ইরানে স্থল অভিযানে নেতানিহুর গুরুত্বারোপ
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : মার্চ ২০, ২০২৬
ইরানে স্থল অভিযানের ওপর গুরত্বারোপ করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিবৃতিতে তিনি এ বিষয়টি উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, “যুদ্ধের ময়দানে চূড়ান্ত বিজয় এবং কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে বিমান হামলা সহায়ক ভূমিকা পালন করলেও তা যথেষ্ট নয়। একটি শক্তিশালী স্থল অভিযানের মাধ্যমেই প্রতিপক্ষের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে হলে স্থলবাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপ অপরিহার্য।”
যুদ্ধ পরিস্থিতি যখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে, তখন নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার নতুন সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন মার্কিন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় কোনো স্থল যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত।
ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই রণকৌশলগত মতপার্থক্য এখন ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিমান হামলা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে চাইছে, সেখানে নেতানিয়াহু সরাসরি স্থল যুদ্ধের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইজরায়েলি নেতৃত্বের এই কঠোর অবস্থান ওয়াশিংটনের সাথে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুদ্ধের সম্মানজনক প্রস্থান পথ খুঁজছেন, তখন নেতানিয়াহুর স্থল অভিযানের প্রস্তাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সামগ্রিকভাবে, নেতানিয়াহুর এই নতুন যুদ্ধকৌশল মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একটি স্থল অভিযান শুরু হলে তা কেবল ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো অঞ্চলকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের কবলে ফেলে দিতে পারে।
বর্তমানে ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই সম্ভাব্য স্থল অভিযানের রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান























