ইমরান মাঝি
ইমরান মাঝির ৬ পুথি
প্রকাশিত : এপ্রিল ১১, ২০২০
মহামারি ১
করোনা ভাইরাসে যদি অনেক মানুষ মরে
আমি খাবার পৌঁছে দেব প্রতি ঘরে ঘরে।
যদি বেঁচে থাকি
যদি বেঁচে থাকি হয়ে পাখি গিয়ে বাড়ি বাড়ি
জীবিতদের বলবো এত ফালতু মহামারি।
তোমরা ফূর্তি করো
তোমরা ফূর্তি করো ফূর্তি করো না করিও ভয়
কিছু একটা প্রতিষেধক আসিবে নিশ্চয়।
রেখো সতর্কতা
রেখো সতর্কতা এই বারতা পৌঁছে দিও ঘরে
ভরসা রাখিও বন্ধু একে অন্যের পরে।
দুর্যোগ আসতেই পারে
দুর্যোগ আসতেই পারে যে প্রকারে আসে কোনো ঝড়
সব কিছু সুন্দরই হবে দেখো অতঃপর
মানুষ তুলবে মাথা
মানুষ তুলবে মাথা ঝড়াপতা নয়কো মানব জাতি
ভাইরাস যদি হায়না হয় তো মানুষ নিশ্চয় হাতি।
চলবে মোকাবেলা
চলবে মোকাবেলা অবহেলা নহে যাবে করা
কিছু একটা সমাধান তো করবে মানুষেরা।
শেষে হবে সুন্দর
শেষে হবে সুন্দর মানব অন্তর পাবে সমাধান
মানব শ্রেষ্ঠ মানব সেরা মানব সুমহান
বন্ধু ভর্সা রেখো।
মহামারি ২
হায়রে মহামারি
হায়রে মহামারি বাড়ি বাড়ি যদি চলে আসে
আমি একা সাহায্যেতে থাকবো সবার পাশে।
যদি বেঁচে থাকি
যদি বেঁচে থাকি আশা রাখি মাটি দেব লাশ
জীবিতদের জন্য আমি করবো ফসল চাষ।
যদি বেঁচে যাই খাই না খাই চলবে গবেষণা
মানবতার পক্ষে আমার এই রইলো ঘোষণা।
তোমরা চিন্তা করো
তোমরা চিন্তা করো ধৈর্য ধরো উপায় নিশ্চয় আছে
অসম্ভব কিছুই নয় তো মানব জাতির কাছে।
মানুষ পেরে যাবে
মানুষ পেরে যাবে ঠিক যেভাবে কত দুরস্থা
মোকাবেলা করে মানুষ পেল নতুন রাস্তা।
মানুষ মহিয়ান
মানুষ মহিয়ান সুমহান মানুষ চিরন্তন
মানুষকে আটকিয়ে রাখে নেই কিছু এমন
বন্ধু আস্থা রেখো।
সর্বনাশের বাগান
সর্বনাশের শেষ যে কোথায় দেখতে না পাই মোটে
তবুও ফুল ফোটে।
মনের ভেতর বাগান জুড়ে হাজার হাজার পাখি
আমি এখন বনে থাকি,
বন্যমহিষ ছাড়া
আমার খবর আর জানে এই মুরংপাড়া
আর জানে এই ঝর্ণাধারা,
কলোকলো জল
সর্বনাশের বাগার জুড়ে বন্যহাতির দল,
নেমে আসে
চারিপাশে গহীন জঙ্গল
আমার খবর আর জানে এই বাতাস নির্মল
আর জানে এই চাষি
সর্বনাশের বাগান জুড়ে বেজে ওঠে বাঁশি।
আমি একটা গাধা
আমি একটা গাধা
সিংহ যেমন ঘাসে বাঁধা
খাচ্ছে এখন ঘাস
একি সর্বনাশ হইল আমার
ছেঁড়াজামার বুতামটাও ছেঁড়া
আমি যেন ভেড়া
যেমনে বলে তেমনে হাঁটি
ক্ষেম্তাবানের পাছা চাটি
লাত্থি দিলেই খুশি
বিনিময়ে জোটে ভূষি
এই হলো উল্লাস
সিংহ এখন গরু হয়ে খাচ্ছে মাঠে ঘাস
গলায় দড়ি বাঁধা
আমি একটা গাধা
বন্দনা
পূবেতে বন্দনা করি সূর্য ওঠে লাল
তারপরে বন্দনা করি শীতের সকাল ৷
চারিদিকে ধোঁয়া ধোঁয়া ফোঁটা ফোঁটা জল
ভালো এই নাড়াকুটা ভালো যে সকল ৷
তারপরে বন্দনা করি কন্যা তোমার চুল
তারপরে বন্দনা করি গাছে গাছে ফুল ৷
তারপরে বন্দনা করি গাছে রসের হাঁড়ি
লতাপাতায় ঘেরা থাকে কৃষকের বাড়ি ৷
তারপরে বন্দনা করি ওরে আমার মন
তারপরে বন্দনা করি কালো সুন্দরবন ৷
এইখানে বন্দনা কথা করে দিলাম ইতি
যেই কন্যার কথা কইবো ভরসা জ্ঞান স্মৃতি ৷
ফাল্গুনী রাত
এই ফাল্গুনে। আয়োডিন ছাড়া নুনে, খেয়ে যায় ভাত। ফাল্গুনী রাত। বেয়াকুব চাঁদ এক উঠে আছে সাদা। শয়তান গাধা, কুকুরটা বলে যায় ঘেউঘেউ করে। রাত্রিদুপুরে। ডাহুকটা ডেকে যায় কড় কড় কড়। পাতিলার চর। শিয়ালেরা ডেকে উঠে কয় বজ্জাত। এই হলো কৃষকের ফাল্গুনী রাত।























