে তিনি লেদার স্টলটি চালান। সূত্র: বিবিসি

ধারাবাহিক